এক যুগেও অগ্নিনিরাপত্তা সনদ নেয়নি গুলশানের আগুন লাগা বহুতল ভবনটি – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকামঙ্গলবার , ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

এক যুগেও অগ্নিনিরাপত্তা সনদ নেয়নি গুলশানের আগুন লাগা বহুতল ভবনটি

সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৩ ১:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক::

অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই গুলশান-২ নম্বরের বহুতল ভবনটির ব্যবহার শুরু করেন বাসিন্দারা। ফলে অভিজাত এ ভবনের অগ্নিদুর্বলতার বিষয়গুলো আড়ালেই থেকে যায়। পাশাপাশি ভবনটিতে নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তার মহড়াও করা হয়নি। এ দুই কারণেই মূলত বহুতল ভবনটিতে হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে মনে করছে ফায়ার সার্ভিস।

গতকাল গুলশানের বহুতল ভবনটি পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানায় এ দুর্ঘটনায় গঠন করা তদন্ত কমিটি।

গুলশানের ১৩ তলা ওই ভবনে রোববার সন্ধ্যায় আগুন লাগার পর ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিস। আগুন থেকে বাঁচতে লাফিয়ে পড়ে দুজনের মৃত্যু ঘটে। আবাসিক ওই ভবনের নিচতলা বাদে ওপরের ১২ তলায় ছয়টি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে কয়েকটি পরিবারের বসবাস। এ অগ্নিকাণ্ড তদন্তে ফায়ার সার্ভিস পাঁচ সদস্যের যে তদন্ত কমিটি করেছে, তার প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী। বিকালে তদন্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে ভবনটি ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় ভবনের নিরাপত্তা দুর্বলতার বিষয়গুলোও তুলে ধরে লে. কর্নেল তাজুল বলেন, ‘‌ভবনটি আপাতদৃষ্টিতে খুব অত্যাধুনিক হলেও এর নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল। ভবনটির কোনো ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ছিল না। তারা ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে একটা এনওসি নিয়েছিল। এরপর তাদের যথাযথ পরিদর্শন সাপেক্ষে ফায়ার সেফটি লাইসেন্স নেয়ার কথা ছিল যা তারা নেননি। এ লাইসেন্স নিতে গেলে ভবনের এসব দুর্বলতা বেরিয়ে আসত। এক্ষেত্রে ভবনের অগ্নিদুর্বলতা অনেক কম থাকত।’

অগ্নিনির্বাপণী প্রশিক্ষণ এবং মহড়ার অভিজ্ঞতা ভবনের বাসিন্দাদের না থাকায় হতাহতের ঘটনা বেড়েছে জানিয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘‌মহড়া না হওয়ার কারণে উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা দুটি ঘটেছে। আমরা তাদের বারবারই বলছিলাম—লাফ দেবেন না, আমরা আসছি। কিন্তু ঘটনার আকস্মিকতায় তারা হয়তো বুঝে উঠতে পারেননি, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। এরপর আপনারা দেখেছেন আমাদের লোকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেতরে গিয়ে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করেছে। নবজাতক শিশুদেরও পরম মমতায় আগলে নিচে নামিয়ে এনেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ভবনের একই জায়গায় গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন রয়েছে। এখন কোত্থেকে, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, সেটা যথাযথ তদন্ত না করে বলা মুশকিল।’

ভবনের জরুরি নির্গমন পথ কিংবা অগ্নিনির্বাপণী সরঞ্জাম ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‌আমরা এখনই এসব বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমাদের কাছে আরো তথ্য আসবে, তখন হয়তো বিষয়গুলো পরিবর্তনও হয়ে যেতে পারে।’

এদিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে যোগাযোগ করে জানা যায়, ২০১০ সালে ফায়ার সার্ভিস থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয় গুলশানের ওই ভবনের। এরপর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তারা আর কোনো ধরনের সার্ভে, মহড়া এমনকি বহুতল ভবন ব্যবহারের আগে ফায়ার সার্ভিসের সনদও নেয়নি। এর ফলে ভবনটিতে যথেষ্ট জায়গা থাকলেও অগ্নিদুর্বলতার বিষয়গুলো উঠে আসেনি। ফায়ার সার্ভিসেরগ সাবেক উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন মুক্ত বাংলা‌কে বলেন, ‘‌ফায়ারের ছাড়পত্র নেয়া মানেই ভবনটি পুরোপুরি নিরাপদ তেমনটি নয়। কিন্তু ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি বা লিকেজগুলো সার্ভেতে উঠে আসে। পাশাপাশি ভবনের বাসিন্দারাও বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।