শাখা ক্যাম্পাস হচ্ছে স্বতন্ত্র স্কুল-কলেজ – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাসোমবার , ৪ মার্চ ২০২৪
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাখা ক্যাম্পাস হচ্ছে স্বতন্ত্র স্কুল-কলেজ

বার্তা কক্ষ
মার্চ ৪, ২০২৪ ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ভিকারুননিসা নূন, মনিপুর, আইডিয়ালসহ যাদের শাখা রয়েছে প্রতিটিতে থাকবে স্বতন্ত্র অধ্যক্ষ, ম্যানেজিং কমিটি

ভর্তি জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়ম রোধ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। রাজধানীর নামিদামি স্কুলের প্রতিটি শাখা আলাদাভাবে পরিচালিত হবে এবং অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটিও আলাদা করা হবে। স্কুলগুলোর প্রধান শাখা অন্য শাখাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শাখাসহ পাঁচটি শাখা রয়েছে, তবে এটি পরিচালনা করছেন একজন অধ্যক্ষ এবং একটি গভর্নিং বডি। তবে নতুন নিয়ম পাশের পর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঁচ জন অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক থাকবেন। এছাড়া পৃথক পাঁচটি গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি থাকবে। অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডি স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিটি স্কুলের জন্য পৃথক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো শাখার নামের সঙ্গে পূর্বের নাম ব্যবহার করতে পারবে। যেমন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়,  শেওড়াপাড়া; মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর; মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কাফরুল—এভাবে নাম ব্যবহার করা হবে।

ভিকারুন নিসা নূন স্কুলটির কার্যক্রম মূলত এর প্রধান শাখা বেইলি রোডে। তবে একই প্রশাসনের অধীনে আরও তিনটি শাখা গড়ে তোলা হয়েছে, যেগুলো রাজধানীর ধানমন্ডি, আজিমপুর ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। সর্বমোট চারটি শাখা মিলিয়ে ২৫ হাজারের অধিক ছাত্রী রয়েছে। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্কুলের মূল ক্যাম্পাসসহ চারটি শাখা চারটি স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চলবে।

১৯৬৫ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার মতিঝিলে একটি টিনশেড বেড়ার ঘরে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৬ সালে বনশ্রী আবাসিক প্রকল্প এলাকায় সেমিপাকা ভবনে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বনশ্রী শাখা আত্মপ্রকাশ করে| ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর তারিখে নবনির্মিত এই ভবনের উদ্বোধন করা হয়। ২০১১ সালের ২ মার্চ থেকে মুগদা শাখার পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্ষেত্রে তিনজন পৃথক অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক থাকবেন। থাকবে পৃথক ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, শুধু এই তিন প্রতিষ্ঠানই নয়। যেসব স্কুলের শাখা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম থাকবে।

তিনি বলেন, গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা সংশোধন করা হচ্ছে। অচিরেই এটি জারি করা হবে। নতুন প্রবিধানমালায় এই বিষয়গুলো যুক্ত করা হবে। প্রবিধানমালা জারি হওয়ার পর প্রতিটি স্কুলে চিঠি দিয়ে বিষয়টি শাখা ক্যাম্পাসগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা বোর্ডের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে সাউথ পয়েন্ট ও মাইলস্টোন কলেজে তাদের শাখাগুলোর জন্য পৃথক পৃথক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেওয়া হয়েছে। আরও যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এমন করা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুলের অনেকগুলো করে শাখা রয়েছে। এগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। এতসংখ্যক শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে, যা একজন অধ্যক্ষের পক্ষে সামলানো বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে শাখাগুলোকে পৃথক স্কুল হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে প্রতিটি স্কুলের অধ্যক্ষ থাকবেন। তাদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সহজ হবে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সভায় আলোচনা হয়েছে।

পৃথক ও স্বতন্ত্র ক্যাম্পাসের জন্য সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। তারা বলছেন, শাখা ক্যাম্পাসগুলো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পুরোপুরি ক্ষমতা না পেলে মানসম্মত শিক্ষা অসম্ভব। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও স্কুলগুলো ভালো ফল বয়ে আনতে পারবে।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক পরিষদের সভাপতি একলিমুর রেজা কোরাইশ বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ খুবই ভালো এবং প্রশংসনীয়। শিক্ষার মান বাড়াতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ সুজন বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক হবে।

আইডিয়াল স্কুল অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল হক দুলুও সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাখা ক্যাম্পাস খোলার কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। গভর্নিং বডিতে স্থান পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন প্রভাবশালীরা। কারণ বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলে আয়ও বেশি হয়। আর সুবিধাও বেশি নিতে পারেন গভর্নিং বডির সদস্যরা। ভর্তি বাণিজ্য থেকে শুরু করে অন্তত ১০ ধরনের বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন গভর্নিং বডির সদস্যরা। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সব ধরনের বাণিজ্য কমে যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।