টেকনাফের বদি হাতিয়ার মো. আলী সন্ত্রা‌সের গডফাদার – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাশুক্রবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

টেকনাফের বদি হাতিয়ার মো. আলী সন্ত্রা‌সের গডফাদার

সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২ ১০:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মা‌টি হো‌সেন, ফরহাদ মাহমুদ ও আ‌রিফ হো‌সেন ::

সমুদ্রঘেঁষা টেকনাফের নাম শুনেছেন, অথচ আবদুর রহমান বদির নাম শোনেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া ভার। মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানাভাবে বিতর্কিত বদি। দুদকের মামলায় হয়েছে সাজাও। বিএনপির রাজনীতি দিয়ে হাতেখড়ি হলেও বদি শেষে সংসদ সদস্য হয়েছেন নৌকা প্রতীকে।

ওদিকে নোয়াখালীর দ্বীপাঞ্চল হাতিয়ার সঙ্গে মোহাম্মদ আলীর নামটি জড়িয়ে আছে অবিচ্ছেদ্যভাবে। খুন, আধিপত্য বিস্তার, জলে-বনে দস্যুতার অভিযোগ আছে আলী ও তার অনুসারী-অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির দীক্ষা নেন; তারপর যুবদল, জাতীয় পার্টি ঘুরে এসে চড়েছেন নৌকায়। সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে।

টেকনাফের বদি আর হাতিয়ার মোহাম্মদ আলী— দুজনে দুই এলাকার বাসিন্দা হলেও কাজে তাদের খুব মিল। তার চেয়েও হুবহু মিল— দুজনের স্ত্রীই আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার। অন্যদিকে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) সংসদ আসন থেকে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে সাংসদ হয়েছেন মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বেগম আয়েশা ফেরদৌস। মূলত স্বামীর কোটাতে সাংসদ হয়েছেন দুজনই। তবে স্থানীয় পর্যায়ে পদ-ক্ষমতার প্রভাব রয়ে গেছে স্বামীদের হাতেই।

 

আবদুর রহমান বদিনামা

আবদুর রহমান বদির বাবা এজাহার মিয়া কোম্পানি ছিলেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আধিপত্য ছিল তার। স্থানীয়রা বলেন, বাবার প্রভাব-প্রতিপত্তির সূত্র ধরে বদিও হয়ে ওঠেন সীমান্তের ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। ১৯৮৮ সালে চোরাই পণ্যবাহী একটি ট্রাক উখিয়ার ঘাট কাস্টমস স্টেশনে আটক করা হলে কাস্টমস কর্মকর্তাকে মারধর করে অপহরণ করা হয়। বিডিআর অভিযান চালিয়ে টেকনাফ থেকে উদ্ধার করে ওই কাস্টমস কর্মকর্তাকে। ওই ঘটনায় জাতীয় পার্টির নেতা এজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। মামলাটি একসময় আদালতে ওঠে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মামলার প্রধান সাক্ষী বা ভিকটিমের অপমৃত্যু হয়। পরে বলা হয়েছে, ভিকটিম কাস্টমস কর্মকর্তা ঢাকার বাসার তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। ১৯৯২ সালে বদি ও তার বাবার বিরুদ্ধে কাস্টমস অফিস লুটের অভিযোগ উঠলেও ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা হয়নি।

এরশাদ সরকারের পতন হলে পিতা-পুত্র যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করেই বদিকে দেখা যায় জেলা বিএনপির রাজনীতিতে। উখিয়া-টেকনাফ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে চালাতে থাকেন প্রচারণা। বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন বদি ও তার বাবা। অভিযোগ রয়েছে, এমপি শাহজাহান চৌধুরী তাদের সহযোগিতা করতেন। ফলে বিএনপির সরকারের সময় তারা ছিলেন নিরাপদে।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনের আগে শাহজাহান চৌধুরীকে হটিয়ে বিএনপির মনোনয়ন পান আবদুর রহমান বদি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র নেতা (অব.) কর্নেল অলি আহমেদের হস্তক্ষেপে বদির মনোনয়ন বাতিল করে শাহজাহান চৌধুরীকে দেওয়া হয়। এ সময় ক্ষোভে-অপমানে বিএনপি ত্যাগ করে বদি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দলীয় মনোনয়ন বাগাতে জোর চেষ্টা চালান বদি। কিন্তু ব্যর্থ হন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টেকনাফ সদরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৮ সালের দিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সহায়তায় বদি সেই পৌরসভার প্রশাসক হন। সাংসদ পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ২০০২ সালে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েই নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। এর পর থেকেই হয়ে ওঠেন বেপরোয়া।

নানা অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে বদির বিরুদ্ধে। মাদক কারবারি, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ নানা অভিযোগে বিতর্কিত হন তিনি। টেকনাফ অঞ্চলে ইয়াবা কারবারি হিসেবে বদি এবং তার পরিবারের নাম উঠে আসে বিভিন্ন সময়ের একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। তারপরও নিজেকে নির্দোষ দাবি করা বদি থাকেন নির্বিকার। ক্ষমতায় একক নিয়ন্ত্রণও থাকে তার বহাল তবিয়তে।

২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে দুদকের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আবদুর রহমান বদিকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টের জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি।

২০১৫ সালে ফের আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাংসদ নির্বাচিত হন। কিন্তু বিতর্ক পিছু ছাড়ে না তার। বরং ইয়াবা কারবার, মানবপাচার, চোরাকারবারির তালিকায় বারবার নাম আসতে থাকে বদি ও তার পরিবারের সদস্যদের। ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর দুদকের মামলায় আবদুর রহমান বদির তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। কারাগারেও পাঠানো হয় তাকে। কিন্তু ১৮ দিনের মাথায় ২০ নভেম্বর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্ত হন তৎকালীন এই সাংসদ।

এত সবের পরও বদি তার স্বভাবমতোই কাণ্ড চালাতে থাকেন। রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাণ্ডেও তার জড়িত থাকার অভিযোগ আসে প্রকাশ্যে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন বদি। বিনিময়ে টেকনাফ-উখিয়া আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে। তবে এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখনো নিজের হাতেই রেখেছেন বদি- এই বার্তা একরকম প্রকাশ্যই।

 

মোহাম্মদ আলীনামা

ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতি করেছেন মোহাম্মদ আলী। পরে যোগ দেন যুবদলে। সেখান থেকে জাতীয় পার্টি। ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হন মোহাম্মদ আলী। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন, তবে হেরে যান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান। তবে ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। সেবার তার স্ত্রী বেগম আয়েশা ফেরদৌস স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং হেরে যান। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন আয়েশা। স্ত্রী সংসদ সদস্য হলেও হাতিয়ার আওয়ামী লীগ রাজনীতিসহ সর্বত্রই আছেন মোহাম্মদ আলী। হাতিয়া দ্বীপের তমরুদ্দিন ঘাট থেকে জাহাজমারা চর, আর নিঝুম দ্বীপের মৌলভীচর, কমলাদীঘি থেকে সূর্যমুখী পর্যন্ত অঢেল সম্পদ, প্রভাব আর প্রতিপত্তির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণও সাবেক এই সাংসদের হাতেই।

সমুদ্রঘেঁষা টেকনাফের নাম শুনেছেন, অথচ আবদুর রহমান বদির নাম শোনেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া ভার। মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানাভাবে বিতর্কিত বদি। দুদকের মামলায় হয়েছে সাজাও। বিএনপির রাজনীতি দিয়ে হাতেখড়ি হলেও বদি শেষে সংসদ সদস্য হয়েছেন নৌকা প্রতীকে।

ওদিকে নোয়াখালীর দ্বীপাঞ্চল হাতিয়ার সঙ্গে মোহাম্মদ আলীর নামটি জড়িয়ে আছে অবিচ্ছেদ্যভাবে। খুন, আধিপত্য বিস্তার, জলে-বনে দস্যুতার অভিযোগ আছে আলী ও তার অনুসারী-অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির দীক্ষা নেন; তারপর যুবদল, জাতীয় পার্টি ঘুরে এসে চড়েছেন নৌকায়। সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মননয়‌নে।

টেকনাফের বদি আর হাতিয়ার মোহাম্মদ আলী— দুজনে দুই এলাকার বাসিন্দা হলেও কাজে তাদের খুব মিল। তার চেয়েও হুবহু মিল— দুজনের স্ত্রীই আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন বদির স্ত্রী শাহীন আক্তার। অন্যদিকে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) সংসদ আসন থেকে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে সাংসদ হয়েছেন মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী বেগম আয়েশা ফেরদৌস। মূলত স্বামীর কোটাতে সাংসদ হয়েছেন দুজনই। তবে স্থানীয় পর্যায়ে পদ-ক্ষমতার প্রভাব রয়ে গেছে স্বামীদের হাতেই।

 

আবদুর রহমান বদিনামা

আবদুর রহমান বদির বাবা এজাহার মিয়া কোম্পানি ছিলেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আধিপত্য ছিল তার। স্থানীয়রা বলেন, বাবার প্রভাব-প্রতিপত্তির সূত্র ধরে বদিও হয়ে ওঠেন সীমান্তের ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। ১৯৮৮ সালে চোরাই পণ্যবাহী একটি ট্রাক উখিয়ার ঘাট কাস্টমস স্টেশনে আটক করা হলে কাস্টমস কর্মকর্তাকে মারধর করে অপহরণ করা হয়। বিডিআর অভিযান চালিয়ে টেকনাফ থেকে উদ্ধার করে ওই কাস্টমস কর্মকর্তাকে। ওই ঘটনায় জাতীয় পার্টির নেতা এজাহার মিয়ার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। মামলাটি একসময় আদালতে ওঠে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মামলার প্রধান সাক্ষী বা ভিকটিমের অপমৃত্যু হয়। পরে বলা হয়েছে, ভিকটিম কাস্টমস কর্মকর্তা ঢাকার বাসার তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। ১৯৯২ সালে বদি ও তার বাবার বিরুদ্ধে কাস্টমস অফিস লুটের অভিযোগ উঠলেও ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা হয়নি।

এরশাদ সরকারের পতন হলে পিতা-পুত্র যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করেই বদিকে দেখা যায় জেলা বিএনপির রাজনীতিতে। উখিয়া-টেকনাফ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে চালাতে থাকেন প্রচারণা। বিএনপির তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন বদি ও তার বাবা। অভিযোগ রয়েছে, এমপি শাহজাহান চৌধুরী তাদের সহযোগিতা করতেন। ফলে বিএনপির সরকারের সময় তারা ছিলেন নিরাপদে।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনের আগে শাহজাহান চৌধুরীকে হটিয়ে বিএনপির মনোনয়ন পান আবদুর রহমান বদি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র নেতা (অব.) কর্নেল অলি আহমেদের হস্তক্ষেপে বদির মনোনয়ন বাতিল করে শাহজাহান চৌধুরীকে দেওয়া হয়। এ সময় ক্ষোভে-অপমানে বিএনপি ত্যাগ করে বদি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। দলীয় মনোনয়ন বাগাতে জোর চেষ্টা চালান বদি। কিন্তু ব্যর্থ হন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টেকনাফ সদরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৮ সালের দিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সহায়তায় বদি সেই পৌরসভার প্রশাসক হন। সাংসদ পদে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ২০০২ সালে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েই নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। এর পর থেকেই হয়ে ওঠেন বেপরোয়া।

নানা অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে বদির বিরুদ্ধে। মাদক কারবারি, খুন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ নানা অভিযোগে বিতর্কিত হন তিনি। টেকনাফ অঞ্চলে ইয়াবা কারবারি হিসেবে বদি এবং তার পরিবারের নাম উঠে আসে বিভিন্ন সময়ের একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। তারপরও নিজেকে নির্দোষ দাবি করা বদি থাকেন নির্বিকার। ক্ষমতায় একক নিয়ন্ত্রণও থাকে তার বহাল তবিয়তে।

২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে দুদকের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আবদুর রহমান বদিকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ৩০ অক্টোবর হাইকোর্টের জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি।

২০১৫ সালে ফের আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাংসদ নির্বাচিত হন। কিন্তু বিতর্ক পিছু ছাড়ে না তার। বরং ইয়াবা কারবার, মানবপাচার, চোরাকারবারির তালিকায় বারবার নাম আসতে থাকে বদি ও তার পরিবারের সদস্যদের। ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর দুদকের মামলায় আবদুর রহমান বদির তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। কারাগারেও পাঠানো হয় তাকে। কিন্তু ১৮ দিনের মাথায় ২০ নভেম্বর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্ত হন তৎকালীন এই সাংসদ।

এত সবের পরও বদি তার স্বভাবমতোই কাণ্ড চালাতে থাকেন। রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির কাণ্ডেও তার জড়িত থাকার অভিযোগ আসে প্রকাশ্যে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন বদি। বিনিময়ে টেকনাফ-উখিয়া আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে। তবে এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখনো নিজের হাতেই রেখেছেন বদি- এই বার্তা একরকম প্রকাশ্যই।

 

মোহাম্মদ আলীনামা

ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতি করেছেন মোহাম্মদ আলী। পরে যোগ দেন যুবদলে। সেখান থেকে জাতীয় পার্টি। ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হন মোহাম্মদ আলী। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন, তবে হেরে যান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান। তবে ঋণখেলাপি হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। সেবার তার স্ত্রী বেগম আয়েশা ফেরদৌস স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন এবং হেরে যান। ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন আয়েশা। স্ত্রী সংসদ সদস্য হলেও হাতিয়ার আওয়ামী লীগ রাজনীতিসহ সর্বত্রই আছেন মোহাম্মদ আলী। হাতিয়া দ্বীপের তমরুদ্দিন ঘাট থেকে জাহাজমারা চর, আর নিঝুম দ্বীপের মৌলভীচর, কমলাদীঘি থেকে সূর্যমুখী পর্যন্ত অঢেল সম্পদ, প্রভাব আর প্রতিপত্তির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণও সাবেক এই সাংসদের হাতেই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।