হিলি বন্দ‌রের রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ১০৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবুধবার , ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

হিলি বন্দ‌রের রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ১০৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা

সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ::

চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) সাত মাসে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আহরণে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ সময়ে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৩৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ কমায় রাজস্ব আহরণ কমেছে বলে দাবি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। তবে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিরাজমান জটিলতা নিরসন হলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে দাবি বন্দরের আমদানিকারকদের।

হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে ৬০৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সে হিসাব অনুযায়ী অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে বন্দর থেকে ৪২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আগস্টে ৪৯ কোটি ৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ ৩৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ ৩৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, অক্টোবরে ৫৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, নভেম্বরে ৫৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ ৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং ডিসেম্বরে ৫০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সর্বশেষ জানুয়ারিতে ৪৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর থেকে সরকারের বেধে দেয়া রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। আমরা যারা ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে থাকি, কিন্তু সেসব পণ্য বর্তমানে সেভাবে আমদানি করতে পারছি না। আমদানির ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে। ডলার সংকটের কারণে অনেক পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ব্যাংকগুলো সব পণ্য আমদানির জন্য এলসি করে দিচ্ছে না কিংবা নিরুৎসাহিত করছে। সেজন্য বিশেষ করে শুল্কযুক্ত পণ্য বন্দর দিয়ে আমদানি হচ্ছে না বলাই চলে। আশা করছি, হয়তো জুন মাসের পর ডলারের সংকট কেটে যাবে, শুল্কযুক্ত পণ্য আসা শুরু হলে ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে।’

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘হিলি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাথর আমদানি হয়, এতে শুল্ক রয়েছে ৬৫ ভাগ। কিন্তু ডলার সংকটে কোনো ব্যাংক আমাদের পাথর আমদানির এলসি দিচ্ছে না। আর ব্যাংক এলসির কারণে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ অনেক কমে এসেছে।’

আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে খাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অন্য বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য অনায়াসে আমদানি হচ্ছে, কিন্তু হিলি বন্দরে তা শুল্কায়ন জটিলতার কারণে আমদানি হচ্ছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল পার্টস বেনাপোল বন্দরে যে মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়, তার চেয়ে অধিক মূল্যে এ বন্দরে শুল্কায়ন করা হয়। এছাড়া ফল আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্কায়ন জটিলতায় হিলি বন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফল আমদানি বন্ধ রয়েছে। এসব জটিলতা কাটলে এখানে পণ্য আমদানির পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি রাজস্ব আহরণও বাড়বে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, ‘বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে আমদানিকারকরা যে দামে পণ্য আমদানি করছে, বাজারে সেই দামে বিক্রি হচ্ছে না। যে কারণে অনেকে আমদানি করতে নিরুৎসাহিত হওয়ায় আমদানির পরিমাণ কমেছে। এতে রাজস্ব আহরণ কমছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মাঝে আমদানি রফতানি বাণিজ্য অব্যাহত থাকলেও আমদানির পরিমাণ কমে এসেছে। পূর্বে বন্দর দিয়ে ১৮০ থেকে ২২০ ট্রাক বিভিন্ন ধরণের পণ্য আমদানি হতো। কিন্তু এখন তা কমে ১০০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে, কোনো কোনো দিন এর চেয়ে কম হয়। আমদানি কমায় সরকারের রাজস্ব আহরণ যেমন কমেছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয় কমেছে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।