সংলাপ নাকচ, চাপে কিছু আসে যায় না: শেখ হাসিনা – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাসোমবার , ১৩ মার্চ ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

সংলাপ নাকচ, চাপে কিছু আসে যায় না: শেখ হাসিনা

সম্পাদক
মার্চ ১৩, ২০২৩ ১১:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক::

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ প্রসঙ্গে বলেছেন—এমন কোনো চাপ নেই, যেটা তাকে চাপ দিতে পারে।

সোমবার (১৩ মার্চ) গণভবনে সাম্প্রতিক কাতার সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমন কোনো চাপ নাই, যেটা শেখ হাসিনাকে (চাপ) দিতে পারে।

এটা মাথায় রাখতে হবে। কারণ আমার শক্তি একমাত্র আমার জনগণ আর উপরে আল্লাহ আছে।

আর আমার বাবার আশীর্বাদের হাত আমার মাথায় আছে। ’

‘কাজেই কে কী চাপ দিল না দিল এতে কিছু আমাদের আসে যায় না। জনগণের স্বার্থে যেটা করার আমরা সেটাই করব, জনগণের কল্যাণে যে কাজ করার সেটাই করব। ’

অতীতে বিভিন্ন চাপ সামলানোর কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরকম বহু চাপ তো ছিল। পদ্মা সেতুর আগে তো কম চাপ দেওয়া হয়নি। কোন একটা দেশের সেই অ্যাম্বাসেডর থেকে শুরু করে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে টেলিফোনের ওপর টেলিফোন, হেন তেন। একটা ভদ্রলোক একটা ব্যাংকের এমডি তাকে এমডি পদে রাখতে হবে। তো এমডি পদে কি মধু তা তো আমি জানি না এবং আইনে আছে ৬০ বছর, হয়ে গেছে তার ৭০ বছর বয়স তারপরও এমডি পদে থাকতে হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটাই হয় এমডি পদে থাকলে বোধহয় মানি লন্ডারিং করা যায়, পয়সা বানানো যায়, পয়সা মারা যায়, গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া যায়। যাই হোক, সেই চাপও কিন্তু শেখ হাসিনা সহ্য করে চলে এসেছে। তারপর নিজের পয়সায় পদ্মা সেতু বানায়ে তাদের দেখালাম এই চাপে আমাদের কিছু আসে যায় না। ’

দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাঝে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটছে, ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।  একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিরও চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, আমি বিশ্বাস করি, কেউ কিছু করতে পারবে না। সাময়িক কিছু একটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সেটা মোকাবিলা করবে আমাদের জনগণই। ’

নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া অনেকে
দেশ-বিদেশের অনেক সংস্থা আগামী নির্বাচনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করবার জন্য তো অনেকগুলি এজেন্সি উন্মুখ হয়ে আছে, আন্তর্জাতিক এবং দেশীয়। ৪০ জনের যে নাম এসেছে ওটার পেছনেও কিছু অ্যামবিশন (উচ্চাকাঙ্ক্ষা) আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ’

সংলাপ কার সঙ্গে করবো?
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সংলাপ কার সঙ্গে করবো? ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি সংলাপ করেছি, কিন্তু তার রেজাল্টটা কী? নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ ছাড়া কিছুই করেনি। ৩০০ সিটে ৭০০ নমিনেশন দিয়ে টাকা খেয়ে নিজেরাই নিজেদের নির্বাচন থেকে সরায়ে তারপর নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জানি না আল্লাহ আমাকে ধৈর্য দিয়েছেন, সহ্যশক্তি দিয়েছেন; নইলে ১৫ আগস্ট আমার বাবা-মায়ের হত্যাকারী; গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা যারা করেছে, তাদের সঙ্গে আমি বসেছি শুধু দেশের স্বার্থে। ’

কোকো রহমান মারা যাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে সান্ত্বনা দিতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মারা গেল, আমি গেলাম তাকে দেখতে। একজন সন্তানহারা মাকে সহানুভূতি জানাতে। আমাকে কীভাবে অপমানটা করল, আমার গাড়ি ওই বাড়ির মধ্যে ঢুকতে দেবে না। বড় গেইট বন্ধ; টেলিফোন করে সময় নেওয়া হয়েঝে যে আমি এসময় আসব, তারপরও সে গেট বন্ধ করল। আমি তখন চলে গিয়েছি। তো আমি বললাম ঠিক আছে ছোট গেইট দিয়ে ঢুকবো। আমার গাড়ি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ছোট গেট বন্ধ করে দিলো। তো এত অপমানের পর তাদের সঙ্গে কীসের বৈঠক?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার পরিষ্কার কথা, যারা এটুকু ভদ্রতা জানে না তাদের সঙ্গে বৈঠকের কী আছে? কেউ পারবেন আপনার বাবা-মায়ের হত্যাকারীদের সাথে এভাবে বসে বৈঠক করতে? আপনাকে যদি কেউ এভাবে অপমান করে আপনি পারবেন? কে পারবেন? যেটুকু সহ্য করেছি শুধু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, নিজের স্বার্থে না। এটা তো প্রমাণিত। ’

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে বাসায় থাকার সুযোগ করে দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়োবৃদ্ধ; খালেদা জিয়ার ভাই এসে, বোন এসে আমার কাছে, রেহানার কাছে এসে আকুতি করল। এরপর তার সাজাটা স্থগিত করে বাসায় থাকা, চিকিৎসার সুযোগটা করে দিয়েছি। এটুকু যে করেছি সেটাই যথেষ্ট। ’

তিনি বলেন, ‘যারা বার বার আমাদের ওপর হত্যা করে, আমাদের অপমান করে, সারা বাংলাদেশে কাকে না অপমান করেছে। তারপরও এইটুকু সহানুভূতি পেয়েছে, সেটা শুধু আমার কারণে। নইলে এদের সঙ্গে কিসের বৈঠক, কীসের কী? তাছাড়া আর কী ক্ষমতা আছে তাদের, সন্ত্রাস করা ছাড়া আর তো কোন ক্ষমতা নেই। ’

রমজানে দ্রব্যমূল্যের কষ্ট লাঘবে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার
রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের যেন কষ্ট না হয় সেজন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। আশা করি রমজানে কোনো অসুবিধা হবে না।

অবৈধ মজুদ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে কেউ যাতে অবৈধ মজুদ করতে না পারে সে জন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎসহ সব ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়ার এবং উৎপাদন বাড়াতে বলেন।

সংবাদ সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

স্বল্পোন্নত দেশসমূহের (এলডিসি ৫: সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) ৫ম জাতিসংঘ সম্মেলন উপলক্ষে গত ৪ থেকে ৮ মার্চ কাতার সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি ৫: সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৪ মার্চ কাতার সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিভিন্ন ইভেন্টে তিনি অংশ নেন। সফর নিয়ে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আমি বাংলাদেশের অভাবনীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরি। একইসঙ্গে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে আমাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশার কথা উত্থাপন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে স্বল্পোন্নত দেশসমূহ সংক্রান্ত ৫ম জাতিসংঘ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে আমি ৪ থেকে ৮ই মার্চ দোহা সফর করি। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফ্রম পোটেনশিয়াল টু প্রোসপারিটি’। এর আগে ২০০১ সালে আমি ব্রাসেলসে তৃতীয় এলডিসি সম্মেলন এবং ২০১১ সালে ইস্তাম্বুলে চতুর্থ এলডিসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলাম। জাতিসংঘ এলডিসি সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে এটাই সম্ভবত বাংলাদেশের শেষ অংশগ্রহণ। কারণ, ২০২৬ সালে আমরা এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাব।

৫ই মার্চ আমি কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের ওপেনিং প্ল্যানারি মিটিংয়ে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করি। এই অনুষ্ঠানে আমি ছাড়াও কাতারের আমির, জাতিসংঘের মহাসচিব, ৭৭তম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং এলডিসি গ্রুপের বর্তমান চেয়ার মালাউই-এর রাষ্ট্রপতি বক্তব্য রাখেন।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেছি যে স্বল্পোন্নত দেশগুলো করুণা বা দাক্ষিণ্য চায় না, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের ন্যায্য পাওনা চায়। আমি কভিড অভিমারি ও চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি ও আর্থিক সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গৃহীত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানাই। এক্ষেত্রে আমি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আর্থিক সহায়তা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, নিরাপদ অভিবাসন, জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তি ইত্যাদি বিষয়ে স্বল্পোন্নত দেশসমূহের বিশেষ প্রয়োজনের কথা তুলে ধরি। এছাড়া, বাংলাদেশসহ উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর উন্নয়ন অর্জনকে গতিশীল রাখতে বর্ধিত সময়ের জন্য এলডিসিদের জন্য প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই।

শেখ হাসিনা লিখিত বক্তব্যে বলেন,  ৫ মার্চ দুপুরে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা হতে উত্তরণের পথে থাকা তিন এশীয় দেশ বাংলাদেশ, নেপাল ও লাও পিডিআর- কর্তৃক আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল অ্যান্ড স্মুথ ট্রানজিশন ফর দ্যা গ্রাজুয়েটিং কোহর্ট অব ২০২১’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টের উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনে আমি অংশ নেই। আমি বাংলাদেশের উত্তরণযাত্রা ত্বরান্বিত করতে আমাদের সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি উত্তরণমুখী দেশগুলোর পক্ষে পাঁচ-দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করি। এ অনুষ্ঠানের শেষে তিন দেশের সমন্বিত দাবি সম্বলিত একটি যৌথ বিবৃতি গৃহীত হয়। ৬ মার্চ সকালে আমি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত  ‘দ্যা রাইজ  অফ বেঙ্গল টাইগার: পোটেনশিয়াল অফ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিজনেস সামিটে অংশগ্রহণ করি। এই অনুষ্ঠানে কাভারের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ ও কাতারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানাই। এ প্রসঙ্গে আমি দুদেশের সরকারের মধ্যে একটি যৌথ ব্যবসা ও বিনিয়োগ কমিটি এবং দু’দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে একটি যৌথ বিজনেস ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করি। এছাড়া, আমি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামুদ্রিক গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি সঞ্চালন ব্যবস্থা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, স্টার্ট আপসহ বিভিন্ন খাতে কাতারের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই।

এছাড়া লিখিত বক্তব্যে মূলত সফরে অংশ নেয়া বিভিন্ন ইভেন্টের তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতিসংঘ এলডিসি-৫ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আমি কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করি। ৫ মার্চ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানির সঙ্গে আমার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে কাতার বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে বৈঠককালে কাতারের মহামানা আমির আমাকে আশ্বাস প্রদান নেন। ৬ই মার্চ কাতার ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন আমিরের মাতা শেখা মোজা বিনতে নাসেরের সঙ্গে আমার বৈঠক হয়। বৈঠকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়। ৪ মার্চ বিকেলে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে আমার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আমি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তার চলমান আলোচনা অব্যাহত রাখার আহবান জানাই। আমি মিয়ানমারে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে আরও রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাই।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।