মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পার‌বে বাড়‌বে বি‌নি‌য়োগ – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাসোমবার , ৪ ডিসেম্বর ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পার‌বে বাড়‌বে বি‌নি‌য়োগ

সম্পাদক
ডিসেম্বর ৪, ২০২৩ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডিএস মাহফুজা হো‌সেন মিতা ::

অর্থনীতির জন্য মেধাস্বত্ব অধিকার (আইপিআর) সুরক্ষা ও এ-সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং রফতানি বাজার সম্প্রসারণের ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টিতে এটি ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বিশ্বের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব আইনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু এখন বিদেশী বিনিয়োগের গঙঙ্ন্তরব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তাই দেশে মেধাস্বত্ব আইনের পরিপালনে আরো জোর দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া রফতানির ক্ষেত্রেও মেধাস্বত্ব আইন প্রতিপালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ঘটাতে যাচ্ছে। এজন্য আইপিআর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তাছাড়া আইপিআর বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের কর্মপরিকল্পনা শুরু করা হয়েছে। এখন এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ না থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। যেমন প্রতিবেশী দেশ ভারতে অনেক নকল ওষুধের কারখানা আছে। সেখানে নানা ধরনের নকল ওষুধ তৈরি করা হয়। কিন্তু তারা নকল ওষুধ তৈরি করে সেগুলো উৎপাদনের ঠিকানায় বাংলাদেশের নাম লিখে দেয়। মূলত বাংলাদেশের মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে ভারতের নকলবাজরা, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।

দেশে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে অনেক সময় একই ব্র্যান্ডের নকল পোশাক তৈরি করে রফতানি করা হয়। পরে আমদানিকারক দেশ থেকে বলা হয় বাংলাদেশে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের নকল পোশাক তৈরি হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশেই যদি ওই পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যে ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করছে, তার বিপরীতে নিবন্ধন নেয়, তাহলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যাবে। বিদেশী ক্রেতা তখন জানতে পারবে কোন ব্র্যান্ডের পোশাক বাংলাদেশে কারা তৈরি করে।

নকল পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেন ব্যক্তিগতভাবে ভোক্তা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য বিপজ্জনক। এসব পণ্য বিক্রির মুনাফা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কাছে চলে যায় এবং পণ্যগুলো ‍সুনাম বিনষ্টের মাধ্যমে অর্থনীতির ক্ষতি করে। এজন্য আইপিআরের সঠিক বাস্তবায়ন না হলে বিদেশীরা বিনিয়োগে উৎসাহ পান না। আইপিআর সংরক্ষিত হলে উদ্ভাবন বাড়ে। আর উদ্ভাবন বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়ে। তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য মেধাস্বত্ব অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান আইপিআর বাস্তবায়ন করেছে তারা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি উৎপাদন পাচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থানে মেধাস্বত্বনির্ভর শিল্পের অবদান প্রায় ২৮ শতাংশই। আর দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৩৮ শতাংশের বেশি মেধাস্বত্বনির্ভর শিল্প খাত থেকে আসে। আবার মেধাস্বত্ব চুরির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২২৫ থেকে ৬০০ বিলিয়ন বা ২২ হাজার ৫০০ থেকে ৬০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়। এ থেকে বোঝা যায়, মেধাস্বত্ব আইন অর্থনীতিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব প্রতিষ্ঠান আইপিআর বাস্তবায়ন করে, তারা উৎপাদন ও রফতানিতে বেশি সুবিধা পায়। ক্রেতারা পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আইপি বাস্তবায়ন করে কিনা তা যাচাই করে। তাই মেধাস্বত্ব আইনের পাশাপাশি এর বাস্তবায়নও প্রয়োজন।

দেশে মেধাস্বত্ব বিষয়ে নীতি প্রণয়ন হয়েছে, ইনস্টিটিউট হচ্ছে। কিন্তু মেধাস্বত্বের নকল প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা আদালতের বড় দায়িত্ব রয়েছে। এছাড়া নকল প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা আরো বাড়ানো দরকার বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এক্ষেত্রে দুই মাস আগে নতুন যে কপিরাইট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেটিতে অনেক কিছুরই ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মূল্যায়ন এসেছে। আবার অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এমনটিও দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মূলত উন্নত রাষ্ট্রগুলো মেধাস্বত্বকে গুরুত্ব দিয়েই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্বের অগ্রযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলে বাংলাদেশকেও সেদিকে ধাবিত হতে হবে। বস্তুত মেধাস্বত্বের ক্ষেত্রে নকল পণ্যের বাজার রোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো নকল পণ্য বাজারজাত মানে একটি আসল পণ্যের বাজার হারানো। নকল পণ্যের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য নকল পণ্য ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। নকল পণ্য শুধু ব্যবসার জন্য নয়, মানুষের জীবনমানের জন্যও হুমকি হতে পারে।

মেধাস্বত্ব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে যেমন উৎসাহিত করে, তেমনি ভোক্তার অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদকদের বাজার প্রতিযোগিতাও নিশ্চিত করে। পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণেও আইপিআরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করা হলে তা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সুরক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়। সরকার আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাস্তবতা বিবেচনায় সম্প্রতি পেটেন্ট আইন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন আইন ও কপিরাইট আইন করেছে। সংশোধিত এসব আইনে মেধাস্বত্বের বিষয়ে বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আমরা প্রত্যাশা করব, মেধাস্বত্বের ক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর ন্যায় বাংলাদেশ সঠিক ভূমিকা পালন করবে। এক্ষেত্রে যেসব করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়ন কাম্য।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।