রাজউকের দুর্বল নজরদারিতে দুর্যোগপ্রবণ পুরান ঢাকা – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাশনিবার , ১ এপ্রিল ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

রাজউকের দুর্বল নজরদারিতে দুর্যোগপ্রবণ পুরান ঢাকা

সম্পাদক
এপ্রিল ১, ২০২৩ ১:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ::

চারশ বছরের সমৃদ্ধ নগরী ঢাকার বয়স নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যেই দ্বিমত আছে। দ্বিতীয় মতটি হলো, বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা ঢাকার বয়স অন্তত হাজার বছরের কম নয়। আজকের সম্প্রসারিত ঢাকায় পুরান ঢাকা হিসেবে পরিচিত অংশটি মূলত বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষা সাতটি বৃহৎ এলাকা। বংশাল, চকবাজার, ইসলামবাগ, মৌলভীবাজার, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগই মূল ঢাকা বা পুরাতন নগরী। ঢাকার ভূমি সম্প্রসারণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকায়ও বেশ পরিবর্তন এসেছে।

একটা সময় ঢাকার এ আদি অংশে এক থেকে তিনতলা বাড়িই ছিল বেশি। গেল দুই যুগে পুরান ঢাকায় ১৮-২০ তলা ভবনও দাঁড়িয়েছে। ১০ তলা বিল্ডিং অহরহ চোখে পড়ছে। উঁচু ভবন নির্মাণ হলেও রাস্তাঘাট কিন্তু বড় হয়নি। ফলে অগ্নি ও ভূমিকম্পের ঝুঁকির সঙ্গে পুরান ঢাকার মানুষের নিত্যবাস। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুরান ঢাকা পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। রাস্তা বড় করার পাশাপাশি উঁচু ভবন নির্মাণের মাধ্যমে পুরান ঢাকা ঝুঁকিমুক্ত করার এ পরিকল্পনার সফলতা নিয়ে সন্দেহে খোদ প্রকল্পসংশ্লিষ্টরাই। নগর বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজউকের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও দুর্নীতিই পুরান ঢাকাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা তৈরিতে সহযোগিতা করেছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার ঘনবসতি ও দুর্যোগপূর্ণ বসবাসের সমাধানে আরবান রিজেনারেশন বা পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পুরান ঢাকার অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলাসহ রাস্তা প্রশস্ত করা হবে। এক্ষেত্রে পুরান ঢাকায় ব্লকভিত্তিক সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা হবে বলেও জানা গেছে। পুরান ঢাকায় ব্লকভিত্তিক উন্নয়নে উৎসাহ দেয়ার জন্য সর্বশেষ প্রণীত ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ ২০২২-৩৫-এ প্রণোদনা দেয়া আছে। পুরান ঢাকায় এলাকাভিত্তিক নির্ধারিত ফ্লোর এরিয়া রেশিও বা ভবনের যে উচ্চতা দেয়া আছে, ভবন মালিক যদি ব্লকভিত্তিক ডেভেলপমেন্ট করে তাহলে ইনটেনসিভ হিসেবে আরো ১ পয়েন্ট বেশি ফ্লোর এরিয়া রেশিও পাবেন। তবে রিজেনারেশনের ক্ষেত্রে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

বহুল প্রচলিত অভিযোগ—ঘিঞ্জি এলাকা পুরান ঢাকার বড় সমস্যা, কথাটি মানতে নারাজ বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরু রাস্তা, দোতলা-তিনতলা ভবন, বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা এগুলো পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। ঘিঞ্জি রাস্তা নয় বরং পুরান ঢাকার বড় সমস্যা নিয়ম ভেঙে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনগুলো। দেখা গেছে, সরু রাস্তার পাশে ১৫-২০ তলা বিল্ডিং দাঁড়িয়ে গেছে। এক্ষেত্রে রাজউক প্রশাসন তার ভূমিকা পালন করেনি। ভবন নির্মাণ শেষে রাজউক থেকে বলা হয়, এত বিশাল বিনিয়োগের ভবন ভাঙা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরান ঢাকায় যদি নিয়মের ব্যত্যয় না করে বড় ভবন না দাঁড়াত এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যদি ব্যবসাটা নিয়ন্ত্রণ করা যেত তাহলে পুরান ঢাকা ঘিঞ্জি-বসবাস অযোগ্য এলাকার তকমা থেকে রক্ষা পেত। মূলত রাজউকের দুর্বলতায় পুরান ঢাকা বাস অযোগ্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হয়ে উঠেছে বলে নগর বিশ্লেষকদের জোরালো অভিমত।

পুরান ঢাকা নিয়ে রাজউকের প্রকল্প নিয়ে নগর বিশ্লেষকরা বলছেন, পৃথিবীর সব শহরেরই পুরান অংশ রয়েছে। সময়ের ব্যবধানে পুরান শহর পুনঃউন্নয়নও হয়েছে। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শহর ঢাকার পুরাতন অংশেরও পুনঃনবায়ন বা পুনঃউন্নয়ন প্রয়োজন। তবে পুরান ঢাকা যেভাবে দুর্যোগপূর্ণ এরিয়ায় পরিণত হয়েছে এজন্য রাজউকের প্রশাসনিক দুর্বলতাই বড় কারণ। বিশেষ করে পুরান ঢাকায় অবস্থিত অতি উচ্চ ভবন ও রাসায়নিক ব্যবসা এ এলাকার বাসযোগ্যতা পুরোপুরি হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। গত দেড় যুগে পুরান ঢাকায় কয়েকটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরও বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেনি রাজউক।

পুরান ঢাকার বাসযোগ্যতা ধ্বংসের ক্ষেত্রে রাজউকের ভুল পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক দুর্বলতাই বড় কারণ বলে মন্তব্য করেছেন আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী স্থপতি তাইমুর ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘‌পুরান ঢাকার বাসযোগ্যতা নষ্ট করার পেছনে রাজউকই প্রধানত দায়ী। রাজউকের নাকের ডগায় পুরান ঢাকার সরু রাস্তায় ১৮-২০ তলা বিল্ডিং দাঁড়িয়ে গেছে। রাজউকই এসব ভবনের অনুমতি দিয়েছে। একদিকে সুউচ্চ বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো তদারকি করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজউকের কর্মকর্তারা ঘুষ খেয়ে, মাসোয়ারা নিয়ে অবৈধ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করেছে। এখন যখন অবৈধ ভবনে পুরান ঢাকার বাসযোগ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে, তখন তারা বলছে এটাকে রি-জেনারেশন করবে।’

শুধু পুরান ঢাকা নয় রাজউকের দায়িত্ব অবহেলা ও ভুল নীতির কারণেই পুরো ঢাকাই দুর্যোগপূর্ণ নগরী হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের অধ্যাপক ড. ইশরাত ইসলাম। এ‌বি‌সি টি‌ভি ও‌দৈ‌নিক মুক্ত বাংলা‌কে ব‌লেন, ‘পুরান ঢাকা রিজেনারেশন প্রকল্প তো ভালো উদ্যোগ। ক্ষেত্রবিশেষ পুরান ঢাকার কোথাও কোথাও বড় বিল্ডিং হতে পারে। ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেও ব্লক-ভিত্তিক ডেভেলপমেন্ট করা যায়। কিন্তু এরই মধ্যে পুরান ঢাকায় যেভাবে অপরিকল্পিত সুউচ্চ ভবন নির্মাণ হয়ে গেছে, এর বেশির ভাগেরই অনুমোদন নেয়া হয়নি। এটা আমার কথা নয়। রাজউকের কর্মকর্তারা এসব বলছেন। রাজউকের তদারকির অভাবে যেভাবে পুরান ঢাকায় বড় বড় ভবন উঠেছে, এতে আক্ষরিক অর্থেই পুরান ঢাকা দুর্যোগপ্রবণ শহর হয়ে উঠেছে। এর দায় তো রাজউক এড়াতে পারে না।’

পুরান ঢাকায় বড় বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসাও বাসযোগ্যতা ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে স্বীকার করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন।

তি‌নি ওবলেন, ‘‌আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি পুরান ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে। কেমিক্যাল ব্যবসা যেন আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয় তা নিয়েও সিটি করপোরেশন উদ্যোগী হয়েছে। পুরান ঢাকার কোথাও কোথাও ফুটপাত দখলে আছে। প্রায় প্রতিদিনই আমরা অভিযান করছি। এটা সত্যি কথা, সিটি করপোরেশনের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা এর মধ্যেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

সার্বিক বিষয়ে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘‌সবাই যেভাবে বলছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ধ্বংস করা হবে সেটা ভুল বার্তা। আমরা ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়েই রিজেনারেশন করব।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।