মেয়ে সহপাঠীদের বললো ‘বস্তি’, বিচারক মা অভিভাবকদের দিয়ে ধরালেন পা – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ মার্চ ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

মেয়ে সহপাঠীদের বললো ‘বস্তি’, বিচারক মা অভিভাবকদের দিয়ে ধরালেন পা

সম্পাদক
মার্চ ২৩, ২০২৩ ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ::

মেয়ে সহপাঠীদের বললো ‘বস্তি’, বিচারক মা অভিভাবকদের দিয়ে পা ধরা‌নোর ঘটনায় অভিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রুবাইয়া ইয়াসমিনকে প্রত্যাহার করা

বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে এক বিচারক তার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই বিচারকের মেয়ে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ মার্চ) স্কুলের সামনের রাস্তা বন্ধ করে কয়েক দফায় বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রুবাইয়া ইয়াসমিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে আজ আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ।

এছাড়া এ ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাসহ অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা ও আইসিটি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এ‌বি‌সি টি‌ভি ও মুক্ত বাংলা‌কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিনের মেয়ে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেওয়াকে কেন্দ্র করে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের সঙ্গে সহপাঠী জজের মেয়ের ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট নিয়ে এ ঘটনার সূচনা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী সব শিক্ষার্থীর পালাক্রমে শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার কথা থাকলেও বিচারকের মেয়ে কখনোই শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেয় না। বিষয়টি নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় তার।

এই ঘটনার জেরে সোমবার রাতে ফেসবুকে সহপাঠীদের কটাক্ষ করে একটি পোস্ট লেখে বিচারকের মেয়ে।  পোস্টে সে বলে, “তোরা বস্তির মেয়ে। আমার মা জজ। তোদের মায়েদের বল আমার মায়ের মতো জজ হতে।” এতে কয়েকজন সহপাঠী প্রতিবাদ জানায়।

মেয়ের কাছে বিষয়টি জানতে পেরে বিচারক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনকে মঙ্গলবার ওই ছাত্রীদের অভিভাবকদের ডাকতে বলেন। প্রধান শিক্ষিকার ডাকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চার ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা স্কুলে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে আসেন। ওই সময় সেখানে থাকা বিচারক মেয়ের সহপাঠী ও অভিভাবকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। এছাড়া তিনি দুই অভিভাবককে তার পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খবরটি জানার পর প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ক্লাস বর্জন করে স্কুলের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। দু দফায় রাত ৮ট পর্যন্ত অবরোধ চলে।

ঘটনাস্থলে এসে জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, হাইকোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় ঘটনাটি জেনেছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। নিয়মানুসারে সোমবার বিচারকের মেয়ের শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার কথা ছিল। সে প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও পরে কাজটি করে। এ সময় অন্যরা তাকে কটূক্তি করলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে ডাকা হয়। তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়। অভিভাবকরা ভয় পেয়ে জজের পা ধরে ক্ষমা চান। এ কাজে তাদের কেউ বাধ্য করেননি। আর অভিভাবকদের ক্ষমা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করে।”

এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রুবাইয়া ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।