ভাস্কর শামীম সিকদার মারা গেছেন – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকামঙ্গলবার , ২১ মার্চ ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

ভাস্কর শামীম সিকদার মারা গেছেন

সম্পাদক
মার্চ ২১, ২০২৩ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ::

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতার ভাস্কর শামীম সিকদার মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণের খবরটি বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন।

শামীম সিকদারের বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তারা দুজনই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বুধবার বেলা ১১টায় তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে আনা হবে। চারুকলা অনুষদে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ শহীদ মিনার কিংবা তার যেকোনো একটি ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তার পরিবারের সদস্য ও শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে দাফনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা যায়।

১৯৮৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পাশে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটি তৈরি করেন শামীম সিকদার। জগন্নাথ হলের সামনে স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্যটিও তারই করা। তবে দীর্ঘদিন প্রবাসজীবনের কারণে অনেকটাই দৃশ্যের আড়ালে ছিলেন তিনি।

আশির দশক। শিল্পকর্মে নিজ নিজ বোধ ও চেতনার স্বাক্ষর রাখতে শ্রমে-কাজে অবিচল শিল্পীরা। ভাস্কর শামীম সিকদারও শামিল সে যূথবদ্ধতায়। পারিবারিক আবহ কিংবা সহোদর ও বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদারের দর্শন ও সাহচর্যে তিনি ছিলেন অনেকটাই আপসহীন। এ আপসহীনতাই বুঝি তাকে শেষমেশ পরবাসী করে তোলে।

তবে কয়েক মাস আগে তিনি নিজের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করতে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন। শিল্প সমালোচক মইনুদ্দীন খালেদ শামীম সিকদারের অযত্নে পড়ে থাকা কাজগুলো নিয়ে লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ নামে এ দেশের প্রধান ভাস্কর্যশিল্পী শামীম সিকদার একটি ‘ভাস্কর্য-বাগান’ সৃষ্টি করেছেন। উদয়ন বিদ্যালয়, এসএম হল, জগন্নাথ হলের মাঝে ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের দক্ষিণ দিকে যে সড়কদ্বীপ রয়েছে, সেখানে শিল্পী স্থাপন করেছেন ১০৮টি ভাস্কর্য। এ ভাস্কর্য-বাগান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী বাদুল গোয়ালা এ নিবন্ধকারকে জানিয়েছেন, এতে শুরুতে ১০৯টি ভাস্কর্য ছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় একটি ভাস্কর্য ভেঙে পড়ায় তা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ বাগানের আরো অনেক ভাস্কর্য অযত্নে ও সংস্কার না করায় নষ্ট হতে চলেছে।

শামীম সিকদারের জন্ম ১৯৫৩ সালে বৃহত্তর ফরিদপুরে। বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন ফরাসি ভাস্কর মিস্টার সিভিস্কিকে। তার অধীনে ভাস্কর্যের ওপর বাফা থেকে ১৯৬৫-৬৭ সাল পর্যন্ত তিন বছরের একটি কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে (বর্তমান চারুকলা অনুষদ) পাস করার পর লন্ডনে স্যার জন স্কুল অব আর্টস ও কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসি কলেজে পড়াশোনা করতে যান। ১৯৭৬ সালে দেশে ফিরে ফ্রিল্যান্স ভাস্কর হিসেবে কাজ করতেন। এরপর ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে সহকারী অধ্যাপকের দায়িত্ব পান। ১৯৯৩ সালে সহযোগী অধ্যাপক, ১৯৯৯ সালে অধ্যাপক হন। অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেয়ার পর আট বছর আগে তিনি ইংল্যান্ডে চলে যান।

শিল্পের কোনো দেশ নেই, সীমা নেই, গণ্ডি নেই। তবু শামীম সিকদার সব অদৃশ্য গণ্ডিই পার হতে চেয়েছিলেন। ভাঙতে চেয়েছিলেন যাপিত ক্ষুদ্রতাগুলোকে। ১৯৭৫ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউটে তার প্রথম একক প্রদর্শনী হয়। ১৯৭৬ সালে লন্ডনের কমনওয়েলথ ইনস্টিটিউটে, ১৯৮২ সালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ও শিল্পকলা একাডেমিতে তার ভাস্কর্যের প্রদর্শনী হয়। এছাড়া বেশকিছু একক ও দলগত প্রদর্শনীতে অংশ নেন। শিল্পকর্মে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০০ সালে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় তাকে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।