রাইটার থেকে কেরানী – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবুধবার , ১৯ এপ্রিল ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

রাইটার থেকে কেরানী

সম্পাদক
এপ্রিল ১৯, ২০২৩ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রানা চক্রবর্তী ::
১৮১০ খৃষ্টাব্দে ‘উইলিয়মসন’ বলেছিলেন যে, কেরানীরা হলেন ‘নেটিভ ক্লার্ক’, আর সেই একই পদ কোন ইউরোপীয় নিলে তাঁকে বলা হয় ‘রাইটার’। তাঁর মতে দুটোর মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না। কিন্তু তবুও গরুর গাড়ির গাড়োয়ানকে যেমন ড্রাইভার বলা চলে না, তেমনি কেরানীকে তখন রাইটার বলা চলত না। ঊনিশ শতকের প্রথম পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত এই দুটি শব্দের চৌহদ্দী স্বতন্ত্র ছিল। সেই সময়ে রাইটার বলতে কেবলমাত্র একজন শ্বেতাঙ্গ মানুষকে নয়, প্রভূত মর্যাদা ও ততোধিক আত্মস্বাতন্ত্র্যবোধসম্পন্ন অভিজাতমন্য একজন বিশিষ্ট মানুষকে বোঝানো হত। নিজেদের দেশে যাই হন না কেন, ভারতে এলেই রাইটাররা তখন কেউকেটা ব্যক্তিতে পরিণত হতেন। কোম্পানীর কাজে যোগ দিয়ে ছ’মাস পার করতে না করতেই তাঁরা নিজস্ব পাল্কি কিনতেন, ব্যক্তিগত পাইক বরকন্দাজ নিয়োগ করতেন, এবং অদৃষ্ট প্রসন্ন থাকলে এস্টেট পর্যন্ত কিনে নিতেন। কিন্তু কর্মচারীদের কোন প্রকারের বিলাসিতাকে কোম্পানীর লণ্ডনস্থ ডিরেক্টররা প্রশ্রয় দিতে রাজি ছিলেন না; আগেও নয়, এবং পরেও নয়।
সপ্তদশ শতকে শহর কলকাতার পত্তন হওয়ার কিছু আগে দেখা গিয়েছিল যে, কোম্পানীর বিভিন্ন কুঠিতে বেনিয়ান, মুৎসুদ্দী, ভকিল, তাগাদগীর, পোদ্দার, এমন কি দেশীয় রাইটাররা পর্যন্ত চাকরি করেছিলেন। তখন তাঁদের প্রত্যেককেই কোম্পানীর কাগজপত্রে ‘ডোমেষ্টিক সার্ভেন্ট’ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। সেই সময়ে তাঁদের ঠিক উপরে ছিলেন সিনিয়র মার্চেন্ট, মার্চেন্ট, ফ্যাক্টর ও রাইটাররা। ১৬৭৯ খৃস্টাব্দে সুবা বাংলার বিভিন্ন কুঠিতে কোম্পানীর বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারীদের সংখ্যা ও তাঁদের বেতন সম্পর্কে একটি নির্দেশনামায় দেখা যায় যে, তখন সমগ্র বঙ্গদেশে কোম্পানীর সিনিয়র মার্চেন্টের সংখ্যা ছিল পাঁচজন, মার্চেন্ট ছিলেন তিনজন, স্যাপলেন ছিলেন একজন, সার্জন ছিলেন একজন, ফ্যাক্টর ছিলেন সাতজন, এবং রাইটার ছিলেন বারোজন। তাঁদের বেতনক্রম ছিল – সিনিয়র মার্চেন্টদের ৪০ টাকা, মার্চেন্টদের ৩০ টাকা, স্যাপলেনের ১০০ টাকা, সার্জনের ৩৬ টাকা, ফ্যাক্টরদের ২০২ টাকা, এবং রাইটারদের ১০২ টাকা। ‘জোব চার্নক’ সেই সময়ে কোম্পানীর সিনিয়র মার্চেন্ট ছিলেন, এবং তাঁর বেতন ছিল ৪০ টাকা। ওই সময়ে ভকিল, মুৎসুদ্দী, বেনিয়ান, তাগাদগীর বা দেশীয় রাইটাররা কোম্পানীর ‘ডোমেষ্টিক সার্ভেন্ট’ হলেও তাঁদের কোন বেতন কিন্তু দেওয়া হত না। সেই নির্দেশনামায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, কোনভাবেই কোন দেশীয় কর্মচারীকে ছাঁটাই করা চলবে না, কারণ তাতে কোম্পানীর দুর্নাম হবে। তবে একই সাথে এটাও বলে দেওয়া হয়েছিল যে, তাঁদের কোন বেতন কিন্তু দেওয়া হবে না; তাঁরা টাকায় এক পয়সা হারে দস্তুরি পাবেন। কড়া নির্দেশ ছিল যে, যদি কোন মার্চেন্ট তাঁদের এর থেকে বেশী কিছু দেন, তবে দাতা ও গ্রহীতা উভয়কেই কর্মচ্যুত করা হবে। তবে যেহেতু তখন ঢাকায় নিযুক্ত কোম্পানীর ভকিলের খরচ কিঞ্চিৎ বেশী ছিল, কাজেই তাঁকে কিছু বেশী দেওয়া যেতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। এখানে কোম্পানীর কর্মচারীদের যে বেতনক্রম উল্লেখ করা হল, সেটা পলাশীর যুদ্ধের প্রায় একশো বছর আগে চালু ছিল। তখন কোম্পানীর ইউরোপীয় রাইটারদের মাসিক বেতন দশ টাকা হলেও, সেদিনের জীবনযাত্রার মান অনুসারে সেই দশ টাকা কিন্তু নেহাত কিছু কম ছিল না। একই সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে, তখনও পর্যন্ত কোম্পানীর কর্মচারীদের বাঁ-হাতে উপার্জনের পথ বেশী উন্মুক্ত হয়নি।
এর একশো বছর পরে, কোম্পানীর অধীনস্থ বঙ্গদেশে দ্বৈতশাসনের আমলে রাইটাররা ‘নাবুব’ (Naboob) হতে শুরু করেছিলেন। ততদিনে বাংলার নবাব-শক্তি ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে পুতুল নবাব মীরকাশিম ও মীরজাফর কোম্পানীর স্থানীয় এজেন্টদের খুশী করবার জন্য নবাবী রাজকোষের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। দেশীয় জমিদার ও ভূমধ্যকারীদের উপরে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে কোম্পানীর সাধারণ কর্মচারীরা তখন দু’হাতে টাকা উপার্জন করছিলেন। বেআইনীভাবে উপার্জিত সেই অর্থের পরিমাণ ও অত্যাচারের প্রকৃতি সম্পর্কে বর্তমানে কিছুই জানা সম্ভব হত না, যদি না তখন হঠাৎই ‘স্যার ফ্রান্সিসের’ সঙ্গে ‘লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসের’ বিরোধটি না বাঁধত, এবং বৃটিশ পার্লামেন্টে হেস্টিংস ও ইম্পের বিচার না হত। বঙ্গদেশে হেস্টিংসের সমগ্র শাসনকালই কোম্পানীর কর্মচারীদের জন্য রাম-রাজত্বের কাল ছিল। ভারতে আসবার জন্য ইংরেজ যুবকেরা তখন পরম উৎসুক হয়ে উঠেছিলেন। তাঁরা জানতেন যে, যেভাবেই হোক একটি চাকরি বাগিয়ে কোনরকমে একবার ভারতে পৌঁছতে পারলেই হল, তারপরে তাঁদের নবাব হওয়া ঠেকানোর সাধ্য কার রয়েছে? সেই সময়ে ভারত থেকে কেউ একবার ইংল্যাণ্ডে ফিরলেই তাঁর প্রতিবেশীদের মধ্যে চাপা গুঞ্জন উঠত, এবং রাতারাতি সেই পরিবারের প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পেত। সেকালের ‘পাব্লিক এডভার্টাইজার’ পত্রিকার বিজ্ঞাপনে তখনকার ইউরোপীয় যুবকদের ভারতে যাওয়ার সেই আকুল আকাঙ্ক্ষাই ব্যক্ত হয়েছিল বলে দেখতে পাওয়া যায় –
“WRITER’S PLACE TO BENGAL. WANTED
A writer’s place to Bengal, for which one thousand Guineas will be given. There is not a third person in this business, and the money is ready to be paid down without any written negotiation.”
তখন কোম্পানীর অধীনে ভারতে চাকরি পাওয়ার সহজতম পন্থা ছিল, কোম্পানীর সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া। এই প্রসঙ্গে ‘হাচিসন’ লিখেছিলেন, “পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর সৈন্যরাই শাসনযন্ত্র পরিচালনার মূলশক্তি। সৈন্যবাহিনীর এই দুই শাখা থেকেই বড় বড় পদগুলিতে লোক নিয়োগ করা হয়। জজ, কমিশনার, ম্যাজিস্ট্রেট, রেভেন্যু অফিসার, সেক্রেটারী, পলিটিক্যাল রেসিডেন্ট তো বটেই, অন্যান্য স্টাফ এপয়েন্টমেন্টও এঁদের মধ্যে থেকে করা হয়। এর ঠিক নিচের স্তরের চাকরিতে ইউরেশিয়ানদের নিয়োগ করা হয়।” ১৮১৮ খৃস্টাব্দে কোম্পানীর লণ্ডনস্থ সদর দপ্তর থেকে কোম্পানীর ভারতস্থ কর্মচারীদের নাম, পদ, বেতন, কার্যকাল ইত্যাদি সম্বলিত একটি রেজিস্টার প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই রেজিস্টারে কোম্পানীর সিভিল সার্ভেন্টদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে দেখা যায় যে তখন বঙ্গদেশে কোম্পানীর ২৪০ জন সিনিয়র মার্চেন্ট, ৯৮ জন জুনিয়র মার্চেন্ট, ৩৬ জন ফ্যাক্টর, ও ৯০জন রাইটার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। কোম্পানী তখনও পর্যন্ত মূলতঃ একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল, তাই বাংলার শাসন ক্ষমতা হাতে এলেও কোম্পানীর শাসনযন্ত্র কিন্তু তখনও পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। যেহেতু তখনও পর্যন্ত কোম্পানীর শাসনের দায়িত্ব পালনের কোন ইচ্ছা ছিল না, সেহেতু তাদের কর্মচারীদের কোন কাজও ছিল না। সেই কারণেই রাইটারদের সংখ্যা তখন মার্চেন্টদের থেকেও কম ছিল। ভারতের মৌ-ভাণ্ডার তখনও নিঃশেষিত হয়ে যায়নি। ঊনিশ শতকে একবার সিভিল সার্ভিস নিয়ে কেউ ভারতে এলে, তিনি পারতপক্ষে আর নিজের দেশে ফিরে যেতে চাইতেন না। যে ২৪০ জন সিনিয়র মার্চেন্টের কথা পূর্বোক্ত রেজিস্টারে উল্লিখিত হয়েছিল, তাঁদের ভারতে কার্যকালের কোন নির্দিষ্ট সীমা ছিল না। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, ১৭৫৫ খৃষ্টাব্দে ‘শেরম্যান বার্ড’ (ঢাকার সিনিয়র জজ) কোম্পানীর চাকরি নিয়ে ভারতে এসেছিলেন, এবং ৫৩ বছর পরেও তিনি বহাল তবিয়তে চাকরিতে নিযুক্ত ছিলেন। ১৭৬৮ খৃষ্টাব্দে ‘অগাস্টাস ব্রুক’ (বেনারসের সিনিয়র জজ) কোম্পানীর চাকরি নিয়ে ভারতে এসেছিলেন, এবং দীর্ঘ ৬১ বছর পরে, অর্থাৎ ১৮৩০ সালেও দেখা তিনি চাকরিতে বহাল থেকে গিয়েছিলেন। কোম্পানীর ১৮১৮ খৃষ্টাব্দের রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ নামগুলির উপরে নজর বোলালে বেশ বুঝতে পারা যায় যে, কোম্পানীর চাকরি তখন বৃটেনের কয়েকটি বিশিষ্ট পরিবারের কুক্ষিগত হয়ে পড়েছিল। ওই সময়ে বার্ড, সিসেলি, প্লাউডেন, মঙ্কটন, বারওয়েল, স্টুয়ার্ট, ডিক, ফ্রেজার, লিন্ডসে, রাসেল পদবীধারী অন্ততঃ চারজন করে কর্মচারী; এবং বেইলি, ক্যাম্পবেল, ডয়েলী, গ্র্যান্ট, হ্যারিংটন, ল, ম্যাকেনজী, মিডলটন, মোলনী, মনিনিসবেট, স্কট, সেক্সপীয়র ও টড পদবীধারী অন্ততঃ তিনজন করে কর্মচারী ভারতে কোম্পানীর কাজে নিযুক্ত ছিলেন। সেই সময়ে একই অফিসে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি চাকরি করেছিলেন, এমন নজিরও কোম্পানীর পুরনো নথিপত্র থেকে পাওয়া যায়। তাঁরা প্রত্যেকেই সিভিল সার্ভেন্ট ছিলেন, কেউই রাইটার ছিলেন না। তবে সেই তালিকায় কোন ভারতীয় কর্মচারীর নাম কিন্তু পাওয়া যায় না। কারণ, ভারতীয়:কর্মচারীরা তখনও পর্যন্ত স্থানীয় ভিত্তিতে ইউরোপীয় অফিসারদের অধীনে তাঁদের ব্যক্তিগত কর্মচারীরূপে কাজে যোগ দিতেন।
এতক্ষণ রাইটারদের কথা বলা হল, এবারে কেরানীদের কথা বলা যাক। কোম্পানীর কেরানীদের সম্পর্কে ইউরোপীয়রা কেউই তাঁদের লেখায় বিশেষ কিছু আলোকপাত করেন নি। উইলিয়মসন কোম্পানীর কেরানীচরিত্র ব্যাখ্যা করেছিলেন, আর ‘ডয়লী’ তাঁদের ছবি এঁকেছিলেন। ১৮১০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত কোম্পানীর কেরানীদের একমাত্র গুণ ছিল তাঁদের পরিচ্ছন্ন হাতের লেখা। তখন দ্রুত ইংরেজী বলতে, এবং লিখতে পারা সত্ত্বেও কেরানীদের অধিকাংশই কিন্তু একবর্ণও ইংরেজী বুঝতেন না। অথচ নিজেদের ইংরেজীজ্ঞানের পরিচয় দেওয়ার জন্য তাঁদের চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না। অভিধান থেকে ভাল ভাল শব্দ ইংরেজী বাছাই করে তাঁরা সেগুলোকে প্রয়োগ করবার সুযোগ খুঁজতেন। উইলিয়মসন লিখেছিলেন, “It may appear strange, but it is perfectly true that many crannies who can read and write English with fluency and correctness, do not understand one word in ten! Some of them merely copyists, and are utterly ignorant as to the sense or purport of letters they transcribe in the highest style of penmanship. Others again affect great erudition, which they are desirous of displaying on all occasions. They pore over dictionaries until they think themselves perfectly finished.” উইলিয়মসন তাঁর লেখায় তাঁদের নিজস্ব ইংরেজীর একটু নমুনাও তুলে ধরেছিলেন। তবে সেকাজ করতে গিয়ে তিনি যে কিছু অতিরঞ্জন করেছিলেন, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই; এবং তখনকার বাঙালী কেরানীরা ভুল ইংরেজী লিখলেও তাতে লজ্জার কিছুই ছিল না। মনে রাখতে হবে যে, তখনও পর্যন্ত ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে মেকলের আবির্ভাব ঘটেনি, এবং সমগ্র দেশে একটিও ইংরেজী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পক্ষান্তরে এমন নজিরও প্রচুর পাওয়া যায় যে, বহু ইংরেজই তখন দীর্ঘকাল ধরে এদেশে বসবাস করা সত্ত্বেও একবর্ণ বিশুদ্ধ বাংলা বলতে পারতেন না। তবে সেই সময়ের বাঙালী কেরানীদের পোশাক সম্বন্ধে উইলিয়মসন যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, একালের তুলনায় সেটা বেশ কৌতুকাবহ। তাঁরা সাদা সাদা পোশাক পরতেন। হাঁটু পর্যন্ত তোলা ধুতি, কোঁচার একটি প্রান্ত রাখালী ভঙ্গীতে কোমরে বাঁধা থাকত। তাঁদের জামার ঝুল হাঁটুরও নিচে গিয়ে ঠেকত। কোঁচার একটি প্রান্ত কখনো কোমরে জড়ানো থাকত, তো আবার কখনো ঘাড়ের উপর ফেলে রাখা হত। তাঁদের মাথার পাগড়ীটি আকারে ছোট হলেও বেশ দৃঢ় সংবদ্ধ ছিল। মাথা আদ্যোপান্ত কামানো ছিল। স্রেফ চাঁদিটুকু বাদ দিয়ে বাকী মাথা পাগড়ী দিয়ে ঢাকা থাকত। সেই অনাবৃত চাঁদির পিছন দিক থেকে এক ইঞ্চি মোটা টিকি থাকত, এবং সেটা প্রায়ই গিঁট দেওয়া অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখা যেত। সেই টিকিতে ভুলক্রমে হাত দিলে, বা সেটা সম্পর্কে কোন বিরূপ মন্তব্য করলে তাঁরা ভয়ঙ্কর চটে যেতেন, এবং প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে বসতেন। একালের জিন্স ও রেডিমেড টিশার্ট পরিহিত কেরানীরা তাঁদের পুর্বসূরীদের বেশ বৈচিত্রের কথা একবার ভেবে দেখতে পারেন। তখনও পর্যন্ত বাংলার কেরানীকুলে কায়স্থরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। এমনকি এর আগের নবাবী আমলেও নবাবের হিন্দু কর্মচারীদের মধ্যে কায়স্থরাই ছিল সবচেয়ে বেশি কুলীন ছিলেন। হাচিসন বাংলার কায়স্থদের সম্পর্কে ঊনিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে লিখেছিলেন, “… from the ranks of the Hindoos issue that great class of enterprising and educated men called Kayasthas or writers, who discharge most important duties in Government law courts and mercantile offices.”
(তথ্যসূত্র:
১- The European in India, Thomas Williamson.
২- Hutchinson’s story of the nations.
৩- Calcutta old and new, H.E. A. Cotton.)
©️রানা চক্রবর্তীর ফেসবুক পেইজ থে‌কে সংগৃহীত ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।