জনসংখ্যা বাড়লেও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি : প্রধানমন্ত্রী – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

জনসংখ্যা বাড়লেও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি : প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩ ৬:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:: 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সবাইকে মনে রাখতে হবে দেশের জনসংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও আমরা তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। বাংলাদেশ শুধু খাদ্যশস্য উৎপাদনেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেনি, বরং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল ও অন্য কৃষিপণ্যও উৎপাদন করে যাচ্ছে।’  আজ বৃহস্প‌তিবার বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। গাজীপুরে ব্রিতে বঙ্গবন্ধু-পিয়েরে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খাদ্যশস্যের ফলন বাড়াতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে কৃষিবিদদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নিজেদের খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতেও বাংলাদেশকে ঐতিহ্যগত শস্যের পাশাপাশি নতুন জাতের শস্য উৎপাদন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুদ্ধে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, তাই সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে আমরা ন্যানো-প্রযুক্তি, বায়ো-ইনফরমেটিকস, মেশিন, ইন্টারনেট ও অত্যাধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্পর্কে জেনেছি। আমাদের এ প্রযুক্তিগুলো কাজেও লাগাতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে স্বনির্ভর করে এবং বছরে ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি মিটিয়ে খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ পুনরায় খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৯ সালে সরকার গঠন করেই দেশে ২৬ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি পায়। সরকার এ অবস্থা মোকাবেলায় কৃষি গবেষণা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেয়। কৃষকের মধ্যে উচ্চফলনশীল বীজ ও সার বিতরণ করে এবং সব ধরনের সহায়তা দেয়া হয়। এ উদ্যোগের ফলে আমরা খারাপ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে সামনে এগিয়ে যাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা জানেন এদেশে সার চাইতে গিয়ে কৃষককে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। ১৮ জন কৃষককে বিএনপি সরকার গুলি করে মেরেছিল। তাদের অপরাধটা কী, তারা সার চেয়েছিল। তখন থেকেই প্রতিজ্ঞা ছিল কৃষককে সারের পেছনে ছুটতে হবে না, সার কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের ফসল চাষ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় কৃষি উৎপাদন পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রি উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে। এ পর্যন্ত ১১১ ধরনের ধানের আধুনিক জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১০৪টি ইনব্রিড ও সাতটি হাইব্রিড। এর মধ্যে ২৪টি বিভিন্ন প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত রয়েছে। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ১৩টি প্রিমিয়াম মানের, পাঁচটি জেডএনসমৃদ্ধ ও তিনটি নিম্ন জিআই মানের (গ্লাইসেমিক ইনডেক্স) ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। দেশের মোট ধানি জমির ৮০ শতাংশেরও বেশি ব্রি ধানের চাষ করা হচ্ছে। জাতীয় ধান উৎপাদনে এর অবদান প্রায় ৯১ শতাংশ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে একটি মাত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছে। এর মধ্যে দুটি করা হয়েছে কৃষি শিক্ষার জন্য। এ দুটি হচ্ছে দিনাজপুর হাজী দানেশ ও পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়। আমাদের সরকার শেরেবাংলা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে সরকার কৃষি গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং বিজ্ঞান গবেষণায়ও দৃষ্টি দিয়েছে।’

কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিন বালি, গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার স্টেভেন ওয়েব প্রমুখ। ‘ব্রির ৫০ বছরের গর্ব ও সাফল্য’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।