” দার্শনিক, গণিতবিদ ও কবি ওমর খৈয়াম “ – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকামঙ্গলবার , ৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

” দার্শনিক, গণিতবিদ ও কবি ওমর খৈয়াম “

সম্পাদক
ডিসেম্বর ৫, ২০২৩ ১০:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হারুন অর রশীদ ::

‘রুটি-মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত যৌবনা, যদি তেমন বই হয়।’

ওমর খৈয়াম, একইসাথে একজন দার্শনিক, কবি, গণিতজ্ঞ এবং জ্যোতির্বিদ। রসকষহীন গণিত নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। আবার তিনিই লিখেছেন মধুর সব কবিতা। কখনো বর্ষপঞ্জিকা নিয়েও কাজ করেছেন। আবার কখনো চতুষ্পদী কবিতার অমর সংকলন ‘রুবাইয়াত’ রচনা করেছেন।

ওমর হাতের কাছে যে বই পেতেন, নাওয়া-খাওয়া ভুলে সেটাই তুলে নিয়ে পড়া শুরু করতেন। কখনো কখনো গাছে নিচে বসে বই পড়তে পড়তে সেখানেই ঘুমিয়ে যেতেন। এমনকি নীরবে নিভৃতে বই পড়তে পাহাড়ে বা জঙ্গলে চলে যেতেন। মূলত তিনি ছিলেন একজন জ্ঞানপিপাসু মানুষ। বই পড়ে সেই পিপাসা মিটাতে চেষ্টা করতেন।

আধুনিক বীজগণিতের ভিত্তি তৈরি হয়েছে তার হাতে, কাজ করেছেন ইউক্লিডীয় জ্যামিতি নিয়েও। ভূগোল, বলবিদ্যা, খনিজবিজ্ঞান, আইন, এমনকি সঙ্গীতও বাদ যায়নি তার জ্ঞানপিপাসার তালিকা থেকে। জীবনের শেষ দিকে এসে হয়েছেন শিক্ষক; শিক্ষাদান করেছেন ইবনে সিনার দর্শন ও গণিত বিষয়ে। তিনি সত্যি অসাধারণ, অতুলনীয়, অনুপম; তিনি ওমর খৈয়াম।

ওমর খৈয়াম ১০৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৮ মে পারস্যের বিখ্যাত বাণিজ্যিক শহর নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

ওমর খৈয়াম ভাগ্যবানই ছিলেন বলা চলে। কারণ তিনি ইসলামের এমন এক যুগে জন্মগ্রহণ করেন; সে যুগে ইসলাম ছিল অনেকটা গোঁড়ামিমুক্ত আর মানুষ ছিল বেশ মুক্তমনা ও জ্ঞানপিপাসু। ওমরের বাবা ইব্রাহিম একজন মুসলিম হয়েও ছেলের জন্য জরাথ্রুস্টর ধর্মে বিশ্বাসী এক শিক্ষক বামান্যর বিন মারযবানকে নিয়োগ দেন। এই বামান্যরই কিশোর ওমরকে গণিত, বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ে শিক্ষা দেন। ইবনে সিনার ছাত্র বামান্যরের কাছেই ওমর খৈয়াম ইবনে সিনার দর্শন শিক্ষা লাভ করেন।

ওমর খৈয়ামের শৈশবের কিছু সময় কেটেছে অধুনা আফগানিস্তানের বালক্ শহরে। সেখানে তিনি বিখ্যাত মনীষী মহাম্মদ মনসুরীর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে তিনি খোরাসানের অন্যতম সেরা শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত ইমাম মোয়াফ্ফেক নিশাপুরির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। জীবনের পুরো সময় জুড়ে ওমর তার সব কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করেছেন। দিনের বেলায় জ্যামিতি ও বীজগণিত পড়ানো, সন্ধ্যায় মালিক শাহের দরবারে পরামর্শ প্রদান এবং রাতে জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চ্চার পাশাপাশি জালালি বর্ষপঞ্জি সংশোধন! সবটাতে তার নিষ্ঠার কোন কমতি ছিল না।

১০৬৮ খ্রীস্টাব্দে তিনি সমরখন্দে চলে আসেন। সেখানে তিনি তার বাবার বন্ধু ও সে শহরের গভর্নর আবু তাহিরের অধীনে কাজ শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই ওমরের অসাধারণ গাণিতিক জ্ঞান দেখে তাকে সরকারি অফিসে চাকরি দেন তাহির। এর কয়েক মাস পরই ওমর রাজার কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। এই সময়ে তিনি বীজগণিত চর্চা করতে থাকেন।

বীজগণিত দিয়েই নিজের গবেষণা জীবন শুরু করেন খৈয়াম। প্রথমেই তিনি অনুধাবন করেন, প্রচলিত গ্রীক পদ্ধতিতে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান সম্ভব নয়। তাই নতুন পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন ওমর। ১০৭০ খ্রীস্টাব্দে মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি এর সমাধান করে ফেলেন। সে বছর তিনি তার জীবনের অন্যতম সেরা কাজ, ‘ডেমনস্ট্রেশন অব প্রবলেমস অব অ্যালজেবরা অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বৃত্ত, প্যারাবোলার মতো কণিক ব্যবহার করা সহ ত্রিঘাত সমীকরণের একাধিক সমাধান পদ্ধতির উল্লেখ করেন। তবে তাঁর সমাধানে ঋণাত্মক সংখ্যা এবং ঋণাত্মক রুট উপেক্ষিত ছিল। কেননা ঋণাত্মক সংখ্যা তখনো ইসলামিক গণিতবিদগণের মাঝে প্রচলিত হয়নি।

তবে এই অসাধারণ কীর্তিতেও অতৃপ্ত ছিলেন ওমর। তিনি সবসময় চাইতেন, বীজগাণিতিক সমস্যার সমাধান বীজগাণিতিক কোনো সূত্র বা পদ্ধতি ব্যবহার করেই করতে। জ্যামিতিক পদ্ধতিতে ত্রিঘাত সমাধান করে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। আর এই অসন্তুষ্টি থেকেই রচনা করলেন ‘ট্রিটিজ অন ডেমনস্ট্রেশন অব প্রবলেমস অব অ্যালজেবরা অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’। এখানে তিনি সম্পূর্ণ বীজগাণিতিক উপায়ে ত্রিঘাত সমাধান করেন। আর তাঁর এই কাজই তখন তাকে প্রথম সারির গণিতবিদ হিসেবে খ্যাতি এনে দেয়।

ওমর খৈয়ামের মৃত্যুর প্রায় পাঁচশো বছর পর্যন্ত ত্রিঘাত সমীকরণের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ১৫৩৫ খ্রীস্টাব্দে নিকোলো টার্টাগিলা ত্রিঘাত সমীকরণ সমাধানের সাধারণ সূত্র তৈরি করলে বীজগণিত ওমর খৈয়াম যুগ থেকে এক কদম এগিয়ে যায় মাত্র!

১০৭৩ খ্রীস্টাব্দে ওমর খৈয়ামের জীবনের মোড় অন্যদিকে ঘুরে যায়। সেলজুক সাম্রাজ্যের সুলতান মালিক শাহ তাকে সেলজুকের রাজধানী ইস্ফাহানে আমন্ত্রণ জানান একটি অপরিবর্তনীয় এবং চিরস্থায়ী বর্ষপঞ্জিকা তৈরি করে দিতে। উল্লেখ্য, তখনকার সময়ে পঞ্জিকাগুলো স্থায়ী ছিল না এবং ঘন ঘন বছরের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করা হতো।

পর্যবেক্ষণে খৈয়াম ১০২৯.৯৮ দিনে ২.৮২ বছর হিসাব করলেন। সে হিসাবে এক বছরের দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৩৬৫.২৪২২ দিন। বর্তমানে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বছরের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করেছে ৩৬৫.২৪২১৮৯ দিন বা ৩৬৫.২৪২২ দিন! ঠিক ওমর খৈয়াম যা বহু বছর আগে হিসাব করেছিলেন, তা-ই। ওমর তার বর্ষপঞ্জির কাজ শেষ করেছিলেন ১০৭৮ সালে। পরের বছর থেকেই সুলতান মালিক শাহ নতুন বর্ষপঞ্জি হিসেবে ওমরের বর্ষপঞ্জি চালু করেন যা ২০ শতক পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

ওমর খৈয়াম এর ‘রুবাইয়াত’ পড়লে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। কিন্তু কেউ কেউ যে বলে থাকেন, রুবাইয়াতের একটি লাইনও ওমরের লেখা নয়। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদই ‘রুবাইয়াত’কে ওমরের কবিতা বলে উল্লেখ করেছেন। এটি একটি কবিতা নয়, শত শত কবিতার সংকলন।

১৮৫৯ খ্রীস্টাব্দে তাঁর কবিতার সংকলনের ইংরেজি অনুবাদ ‘রুবাইয়াত অব ওমর’ প্রকাশ করলে ওমরের কবি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং কবিতাগুলো পশ্চিমা বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। এমনকি তাঁর নিজ দেশের চেয়েও বেশি!

তাঁর একটি অসাধারণ কবিতার অনুবাদ থেকে-
গড়লে যখন আমায় তাতে,
হাত ছিল কি আমার কভু?
পরাও যা এই বেশভূষা নাথ
আমার সেকি ইচ্ছা প্রভু!

করাও যে সব মন্দ ভালো
দয়াল সে কি আমার কাজ!
মোর ললাটের লিখন,
সে তো তোমার হানা কঠিনবাজ!

ওমর খৈয়ামের জীবনের অনেক দিকই আমাদের অজানা। তাঁর অনেক কাজও দুর্ভাগ্যজনকভাবে হারিয়ে গিয়েছে কালের স্রোতে। ১১৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৪ ডিসেম্বর ওমর খৈয়াম তার জন্মস্থান নিশাপুরে মৃত্যুবরণ করেন। খ্যাতিমান এই দার্শনিক, গণিতবিদ ও কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা।

© সংগৃহীত

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।