একজন শের সিং বাঘ সংরক্ষক – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকামঙ্গলবার , ৪ এপ্রিল ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একজন শের সিং বাঘ সংরক্ষক

সম্পাদক
এপ্রিল ৪, ২০২৩ ৩:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দিয়া বিশ্বাস ::

সিংহ কে আমরা যতোই পশুরাজ বলিনা কেন, কোন মানুষের শৌর্য বা পরাক্রমের তুলনা আমরা বাঘের সাথেই করে থাকি। ইতিহাসেই দেখুন না, বাঘ মেরে সাসারামের ফরিদ হয়ে গেল শেরশাহ, বর্ধমানের জায়গীরদার আলি কুলি বেগ হয়ে গেল শের আফগান। অতো দুরেই বা যাচ্ছি কেন, আমাদের বাংলার এক বীর সন্তান বাঘা যতীন নামেই অমর হয়ে আছেন ইতিহাসে!

আজ শোনাবো আরেক পরাক্রমশালী মানুষের কথা। মুস্কিল হলো এনাকে কি বলে পরিচিত করাবো সেটাই বুঝতে পারছি না ! শিকারী, অগ্নিযুগের বিপ্লবী, গেরিলা যোদ্ধা নাকি লেখক বা প্রকৃতি প্রেমিক ? পড়া হয়ে গেলে আপনারাই ঠিক করে নিন। ১৯০৪ সালে বহুমুখী মানুষটি জন্ম নেন হিমাচল প্রদেশে সিমৌর নামে এক করদ রাজ্যে। বাবা চৌধুরী প্রতাপ সিং ছিলেন ওখানকার তহশিলদার। ছোট থেকেই দুরন্ত তাই ছেলের নাম রেখেছিলেন শের সিংহ।‌

ধরাবাঁধা পড়াশোনায় একদম মন ছিলো না, যদিও ছিলেন অসম্ভব মেধাবী। কোনকিছু একবার শুনলে আর ভুলতেন না। প্রাইমারি পাশের পর আর স্কুল মুখো হলেন না। সারাদিন ঘুরে বেড়াতেন বাড়ির পাশে শিবালিক রেঞ্জের জঙ্গলে, পাঠ নিতেন প্রকৃতি থেকে। স্কুল না গেলেও বাড়িতে এক ফরাসী মহিলার কাছে ইংরাজি ও ফ্রেঞ্চ শিখতেন। তাঁর কাছে ফরাসি বিপ্লবের কথা শুনে প্রথম মাথায় আসে সমাজ পরিবর্তনের কথা।

ছোটবেলা থেকেই বন্দুক পিস্তল ছিল নিত্যসঙ্গী, যদিও শখ করে কোনদিন পশুপাখি শিকার করতেন না। মাত্র চোদ্দ বছর বয়সেই ধরাশায়ী করলেন এক মানুষখেকো বাঘকে। ছেলের এই উড়নচন্ডী পানা দেখে বাবা তাকে পাঠিয়ে দিলেন লাহোরে, তার বোনের কাছে। সেখানে নামকরা পাবলিক স্কুলে ভর্তি হয়ে যদি ছেলের মতিগতি শুধরায়। মেধার জন্য অচিরেই নজর কাড়লেন শিক্ষকদের, সহপাঠী ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরাল। বিধাতা পুরুষের ইচ্ছা ছিল কিন্তু অন্যরকম, পিসির বাড়িতে আনাগোনা ছিল ভগত সিংহের। তাঁর অনুপ্রেরণায় অচিরেই তিনি যোগ দেন বিপ্লবী দলে। নিজের উচ্চ বংশ পরিচয় মুছে ফেলতে সিংহ পদবী ছেঁটে ফেলেন। সেদিন থেকে পরিচিত হলেন শের” জঙ্গ”নামে।‌

বন্দুক চালানোয় শের জঙ্গের অসম্ভব দক্ষতা দেখে তার ওপর ভার পড়ে ট্রেন থেকে খাজনা লুট করার। সেই টাকা দিয়ে কেনা হবে বোমা বন্দুক, জেল থেকে ছাড়িয়ে আনতে হবে ভগত ও তাঁর সাথীদের। পরিকল্পনা মাফিক ১৫ই অক্টোবর ১৯২৯ সালে তিনি হানা দেন লুধিয়ানার কাছে আমেগড়ে এক ট্রেন গার্ডের কামরায় । দুর্ভাগ্যবশত সেদিন ওখানে সামান্য টাকা ছিল, ফলে ভেস্তে গেল প্রচেষ্টা। অপরাধীদের খোঁজে ঝাঁপিয়ে পড়লো বৃটিশ প্রশাসন, ফাঁস হয়ে যায় তার আসল পরিচয়। উপায় না দেখে উনি গা ঢাকা দিলেন পরিচিত শিবালিক পাহাড়ের জঙ্গলে।‌ ‌

কয়েকমাস ধরে তল্লাশি চালিয়েও ওনাকে ধরতে না পেরে প্রশাসন সেই আমলে ত্রিশহাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। এমনই এক পোস্টার দেখে শের জঙ্গ নিলেন এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আর কোন বিপ্লবী নিয়েছেন বলে জানা নেই। নিজের বিশ্বস্ত এক কিষাণ কে বললেন তার অবস্থান পুলিশ কে জানিয়ে দিতে, পুরস্কার স্বরূপ যে টাকা পাবে সেটা যেন ভগত সিংহের HSRA দলের কাছে পৌঁছে দেয়। অবশেষে ধরা পড়লেন, বলা ভালো ধরা দিলেন শিবালিকের শার্দুল।‌
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে

বিচারে ফাঁসির হুকুম হলেও সিমৌরের রাজার আপীলে তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বদলে যায়। কারাবাসের দিনগুলো কাটিয়েছেন বিভিন্ন ভাষা শিখে। ইংরাজি ফরাসি উর্দু তো জানতেনই, শিখলেন জার্মান ভাষা। সহবন্দী বটুকেশ্বর দত্তের কাছে শিখে নেন বাংলা। ভালো ব্যাবহারের জন্য ১৯৩৮ সালে ছাড়া পেয়ে বিয়ে করেন নির্মলা দেবী নামে ট্রিবিউন পত্রিকার এক সাংবাদিককে যিনি পরে দিল্লি ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল হয়েছিলেন।

এলো ১৯৪৭, খন্ডিত হয়ে স্বাধীন হলো দেশ। দু’মাস পরেই কাশ্মীর সীমান্তে ঢুকে পড়লো পাক হানাদার বাহিনী। খবর পেয়ে কয়েকজন প্রাক্তন বিপ্লবীকে নিয়ে কাশ্মীর পৌঁছে যান শের জঙ্গ। ভারতীয় সেনার সহায়তায় স্থানীয় যুবকদের নিয়ে তৈরি করেন কাশ্মীর মিলিশিয়া। গেরিলা ট্রেনিং দিয়ে প্রশিক্ষিত করেন তাদের। পাক হানাদারদের এই বাহিনী দিয়ে ঠেকিয়ে রাখেন যতক্ষন সেখানে না পৌঁছায় ভারতীয় সেনা। অসাধারণ এই বীরত্বের জন্য ভারত সরকার তাঁকে সাম্মানিক কর্ণেল উপাধি দিয়ে ভূষিত করে। নেহেরুজীর অনুরোধে পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু ও শিখ রিফিউজিদের পুনর্বাসনে এরপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন জঙ্গ দম্পতি।‌

সুখে শান্তিতে সংসার করা রক্তে ছিল না আজন্ম বিপ্লবী মানুষটির। ১৯৫৫ সালে ছদ্মবেশে চলে যান গোয়ায়। পর্তুগিজ সরকারের বিরুদ্ধে তৈরী করেন গেরিলা বাহিনী, ব্যাতিবস্ত করে তোলেন তাদের। ১৯৬১ সালে গোয়ার ভারত ভুক্তির ফিরে আসেন এদেশে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশে এবার দায়িত্ব নেন অত্যন্ত গোপন এক মিশনের। যশোর সীমান্তের কাছে ১৯৬৮ সালে তৈরী হয় এক গেরিলা ট্রেনিং ক্যাম্প। পূর্ব পাকিস্তানের বাছাই করা যুবকদের গেরিলা যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দেয়া হতো সেখানে, দায়িত্বে ছিলেন কর্ণেল জঙ্গ। প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা কে এখানে ট্রেনিং দেয়া হয় এখানে। সেই হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে ও রয়েছে এই মানুষটির অবদান।‌

১৯৭২ সাল থেকে নিজের সবটুকু নিয়োগ করেন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পে। এককালের শিকারি হয়ে যান আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞে। অবদান রেখে গেছেন সরকারের বেশ কিছু পরিবেশ নীতিতে। জঙ্গলের ওপর লিখে গেছেন দুটি অনবদ্য বই, Tryst with Tigers এবং Ramblings in Tigerland. লিখেছেন হিন্দি ও উর্দুতে বেশ কটি গল্প ও কবিতার বই। ১৯৯৬ সালের ১৫ই জানুয়ারি দিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শার্দুল পুরুষ। স্বাধীনতার বাহাত্তর বছর পরে দেশের অন্যতম কর্মযোগী মানুষটিকে আজ আর কেউ মনে রাখেনি…..জন্মভূমি হিমাচলেও তিনি বিস্মৃত। এটাই বোধহয় তাঁর উত্তর পুরুষদের ব্যার্থতা। জয়হিন্দ স্যার। ‌
‌🌲সংগৃহীত

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।