চলতি অর্থবছরে ভ্যাট আয় কমেছে – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবুধবার , ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চলতি অর্থবছরে ভ্যাট আয় কমেছে

সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৩ ১:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিশাত মেহেদী ::

প্রতি বছরের মতো চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) বাজেটেও মোট পরিচালন ব্যয়ে সুদ পরিশোধের হার নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। যদিও অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই তা গোটা অর্থবছরের প্রক্ষেপণকে ছাড়িয়েছে। ঋণের সুদ বাবদ ব্যয়ের বোঝা আরো ভারী হয়ে এলেও কমেছে রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় উৎস মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে আয়। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিচালন ব্যয়ে লাগাম টানার পাশাপাশি ভ্যাটসহ সার্বিক রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে আরো মনোযোগ দেয়া এ মুহূর্তে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। না হলে তা সার্বিক অর্থনীতির জন্যই বড় বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে।

অর্থ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিস্তৃত খাতভিত্তিক পরিচালন ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক খাতে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ, সামাজিক অবকাঠামো খাতে ২৬ দশমিক ১, সুদ পরিশোধ খাতে ১৯ দশমিক ৫, কৃষি খাতে ৬ দশমিক ৩, ভৌত অবকাঠামো খাতে ২ দশমিক ৮ এবং অন্যান্য খাতে দশমিক ৯ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রাখা ছিল। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস শেষে সরকারের যে প্রকৃত ব্যয় হয়েছে তার মধ্যে প্রশাসনিক খাতে ৩৫ শতাংশ, সুদ পরিশোধ খাতে ২৭ দশমিক ৪, সামাজিক অবকাঠামো খাতে ২৬ দশমিক ৪, কৃষিতে ৮ দশমিক ৩, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ দশমিক ৯ এবং অন্যান্য খাতে ১ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার যে পরিমাণ অর্থ পরিচালন খাতে ব্যয় করার জন্য বরাদ্দ করেছিল, তার ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় করার কথা। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সরকারের পরিচালন ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা, যা এ সময়ে হওয়া মোট পরিচালন ব্যয়ের ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় বাড়লেও কমেছে রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় উৎস ভ্যাট থেকে আয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), এনবিআরবহির্ভূত ও করবহির্ভূত খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট থেকে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব এসেছে ৪৭ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ভ্যাট আহরণ হয়েছিল ৪৯ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।

অর্থনৈ‌কি গ‌বেষক ও সাংবা‌দিক আ‌রিফ হো‌সে‌নের আশঙ্কা, ঋণের সুদ ও ভ্যাট আহরণের এ বিপরীতমুখী গতি সার্বিক অর্থনীতিতে বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সংকুচিত করতে পারে সরকারের অতিপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সক্ষমতাকেও। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ভ্যাট আয়সহ সার্বিক করজালকে আরো বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে জোর দিচ্ছেন ব্যয় সাশ্রয়ের দিকেও।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে এবি‌সি টি‌ভি ও মুক্ত বাংলা‌কে বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা বর্তমানে কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে আছে। মূল্য বাড়ার কারণে আমাদের শুল্ক আদায়ের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু যেটি দিয়ে অর্থনৈতিক অবস্থা বোঝা যায় সেটি হচ্ছে ভ্যাট। এটি কমার অর্থ হলো বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সেখানে খুব বেশি বাড়েনি। মানুষের ভোগ কমে গেছে এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও কমেছে বা সেভাবে বাড়েনি। ভোক্তা ব্যয়, বিনিয়োগ ব্যয়, সরকারি ব্যয় এবং রফতানি থেকে আমদানি ব্যয় বাদ দিয়েই হয় জিডিপি। সেখানে ভোক্তা ব্যয় ও বিনিয়োগ ব্যয়ে তেমন প্রবৃদ্ধি না হলে মূসক আসবে কোথা থেকে? অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে এবং সেটি ভোগ ও বিনিয়োগকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। ব্যয়ের যে পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে সেটিও ভালো নয়। আমাদের অন্য যেসব ব্যয় রয়েছে সেগুলো সংকোচন না করলে বাজেটে ঘাটতি বাড়বে। সুদের ব্যয় তো ভালো কোনো ব্যয় নয়। একদিকে ব্যয়ের দিক থেকে পরিস্থিতি ভারসাম্যপূর্ণ নয়, অন্যদিকে আয়ের দিক থেকেও প্রবৃদ্ধিও আশাব্যঞ্জক নয়। সরকারের আয়ও বাড়তি ব্যয় মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। এক্ষেত্রে ব্যয় সাশ্রয় করার পাশাপাশি করভিত্তি সম্প্রসারণ ও কর ফাঁকি কমানোয় জোর দিতে হবে। এটি ছাড়া এ পরিস্থিতি থেকে বেরোনো মুশকিল হবে।’

অর্থ বিভাগের ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রণীত মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্রে ২০২৪ সাল শেষে দেশের ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের জিডিপির অনুপাতে সরকারের ঋণ ছিল ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে ২০২০-২১ অর্থবছরে এ অনুপাত ৪১ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপি ও সরকারের ঋণের অনুপাত ৪২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বহুজাতিক সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত অর্থবছর শেষে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। বিপুল এ ঋণের ৫৮ শতাংশ দেশের অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নেয়া হয়েছে। বাকি ঋণ এসেছে বিদেশী উৎস থেকে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর শেষে বহুজাতিক বিভিন্ন সংস্থাসহ বিদেশী উৎস থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ বিলিয়ন ডলার। বিদেশী উৎসের এ ঋণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১৮ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ‌বি‌সি টি‌ভি ও মুক্ত বাংলা‌কে বলেন, ‘এটাকে বলা যায় ঘরে, ব্যবসায় ও রাষ্ট্রে নগদের টানাটানি। কারণ হচ্ছে ঘরের আয় কমে গেছে, মজুরি কমে গেছে। রাষ্ট্রের আয় কমে গেছে। আমাদের কর-জিডিপির অনুপাত একেবারে তলানিতে বলা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি পণ্যমূল্য ও ডলারের অবমূল্যায়ন হয় তখন ব্যবসায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় এবং এ কারণে ব্যয় বাড়ায় ব্যবসায়ীদের ব্যাংকঋণ বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি তার আয় থেকে যে কর আসে সেটিও কমে যায়। ডলার সংকটের কারণে আমদানি নিরুৎসাহিত করায় আমদানি পর্যায়ে শুল্ক করের প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করেছে। যখন পণ্যের দাম বেড়ে যায় তখন কর ফাঁকিও বেড়ে যায়। এটা হয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। এর সঙ্গে রয়েছে চলমান পুঁজিপাচার। এক্ষেত্রে সরকারের জন্য সর্বোত্তম উপায় হলো দেশে চলমান কর ফাঁকি রোধ করা। সরকার নিজেই কর সংস্কার কর্মসূচিতে মনোনিবেশ না করে রাজস্ব আয়ের একটা আঁটসাঁট অবস্থানে পর্যবসিত করেছে। ফলে কম কর আদায়ের কারণে সরকারের আর্থিক অবস্থান সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ রেকর্ড ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এতে একদিকে সরকারের ঋণ পরিশোধের পাল্লা বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। এখানে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়ে গেছে। এগুলো অর্থনৈতিক বিষয় হলেও এর চাবিটা রয়ে গেছে রাজনৈতিক বন্দোবস্তে।’

মোট রাজস্ব আয়ে যৎসামান্য প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ভ্যাট থেকে আয় কমার বিষয়টিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যয় সংকোচন নীতির প্রয়োগ ও রাজস্ব আয় বাড়াতে না পারলে আইএমএফের শর্তানুযায়ী আগামী অর্থবছরে কর-জিডিপির অনুপাত দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ এ‌বি‌সি টি‌ভি ও মুক্ত বাংলা‌কে বলেন, ‘বাজেটে সুদের হিসাব করার সময় হয়তো সতর্কতার সঙ্গে করা হয়নি কিংবা বাজেটকে কিছুটা সংকোচনমূলক দেখানোর জন্য হয়তো সুদ ব্যয়ের হিসাব ভালোভাবে দেখানো হয়নি। তা না হলে কোন সময়ে কী পরিমাণ সুদ দিতে হবে সব হিসাবই তো সরকারের কাছে রয়েছে। তাহলে প্রক্ষেপণের চেয়ে বেশি হওয়ার তো সুযোগ নেই। যে পরিসংখ্যান দেখা যাচ্ছে সেটি উদ্বেগজনক। গত অর্থবছরে কভিডের প্রভাব ছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরে তা নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় রাজস্ব আয়ে সামান্য প্রবৃদ্ধি এবং ভ্যাট কমে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমলেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম তো অব্যাহত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় রিসোর্টে জায়গা পাওয়া যায় না। মানুষ প্রচুর খরচও করছে। তাহলে সেখান থেকে ভ্যাট আসছে না কেন? সরকার রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে উৎসে করের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যেসব খাত থেকে উৎসে কর আসে যেমন, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব খাত থেকে সরকারের আয় কমেছে। সামনের দিনগুলোয় সরকারের ঋণ ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ আরো বাড়বে। তখন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে সেটিও একটি বিষয়। বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে আইএমএফের শর্তানুযায়ী কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা দুর্বল হতে থাকবে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।