বিচারের ভার আল্লাহ মানুষকে দেননি: প্রধানমন্ত্রী – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ মার্চ ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিচারের ভার আল্লাহ মানুষকে দেননি: প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক
মার্চ ১৬, ২০২৩ ২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ::

শান্তির ধর্ম ইসলামের উদারনীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা সত্যিকারে ইসলামে বিশ্বাস করে তারা অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল। মহান আল্লাহ বিচারের ভার মানুষকে দেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ ক‌রেন।
শান্তির ধর্ম ইসলামের উদারনীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা সত্যিকারে ইসলামে বিশ্বাস করে তারা অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল। মহান আল্লাহ বিচারের ভার মানুষক দেয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে তৃতীয় ধাপে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।শেখ হাসিনা বলেন, যারা সত্যিকার ইসলামে বিশ্বাস করে তাদের অন্যের ধর্মের প্রতিও সহনশীল হতে হবে।

শেষ বিচার তো আল্লাহ করবেন। বিচারের ভার আল্লাহ মানুষকে দেননি। কোনো মানুষকে দেননি। বরং খুনখারাবি করতে গিয়ে আমাদের ধর্মের অসম্মান করা হচ্ছে বিশ্বে।সরকার প্রধান বলেন, ধর্মের নাম ব্যবহার করে, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস করে এলে ইসলামকে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। অথচ, ইসলাম হচ্ছে সবচেয়ে শান্তির ধর্ম। আল্লাহ আমাদের কোনো বান্দাকে এই অধিকার দেন নাই। কে ধর্মী, কে বিধর্মী, কে কাফের, কে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে, কে করে না; সে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার আল্লাহ কোনো মানুষকে দেননি।

ইসলাম ধর্ম সেই শিক্ষা দেয় সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতা দেখানো। আমাদের নবীও আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। প্রত্যেক মানুষ যার যার কর্মফল ভোগ করবে। আমি অন্যায় করলে আমার কর্মফল তো আরেকজন ভোগ করবে না। মানুষকে কে এই অধিকারটা দিল কে ধর্মে বিশ্বাস করে, কে করবে না তাকে শাস্তি দিতে হবে, তাকে খুন করতে হবে? জীবন তো আল্লাহ দিয়েছেন। জীবন দেওয়ার মালিকও তিনি, নেওয়ার মালিকও তিনি।

ইসলামে নারীর অধিকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামই কিন্তু নারীদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। আমরা যেমন কোনো কোনো দেশে দেখি নারীদের শিক্ষা নিতে দেবে না। ইসলাম কিন্তু সেই শিক্ষা দেয় না। ইসলাম কিন্তু সবাইকে শিক্ষা গ্রহণ করতে বলেছে। নবীও আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে বলেছেন।

মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম পালনের সাথে সাথে যেন ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ হয়, সে জন্য আমরা মসজিদগুলো করে দিয়েছি। আমরা চাই আমাদের দেশটা উন্নত হোক, এগিয়ে যাক। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতা, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন।

দেশকে এগিয়ে নিতে সবার দোয়া চেয়ে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। পবিত্র রমজানে আপনাদের কাছে দোয়া চাই। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কাজ যেন আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সে জন্য দোয়া চাই।

নিজস্ব অর্থায়নে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ১০ জুন প্রথম ধাপে ৫০টি ও চলতি বছরে ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে পঞ্চাশটি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনটি ধাপে এখন পর্যন্ত মোট ১৫০টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা। বাকি মসজিদগুলোর নির্মাণ কাজও শেষের দিকে।

সরকারি অর্থায়নে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। শুধু নামাজ আদায় নয়, এসব মসজিদ হবে গবেষণা ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশালের আগৈলঝাড়া, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার মডেল মসজিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইমাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান ও ধর্ম সচিব কাজী এনামুল হাসান।

গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় ধাপে সারা দেশে ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫৬৪ মসজিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫০ মসজিদ উদ্বোধন করেন।

এর আগে প্রথম দফায় ২০২১ সালের ১০ জুন ৫০ মসজিদ এবং চলতি বছর ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় আরও ৫০ মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন। অবশিষ্ট মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হবে।

এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিককেন্দ্রসমূহে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ ওজু ও নামাজের আলাদা জায়গা রয়েছে। এ ছাড়া হজযাত্রীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা, ইমাম প্রশিক্ষণকেন্দ্র, গবেষণাকেন্দ্র ও ইসলামিক লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, দাফন পূর্ব আনুষ্ঠানিকতা, গাড়ি পার্কিং সুবিধা, হিফজখানা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও কুরআন শিক্ষাব্যবস্থা, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইসলামের দাওয়াতের জন্য সম্মেলনকেন্দ্র, ইসলামি বই বিক্রয় কেন্দ্র, মসজিদসহ দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য থাকার সুবিধা থাকবে।

অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী এনামুল হাসান বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।