পদ্মভুশ‌নে ভূ‌ষিত হ‌লেন উষা উথুপ – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকামঙ্গলবার , ৩০ জানুয়ারি ২০২৪
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পদ্মভুশ‌নে ভূ‌ষিত হ‌লেন উষা উথুপ

বার্তা কক্ষ
জানুয়ারি ৩০, ২০২৪ ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দিয়া বিশ্বাস ::

পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হলেন সঙ্গীতশিল্পী উষা উথুপ:
বোম্বে শহরের এক মধ্যবিত্ত মাদ্রাজি পরিবারে জন্ম। তাঁরা অনেক ভাই-বোন ছিলেন। বাড়িতে ছিল গান বাজনার চল। সকলেই গান গাইতেন।সেই দেখেই গানকে ভালোবেসে ফেলেন তিনি। স্কুলের শিক্ষিকারা বলতেন, ছোট থেকেই তাঁর গলা অন্য রকমের। সবার থেকে আলাদা। যা নাকি তাঁদের শুনতে ইচ্ছে করতো। স্কুলেও গান গাইতেন।

তবে শুরু থেকেই নাইট ক্লাবে গান গেয়েছেন। মাদ্রাজ, মুম্বই হয়ে কলকাতার প্রথম সারির নিশি ঠেকে। কলকাতায় যখন প্রথম রাতে গাইতে উঠেছি সবাই ভীষণ চমকে গিয়েছিলেন! শাড়ি পরা, মাথায় ফুল লাগানো এক মহিলা পপ গাইবেন ? তবে তাঁর গান শুনে কিন্তু হাততালির ঝড় বয়েছিল। জন্মভূমি মুম্বই হলেও, কলকাতা তাঁকে লালন করেছে।

তবে মজার কথা তিনি কোনোদিন গান শেখেননি। তাঁর কথায়, তিনি ঈশ্বরের আশীর্বাদে গান নিয়ে জন্মেছেন। ছোট থেকেই সকলে বলতেন তাঁর গলা অন্যরকম। তবে তিনি সেই গলা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেননি। তাঁর কথায় , “এই গলা নিয়েই সব ধরনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি শুরু থেকে। কারণ, কী ধারার গান গাইবো কিছুই ঠিক করিনি কোনও দিন। পরে গানের দুনিয়ার অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বলেছেন, আমার গলায় হিন্দি এবং ইংরেজি গান বেশি ভাল মানাবে কণ্ঠস্বরের কারণেই। আমি শুনিনি। কারণ, আমার স্বপ্ন দর্শকদের সামনে উপস্থিত থেকে গান শোনাবো। তাই ধীরে ধীরে আমার সীমাবদ্ধতাকে উন্নতির হাতিয়ার বানিয়েছি। কখনও কাউকে নকল করিনি। তাই হয়তো সবাই এতো ভালবাসে।”

একসময় কলকাতার নিশিঠেকে পুরুষদের আধিপত্য ছিল। তিনি আসার পরেই সেই ছবিটা বদলেছে। সেই সময়ের তরুণ প্রজন্ম তাঁর গান শুনতে ভালবাসতেন। পরিবেশও অন্য রকম ছিল। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে নারী-পুরুষ সবাই আসতেন তাঁর গান শুনতে। কেন ? ওই যে, শাড়ি পরা এক নারী পাশ্চাত্য গান গাইছেন! লোকের মুখে মুখে এই খবর ছড়াতেই সবাই নাকি বলতেন, ভারতীয় নারী সনাতনী পোশাকে পাশ্চাত্য গান গাইছেন! এঁকে দেখতেই হবে। এই কৌতূহলীদের তালিকায় শর্মিলা ঠাকুর, নবাব পতৌদি, কপিল দেব, সত্যজিৎ রায়, উত্তমকুমার, সুপ্রিয়া দেবী, জ্যোতি বসু, লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়— কে না ছিলেন ! কলকাতার ট্রিনকা বারে সংগীত পরিবেশনের সময় পরিচয় বর্তমান স্বামী জনি চাকো উথুপের সঙ্গে। সেই থেকেই বিবাহ সূত্রে কলকাতাতে বসবাস।

তাঁর কর্মভূমি থেকে দোসর হয়ে উঠেছে কলকাতা। সাজ-সজ্জায়, ভাবনায়, কথায়। কলকাতা তাঁকে দিয়েছে জনপ্রিয়তা, পরিচিতি , ভালবাসা। প্রায় পঞ্চাশ বছরের উপর গান গাইছেন তিনি। তবে জীবনে দেখেছেন বহু চড়াই উৎরাই। ১৯৬৯ কি ১৯৭০ সাল, বাঁ দিক পক্ষাঘাত হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় দীনেশ বাজাজকে পাশে পেয়েছিলেন। একসময় যতীন চক্রবর্তী তাঁকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। তবে এসব ভেবে বিতর্ক চান না।।তাঁর কথায় ,প্রতিভার জোরে, গান শুনিয়ে সবার হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

আদ্যন্ত বাঙালিয়ানার অভ্যস্থ এই নারীর সবসময় পরিধান শাড়ি , কপালে কলকাতার ” ক ” অক্ষর নামাঙ্কিত বিরাট টিপ। ২০১২ সালে সালে শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসাবে ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার। অভিনয় করেছেন হিন্দি এবং দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে। দেবানন্দ পরিচালিত “হরে রাম হরে কৃষ্ণ” ছবিতে ইংরাজি গান প্রথম ছায়াছবির গান। অসংখ্য জনপ্রিয় ইংরাজি এলবাম , অন্যান্য গানগুলি আজ ও সমান জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রেমীদের নিকট। সঙ্গীত জগতের দীর্ঘ যাত্রা পথে অসংখ্য মানুষের ভালবাসা এবং পুরস্কারে সম্মানিত ,এই গায়িকা আজও সমান সক্রিয় , যে কোনও সামাজিক ক্ষেত্রে।

পুরো নাম উষা বৈদ্যনাথ সোমেশ্বর স্বামী। তবে বাঙালির কাছে তিনি উষা উথুপ।

এই বছর পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হলেন সঙ্গীতশিল্পী উষা উথুপ।

আধুনিক সঙ্গীত জগতকে এক অন্যমাত্রাতে উত্তরণে সক্রিয় থেকে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের কলকাতা শহরকে সম্মানিত করবার জন্য উষা উথুপ-কে আমাদের কুর্নিশ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।