বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বিচারের মুখে চেয়ারম্যান – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবুধবার , ৭ ডিসেম্বর ২০২২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বিচারের মুখে চেয়ারম্যান

সম্পাদক
ডিসেম্বর ৭, ২০২২ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

আ‌রিফ নি‌শির ::

ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম সামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) দেয়া এক অভিযোগে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া এক রোগীর পরিবার দাবি করেছে, চিকিৎসার যথাযথ পদ্ধতি না মেনে রোগীর জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছেন ডা. এম সামসুল আরেফিন।

বিএমডিসিতে গত ২৫ আগস্ট ডা. এম সামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নেয়া এক রোগীর পরিবার। অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করছে বিএমডিসি। একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও। এছাড়া রোগীর পরিবার অভিযুক্ত চিকিৎসকের নামে রাজধানীর আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগেও একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

বিভিন্ন সময়েই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের শীর্ষ নির্বাহী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠতে দেখা যাচ্ছে। এমন এক অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় গত মাসেই রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী জাহীর আল-আমীনের নিবন্ধন এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে বিএমডিসি। একই সঙ্গে তিনি এ এক বছর চিকিৎসা দিতে বা চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না বলেও জানিয়েছে বিএমডিসি। উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণ হলে আলী জাহীর আল-আমীনের মতো শাস্তির মুখে পড়তে পারেন ডা. এম সামসুল আরেফিনও।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এম সামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে বিএমডিসিতে দায়ের করা অভিযোগে ভুক্তভোগী রোগীর পিতা জানিয়েছেন, ২৮ বছর বয়সী ওই নারী রোগী অধ্যাপক ডা. এম সামসুল আরেফিনের কাছে পেটে ব্যথার চিকিৎসা নিচ্ছেন ২০১৭ সাল থেকে। বর্তমানে ডা. সামসুল আরেফিন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি বিভাগের চিকিৎসকের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভুক্তভোগী রোগীর পেটের পীড়া বেড়ে যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডা. সামসুল আরেফিন জানান, রোগীর পেটে অগ্ন্যাশয়ে একটি সিস্ট আছে, যা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে অপসারণ করা যাবে। গত ৯ আগস্ট রোগীর সিস্ট অপসারণের লক্ষ্যে অপারেশন থিয়েটারে না নিয়ে এন্ডোস্কোপি ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়। ২ ঘণ্টায়ও এন্ডোস্কোপির কাজ শেষ না হওয়ায় রোগীর অবস্থা জানতে চায় পরিবার। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে সে সময় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে হবে বলে জানান ডা. সামসুল আরেফিন। যদিও বিষয়টি সার্জন ডা. ইমরুল হাসান খানের গোচরীভূত হলে তিনি জানান, সিস্ট অপসারণের সময় রোগীর একটি ধমনি কেটে গিয়েছে, যা এন্ডোস্কোপির সময় পুনরায় জোড়া লাগানো যায়নি। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে রোগীর বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা ১ শতাংশ। পরিবারের সম্মতিতে ডা. ইমরুল হাসান খান রোগীর অস্ত্রোপচার করে ধমনী জোড়া লাগিয়ে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। পরে ওই ভুক্তভোগী রোগীর পরিবারকে ৪ লাখ টাকার বেশি অংকের বিল ধরিয়ে দিয়ে তা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে ওই রোগী বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত কোনো জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলেও ভুক্তভোগী রোগীর কোনো অস্ত্রোপচার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শুধু ডা. এম সামসুল আরেফিন নয়, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হসপিটালের আরো কয়েক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিএমডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আরো বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ এসেছে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায়ই হাসপাতালটির আরো দুই চিকিৎসকের নামে নতুন আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিএমডিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডা. মনিরুল ইসলাম ও ডা. ইসরাত জাহান লাকির অবহেলায় আট বছরের এক কন্যাশিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেন শিশুটির মা। আদাবর থানায় সাধারণ ডায়েরির পাশাপাশি হাইকোর্টেও একটি রিট করেছেন তিনি।

শিশুটির মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুল চিকিৎসায় তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তার সন্তানকে জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় ডা. মনিরুল ইসলামের পরামর্শে জরুরি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর পরই শিশুটিকে ক্যানুলা পরিয়ে পিআইসিইউতে (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রোগ নির্ণয় না করেই শিশুটির ভুল চিকিৎসা শুরু করেন। ডা. মনিরুল ইসলামের চিকিৎসাধীন থাকলেও হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে শিশুটির সব ওষুধসংক্রান্ত নির্দেশনা দেন আরেক চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান লাকি।

অভিযোগকারীর দাবি, ইসরাত জাহান লাকি রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে শিশুটিকে একের পর এক উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দিয়েছেন। ভুল স্যালাইন ও ইনজেকশন প্রয়োগের ফলে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সে সময় চিকিৎসকরা শিশুটির পরিবারকে কখনো ম্যালেরিয়া আবার কখনো টাইফয়েডের কথা বলছিলেন। যদিও তার রোগ নির্ণয়ে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়নি। পরে শিশুটির বুকে এক্স-রে করে ফলাফল স্বাভাবিক পাওয়া গিয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে মেয়েকে দেখতে চাইলে দায়িত্বরতরা তাকে সেখানে যেতে দেননি। ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে জানানো হয়, তার মেয়েকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। এ সময় লাইফ সাপোর্টের কাগজে তার জোরপূর্বক সই নেয়া হয়।

শিশুটির মা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লাইফ সাপোর্টে নেয়ার আগেই আমার মেয়ে মারা যায়। তারা বিষয়টি আমাদের কাছে গোপন করে। এরপর আরো বেশ কয়েকটি বিভিন্ন কৌশলে লাইফ সাপোর্টে রাখার চেষ্টা করেছিল। পরে আমাদের চাপাচাপিতে মৃত্যুর কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। মৃত্যু সনদে ডেঙ্গুর কথা লিখলেও কোনো ডেঙ্গুর পরীক্ষা করা হয়নি। অবহেলার কারণে আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।’

একের পর এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির চিকিৎসার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্যমতে, হাসপাতালের সার্বিক মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি বেশকিছু অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও উঠেছে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ। এমনকি খোদ হাসপাতালের চেয়ারম্যানও এ অভিযোগ থেকে মুক্ত নন।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এম সামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে উল্লেখ করে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর দুই পক্ষকেই ডাকা হয়েছে। একটি শুনানি হয়েছে। এরপর আরো পদক্ষেপ রয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা চলছে। এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে ডা. এম সামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী রোগীর পিতার সঙ্গে কথা বলেছে বণিক বার্তা। তার অভিযোগ, রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ার পর তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি ডা. সামসুল। তিনি রোগীকে আইসিইউতে নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার পর অন্য কোনো চিকিৎসককেও বিষয়টি তিনি জানাননি। ঝুঁকি রয়েছে জেনেও রোগীর গ্রুপের রক্ত আগে থেকে প্রস্তুত রাখা হয়নি। পরে ওই সার্জন বিষয়টি বুঝতে পেরে হস্তক্ষেপ করেন।

ভুক্তভোগী রোগীর পিতা বলেন, ‘এ অপচিকিৎসার কারণে আমার মেয়ের ছয় মাসের মধ্যে কোনো অপারেশন করা যাবে না। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো দুঃখ প্রকাশ করেনি। আমরা যখন অভিযোগ করতে বিএমডিসি ও থানায় যাই, তখন হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল এমরান চৌধুরী ফোন করে আমাদের ডেকে নেন। হাসপাতালে যে বিল পরিশোধ করেছি তা এক রকম ফেরত দেয়ার কথা বলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানাভাবে সমঝোতার চেষ্টা করে। তবে পৃথিবীর কোনো কিছুর বিনিময়েই আমরা সমঝোতা করতে রাজি নই। ডা. সামসুল আরেফিনও দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেছেন, জরুরি চিকিৎসার জন্য কোনো ব্যাকআপ টিম প্রস্তুত রাখার প্রয়োজন বোধ করেননি তিনি। আমরা বিষয়টির বিচার চেয়েছি। হাইকোর্টে রিট করেছি। থানায় জিডি করেছি।’

হাসপাতালের দেয়া ওই রোগীর ছাড়পত্রে বলা হয়, রোগীর এন্ডোস্কোপি করা হয় গত ৯ আগস্ট। এ সময় দুর্ঘটনাবশ

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।