মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের বউদি সুনন্দা ভট্রাচার্য‌ নেই – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাশুক্রবার , ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মু‌ক্তি‌যোদ্ধা‌দের বউদি সুনন্দা ভট্রাচার্য‌ নেই

সম্পাদক
ডিসেম্বর ২৯, ২০২৩ ৭:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হারুণ হা‌বিব ::

১৯৭১ এর প্রজন্ম একে একে ঝরে পড়ছে । ঠিক এমনই সময়ে আগরতলা থেকে একটি দু:সংবাদ এলো আজ। স্নেহভাজন লেখক-সাংবাদিক নন্দিতা দত্ত খবর দিলেন, সুনন্দা ভট্টাচার্য, যাঁর মেলার মাঠের বাড়িটি মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে আগরতলাকেন্দ্রিক কর্মকান্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রভূমি হয়ে ওঠেছিল, এবং যে নারী বিস্ময়কর ভাবে সকল মুক্তিযোদ্ধার ‘বৌদী’ হয়ে ওঠেছিলেন, তিনি মারা গেছেন ৮৫ বছর বয়সে। ১৯৭১ সালে ত্রিপুরা ছিল মুক্তিযুদ্ধের অলিখিত সমর রাজধানী, এবং মেলার মাঠের এই ভট্টাচার্য পরিবারটিও হয়ে ওঠে আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ অংশ ।

সুনন্দা ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের তখনকার স্বাস্থ্য পরিদর্শক, আগরতলায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সৃহৃদ খ্যাতিমান সাংবাদিক ও সম্পাদক অনিল ভট্টাচার্যের সহধর্মীনি। অনিল ভট্টাচার্য তখন কলকাতার যুগান্তর ও অমৃত বাজার পত্রিকায় কাজ করেন । সাপ্তাহিক সমাচার নামে একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেন – যা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জোড়ালো ভূমিকা রাখে। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এবং ত্রিপুরাতে আশ্রয় নেওয়া ছাত্রনেতা,সাংবাদিক,কবি, লেখক, শিল্পী বা সমাজকর্মি – এমন কেউই হয়তো ছিলেন না যাঁরা মেলার মাঠের বাড়িটায় যান নি, সুনন্দা বৌদীর আতিথেয়তা নেননি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে একজন ভারতীয় নারীর সেই অকুন্ঠ নীরব উপহারের মর্যাদা আমরা কি দিতে পেরেছি ? না, পারিনি। স্বাধীনতার পর বার কয়েক বৌদী ও অনিল দা ঢাকায় এসেছেন, দেখা হয়েছে, আমার মিরপুরের বাড়িতেও এসেছেন ।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ত্রিপুরাকে দগ্ধ করেছে সবচাইতে বেশি। ত্রিপুরার লোকসংখ্যা তখন ১৫ লক্ষ ছুঁই ছুঁই, সে সংখ্যা ছাপিয়ে ওঠে বাংলাদেশের ১৫ লক্ষ ছিন্নমূল মানুষ! স্কুল কলেজ, অফিস আদালত, ঘরবাড়ি ঠাঁসা আরেক দেশের মানুষে! এরই মধ্যে প্রতিনিয়ত পাকিস্তানি আক্রমন, বোমা হামলা ও গুপ্ত হামলা। এই দুর্দিনে দৈনিক শত মানুষ গেছে মেলার মাঠের বাড়িটায়,পাশের এমএল এ হষ্টলে। তাদের তদারকি, থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা, নানা ধরণের সাহায্য! সে এক বিরাট কর্মযজ্ঞ! একদিকে হাসপাতালের চাকুরি অন্যদিকে ঘর,দুটোই সামলেছেন সুনন্দা। টিন শেডের বাড়ি, ছোটবড় আটটি ঘর। রান্না ঘর ও ঠাকুর ঘর বাদে সব ঘরেই বাংলাদেশের মানুষ ।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন সুনন্দা ভট্টাচার্য । তাঁর কর্মস্থল ভি.এম. হাসপাতালে মাতৃ ও শিশু মঙ্গল কেন্দ্রে শরণার্থী মা ও শিশুরা ভির করেছেন। সেখানে গর্ভবতী মায়েদের পরীক্ষা করা হয়েছে। অগনিত ধর্ষিত নারীর চিকিৎসা করেছেন তিনি ।

অনেকদিন আগরতলা যাওয়া হয়নি। ১৯৭১ এর পর প্রথম গিয়েছিলাম ১৯৯০ সালে( থেকেছি ওই মেলার মাঠের বাড়িটায় পরম আতিথেয়তায় ), মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার গণমানুষের অবদান নিয়ে বই লিখবো বলে। তখন বাড়িটির একটি ছবি তোলেন ত্রিপুরার কৃতী সাংবাদিক জয়ন্ত ভট্টাচার্য, যা আমার ‘মুক্তিযুদ্ধ : ডেটলাইন আগরতলা’ গ্রন্থে ব্যবহার করা হয় । অনেক বছর পর মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় রাজ্যগুলির বিস্তারিত কর্মকান্ড গ্রন্থনা করতে আরও কয়েকবার যাই। ফলে প্রকাশ পায় ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত : তথ্য ও দলিল’ নামের তিন খন্ডের বৃহদাকার গ্রন্থটি, যেখানে ত্রিপুরা অংশের গবেষণার দায়িত্ব পালন করেন নন্দিতা দত্ত।এই সংক্ষিপ্ত লেখাটির মাধ্যমে আমি সুনন্দা বৌদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, তাঁর সন্তানদের সমবেদনা জানাই. হারুন হাবীব ২৯/১২/২৩

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।