প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে শুধু চাটার দল : ড. মিজানুর রহামান – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকামঙ্গলবার , ২ জুলাই ২০২৪
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে শুধু চাটার দল : ড. মিজানুর রহামান

বার্তা কক্ষ
জুলাই ২, ২০২৪ ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আরিফ নি‌শির ::

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে রীতিমতো ক্ষোভ ঝাড়লেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও মানবাধিকার সংস্থা এলকপ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। রাজধানীর গুলশানে মঙ্গলবার (২ জুলাই) এ সেমিনারে ড. মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান বলতেন আমার চারপাশে শুরু চাটার দল’। এখন আমি দেখছি ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে শুরু চাটার দল। এই চাটার দলের হাত থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষায় আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বেসরকারি গবেষণা ও মানবাধিকার সংস্থা এম্পাওয়ারমেন্ট থ্রু ল অফ দ্য কমন পিপল (এলকপ) মঙ্গলবার গুলশানের সিক্স সিজন্স হোটেলে ‘বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাবনাসমূহ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমিতির সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান তার বক্তব্যে আরো বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। সবাই বলে যুদ্ধটা কে শুরু করবে। কোথা থেকে শুরু করবে। আমি মনে করি এ যুদ্ধটা শুরু করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে। শুনি আইজিপি বেনজীর বিদেশে চলে গেছে। কথা হলো বেনজীর কিভাবে ‘বেনজীর’ হয়ে গেল? এমনি হয়েছে? অন্যদের সহযোগীতায় গেছে। কারা করলো সহযোগীতা? সুতরাং এ দুনীতির সঙ্গে বিরাজ সংখ্যক মানুষ জড়িত। এ সময় মঞ্চে থাকা ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ ড. মিজানুর রহমানকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘অনেকের নাম চলে আসবে তাই বেনজীরকে পালাতে সহায়তা করেছে। ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘হ্যা অনেকের নামতো চলে এসেছে।’

ড. মিজান কথা বলেছেন আমলাদের কর্মকান্ড নিয়েও। আমলাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমলাদের বলি আপনারা আপনাদের আচরণ পরিবর্তন করুন। দেশের জনগণের কথা ভাবুন।’

তিনি আরো বলেন, দুর্নীতি আমাদের সমাজের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে দেয়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে তার এক ভাষণে বলেছিলেন ‘এই বাংলার কৃষক ও শ্রমিকরা দুর্নীতি করে না, দুর্নীতি করে শিক্ষিত ব্যক্তিরা।’ আমরাই এই শিক্ষিত সমাজের অংশ। সুতরাং আমাদের উচিত দুর্নীতিবাজদের খুঁজে বের করে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তাদেরকে শাস্তির সম্মুখীন করা। এতে করে আইনের সুশাসন যেমন প্রতিষ্ঠা হবে তেমনি বাংলার খেঁটে খাওয়া কৃষক, চাষি ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা যাবে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এই দুর্নীতিবাজদের জায়গা হতে পারে না।

ড. আহমদ বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেই বাধাগ্রস্ত করে না, বৈষম্য ও দারিদ্র্যকেও বাড়িয়ে দেয়। দুর্নীতি রোধে আমাদের নীতি আছে কিন্তু প্রয়োগ নেই। আমরা বলার সময় ঠিকই বলছি যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুন্য সহনশীলতা নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে কিন্তু কাজের বেলায় তার প্রয়োগ নেই। এই দুর্নীতিবাজদের রুখতে সরকারকে সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদেরকে শাস্তির আওয়াত আনতে হবে।

ব্যারিস্টার আখতার বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শক্তিশালী আইনি কাঠামো ও দুর্নীতিবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড. ইউনুসের দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের অবকাঠামো, লোকবল ও সুনাম ব্যবহার করে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অনুমোদন ছাড়াই অনুসারীদের নিয়ে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রণও করছেন ড. ইউনুস।

ড. ইউনূসের দুর্নীতির কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার আখতার আরো বলেন, সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠী কোন সুবিধা পাচ্ছে না। অথচ এই প্রতিষ্ঠানগুলো দরিদ্র ঋণ গ্রহীতাদের অর্থে প্রতিষ্ঠিত। তিনি একদিকে সারা বিশ্বে দারিদ্রতা বিমোচনের কথা বলছেন আর অন্যদিকে দরিদ্র জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে তাদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। গ্রামীণ ব্যাংক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দূর্নীতির বিরূদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ গ্রামীণ ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বক্তব্য উপস্থাপন শেষে মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মীরা আলোচনায় অংশ নেন। সবশেষে এলকপ এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদে ও সাচ্ছন্দে বসবাসের জন্য একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে সেমিনারে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।