রূপপুর বিদ‌্যুত কেন্ত্র ফেরা‌তে পা‌রে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের কর্মচাঞ্চল্য – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবুধবার , ১২ এপ্রিল ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

রূপপুর বিদ‌্যুত কেন্ত্র ফেরা‌তে পা‌রে ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের কর্মচাঞ্চল্য

সম্পাদক
এপ্রিল ১২, ২০২৩ ১০:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়া প্রতি‌বেদক ::

সাত বছর ধরে বন্ধ রয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেড ঘিরে সম্প্রতি বিমানবন্দরটি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন করে চালু হলে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিকভাবে বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানেও আসবে পরিবর্তন। বিষয়টি নিয়ে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় সরকারের উচ্চমহলে যোগাযোগ করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীও বলছেন, এ বিমানবন্দর নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ এর বাস্তবায়ন হবে সেটি এখনো ধোঁয়াশায় রয়েছে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নথি থেকে জানা যায়, ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি ১৯৪০-১৯৪৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্থাপিত হয়। ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছিল। ১৯৮৭ সালে লোকসান দেখিয়ে প্রথম বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে ১৯৯৪ সালে বিমানবন্দরটি আবার চালু করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে আবারো বন্ধ ঘোষণা করা হয় বিমানবন্দরটি।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০১৩ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু ছয় মাস ১১ দিন চালু থাকার পর ২০১৪ সালের ২৯ মে আবারো বন্ধ হয়ে যায়। গত সাত বছরে এ বিমানবন্দরে কোনো যাত্রীবাহী ফ্লাইট ওঠা-নামা করেনি। তবে মাঝে মধ্যে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের ওঠা-নামায় এটি ব্যবহার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে নতুন করে বিমানবন্দরটির চাহিদা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে রূপপুরে কয়েক হাজার বিদেশী বসবাস করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈশ্বরদী থেকে ঢাকার দূরত্ব ১৭৫ কিলোমিটার। ঢাকা-আরিচা হাইওয়ে ধরে এ পথ পাড়ি দিতে ৭-৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এ বিমানবন্দর চালু হলে প্রকল্প কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। অল্প সময়ে যাতায়াত সুবিধায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে সরকার ও এ অঞ্চলের মানুষ। পাশাপাশি রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহনের কাজেও এটি ভূমিকা রাখবে।

সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে সফল বিমানবন্দরের জন্য দুটি শর্ত মানা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত যাত্রী ও উড়োজাহাজ ওঠা-নামার জন্য দরকারি অবকাঠামো। পর্যাপ্ত যাত্রী এ অঞ্চলে রয়েছে। এখন দরকার কেবল অবকাঠামোগত পরিবর্তন। তবে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে একটি বিষয় বারবার উঠে আসছে। তা হলো এর এয়ারফিল্ড রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে। এ কারণে ফ্লাইটগুলোকে নো ফ্লাই বিধিনিষেধের মুখোমুখি পড়তে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়তন বাড়িয়ে নিলে এটা খুব বড় সমস্যা নয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো এ বিমানবন্দর চালু হলে কর্মসংস্থান হবে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের। ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার ঘটে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে পাবনা।

আকাশপথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মোংলা ইপিজেড ও মোংলা ইকোনমিক জোনের কার্যকারিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ ডাল গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী সেনানিবাস, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ অঞ্চলে। এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। ঈশ্বরদী ছাড়াও পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর জেলার ব্যবসায়ীদের কাছেও এ বিমানবন্দরের চাহিদা রয়েছে।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আনিছুর রহমান বলেন, ‘দেশী-বিদেশী শিল্পোদ্যোক্তাদের কাছে এ ইপিজেড আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে বিমানবন্দরটি চালু করার বিকল্প নেই। কারণ সড়কপথে আসতে অনেক সময় লাগার কারণে তারা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান না।’ তিনি জানান, বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। গত ৫ মার্চ ইপিজেডে বিনিয়োগের সুযোগ ও টেকসই উন্নয়ন শীর্ষক একটি সেমিনারে এ বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানে আসা শিল্পোদ্যোক্তারা দ্রুত বিমানবন্দর চালুর দাবি জানিয়েছেন। ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সরকারের উচ্চমহলে এরই মধ্যে যোগাযোগ করেছে।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি আলী মর্তুজা বিশ্বাস বলেন, ‘দেশের বর্তমান অবস্থায় যেখানে উন্নয়নের নতুন জোয়ার বইছে সেখানে শতবছরের একটি বিমানবন্দর বন্ধ এটা ভাবতেই কেমন যেন লাগে। এটি চালু হলে আশপাশের জেলাগুলোতেও প্রাণ ফিরবে। সবকিছু ছাপিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও ইপিজেডের জন্য বিমানবন্দরটি অবিলম্বে চালু করা প্রয়োজন।’

কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ দ্রুত যাতায়াতের জন্য প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহী বিমানবন্দর ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ইপিজেডের দেশী-বিদেশী কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

ঈশ্বরদীর সরকার এয়ার এক্সপ্রেস অ্যান্ড ট্রাভেলসের পরিচালক শাহান শাহ আলমগীর বলেন, ‘ঈশ্বরদীকেন্দ্রিক যে পরিমাণ যাত্রী রয়েছে তাতে এখন ঈশ্বরদীতেই চার-পাঁচটি উড়োজাহাজ পরিচালনা করা সম্ভব।’

বেসরকারি সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ ২০১৩ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। ওই সময় ভালো সাড়াও পড়েছিল। অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের মতো সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত হলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এ রুটে আবারো ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাশিয়ান নিকিমত কোম্পানির পরিচালক ইউরি ফেদারোপের বলেন, ‘একটি বিমানবন্দর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা বহন করতে পারে।’

এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রশাসন ও অর্থ কর্মকর্তা অলক চক্রবর্তী বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিমানবন্দরটি চালু করা খুবই প্রয়োজন। বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সহজ যাতায়াত ছাড়াও কেন্দ্রের ফুয়েল বহনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার।’

পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, ‘বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়নি। নতুন করে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে এটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স জানিয়েছেন, এরই মধ্যে কয়েক দফায় কথা বলেছেন বিমান প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে। সংসদেও তুলেছেন। সরকার এ বিমানবন্দর চালুর ব্যাপারে ইতিবাচক। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই চালুর কথাও জানিয়েছেন এ সংসদ সদস্য। সম্প্রতি বিমানবন্দরটি চালুর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ‘ঈশ্বরদী বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এজন্য মেরামত ও সংস্কার প্রয়োজন। এ কাজের ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কাজ চলছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।