স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটার সমর্থনের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে রিট – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকামঙ্গলবার , ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটার সমর্থনের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে রিট

সম্পাদক
ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ ৯:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ::

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা দাখিলের বিধান স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউসুফ আলী। বিচারপতি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামীকাল বুধবার রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী এই আইনজীবী।

আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসিকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে জানিয়ে ইউসুফ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা দাখিল সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এর ১২ ধারায় (৩ক)(ক) দফাটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিটে।

এই দফাটি সংবিধানের সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।”গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এর ১২ ধারায় (৩ক) (ক) দফায় বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।রিট আবেদনে বলা হয়েছে, আরপিও’র এই বিধান সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে ব্যক্তির চিন্তা-বিবেক ও বাক স্বাধীনতার অধিকারকে খর্ব করছে। কারণ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন আর গোপন থাকছে না।

স্বাক্ষর করা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের নাম ঠিকানা যাচাইয়ের কারণে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, প্রতিদ্বন্দ্বী বা বিরোদীপক্ষের কাছে প্রকাশ পাচ্ছে। এর ফলে সমর্থন দেওয়া ব্যক্তি বা ভোটারের গোপণীয়তা লঙ্ঘন হচ্ছে এবং তাদের জীবন হুমকীতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।রিটে আরো বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপির মত মূল ধারার রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, সে সব প্রর্থীর জনপ্রিয়তা নিবন্ধন পাওয়া কথিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন -বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি -বিএসপি ও বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির প্রার্থীদের থেকে অনেক বেশি। কিন্তু আরপিও’র ওই বাধ্যতামূলক বিধানের কারণে তাদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হচ্ছে, যা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি অসম আচরণ।
এই বিধান সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী’ হওয়ার বিধানকে লঙ্ঘন করছে।রিটে বলা হয়েছে, গণতন্ত্র হচ্ছে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। সংবিধানের ৭ (খ) অনুচ্ছেদ অনুসারে মৌলিক কাঠামো সংশোধনযোগ্য নয়। ফলে গণতন্ত্রের কোনো অসামঞ্জস্য প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা গণতন্ত্রের মৌলিক চরিত্র।
ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত প্রকাশ্য সমর্থন দাখিলের প্রক্রিয়া প্রচলিত গণতন্ত্রের চরিত্র হতে পারে না। এ ছাড়া এ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে আরপিও’র এ বিধান স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি তা কেন সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং ২৭, ৩১, ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রিটে রুল চাওয়া হয়েছে।আদালত রিট আবেদনটির প্রাথমিক শুনানির পর এই রুল জারি করলে, সে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর‌্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আরপিও’র এই বিধান স্থগিত রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার -সিইসি’র প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে মোট ৭৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাছাইয়ে সারা দেশে যত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হিসাবে, এবার সারা দেশে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৭১৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত ১ ডিসেম্বর থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ শুরু করেন। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হয়। পরে ইসি থেকে জানানো হয়, মনোনয়ন বাছাইয়ের পর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮৫ জন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।