১৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ভবনটি খালি পড়ে আছে, নথি গায়েব – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাসোমবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ভবনটি খালি পড়ে আছে, নথি গায়েব

সম্পাদক
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ ৯:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবুর রহমান  বলেন, ‘২০১৭ সালে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর টাওয়ার ভবনের খবর নিয়ে জানতে পারি কোনো ফাইল নেই। সব গায়েব হয়ে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে ভবনের নকশা দেখতে চাই। তারা নকশাও দেখাতে পারেনি।’ তিনি বলেন, পরে ভবনের একটি নকশা করা হয়েছে। কিন্তু এখন মন্ত্রণালয় বলছে রাজউকের অনুমোদন নেই ভবনটির।

মাহবুবুর রহমান প্রশ্ন করেন, অনুমোদন ছাড়া প্রশাসনের সামনে কীভাবে ২০ তলা একটি ভবন হয়ে গেল?

উল্লেখ্য, ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ছিলেন সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা।

কেউ যদি অনিয়ম ও অনৈতিকভাবে ভবন নির্মাণ করে থাকে, অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।

তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

নির্মাণ শুরু ২০১১ সালে

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ঢাকা টাওয়ার ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। পাঁচ বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে এসে বিল আটকে দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মূলত তখনই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তত দিনে প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল।

এই প্রতিবেদক ৩ সেপ্টেম্বর ভবনটির অবস্থা দেখতে যান। তখন ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতে গেলে বাধা দেন নিরাপত্তাকর্মীরা। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছেন চারজন। তাঁদের একজন মুকুল মিয়া। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের অনুমোদন ছাড়া ভেতরে ঢোকা যাবে না।

ভেতরে ঢুকতে না পেরে ভবনের চারপাশ ঘুরে দেখা গেল, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বিভিন্ন জায়গায় শেওলা জমেছে। অযত্ন-অবহেলায় ভবনটি নষ্ট হচ্ছে।

ভবনটি নির্মাণে অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না এবং রাজধানীর বুকে এত বড় একটি ভবন কীভাবে অনুমোদন ছাড়া নির্মিত হলো জানতে রাজউকের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ দপ্তরে তিনি নতুন এসেছেন। বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

নির্মাণকাজ বন্ধের কারণ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ৫০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ের কোনো প্রকল্প নিলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সম্মতি নিতে হয়। সেটি করা হয়নি। পুরান ঢাকায় ২০ তলা উচ্চতার ভবন নির্মাণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। এসব কারণে প্রকল্পের বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিসের ভিত্তিতে প্রকল্পের ব্যয় ১৬৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা–ও অজানা।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম  বলেন, কেউ যদি অনিয়ম ও অনৈতিকভাবে ভবন নির্মাণ করে থাকে, অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।

ঢাকা জেলা পরিষদের ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের একটি বড় দৃষ্টান্ত। এটি দায়িত্বহীনতা ও জনগণের সম্পদ যে মূল্যবান, সে বিষয়ে সংবেদনশীলতা না থাকার উদাহরণ।

ইফতেখারুজ্জামান, দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক

টাকা জমা দিয়ে তাঁরা বিপাকে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০ তলা ভবনের মধ্যে একটি তলা ঢাকা জেলা পরিষদের ব্যবহারের জন্য থাকার কথা ছিল। বাকি জায়গা দোকান, কমিউনিটি সেন্টার, আইনজীবীদের বসার জায়গাসহ নানা কাজে ব্যবহারের কথা। এর মধ্যে জেলা পরিষদ ভবনটিতে দোকানভাড়া দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা সালামি হিসেবে নিয়েছে।

যেসব ব্যবসায়ী দোকান বরাদ্দের জন্য টাকা দিয়েছেন, তাঁরাও বিপাকে পড়েছেন। কারণ, বিপুল অঙ্কের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কবে নাগাদ ভবনটি চালু হবে, তার ঠিক নেই।

ভবনটি নির্মাণের ঠিকাদার তমা কনস্ট্রাকশন। সূত্র জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কাজের বিল হিসেবে প্রায় ৬০ কোটি টাকা পেয়েছে। আরও ৬৫ কোটি টাকার মতো পাওনা রয়েছে।

নথি গায়েব করল কারা

জেলা পরিষদের কাছ থেকে টাওয়ার ভবনসংক্রান্ত সব নথি গায়েব হওয়ার পর নতুন করে নথিপত্র তৈরি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, নথি গায়েবের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদের একটি চক্র জড়িত। ২০১০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দুই দপ্তরে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা সবাই ঘটনা জানেন।

ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মামুনুর রশীদ নথি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অবশ্য এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি, কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেনি।

ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, মামলা সুরাহা একটি লম্বা প্রক্রিয়া। তাই তাঁরা মামলায় যাননি। তিনি বলেন, যেটা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন রাজউকের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে নকশা চূড়ান্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চাইলে প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দিতে পারে। কিন্তু তারা দিচ্ছে না।

‘এটা অপচয়ের উদাহরণ’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে যেনতেনভাবে প্রকল্প নেওয়া ও তা বাস্তবায়নের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর কারণ, প্রকল্প নিলেই ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। পরে দেখা যায়, প্রকল্পটি মানুষের উপকারে আসছে না।

দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢাকা জেলা পরিষদের ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের একটি বড় দৃষ্টান্ত। এটি দায়িত্বহীনতা ও জনগণের সম্পদ যে মূল্যবান, সে বিষয়ে সংবেদনশীলতা না থাকার উদাহরণ। তিনি বলেন, এই ভবন নির্মাণের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, যাঁরা সমস্যাটির সমাধান না করে ভবনটি ফেলে রেখেছেন, তাঁদের সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ভবনের নথি গায়েবের বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নথি গায়েব হয়েছে মানে এখানে বড় ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। যা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নথি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।