গভর্নমেন্ট হাউজ থেকে বঙ্গভবন – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকারবিবার , ২৩ এপ্রিল ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

গভর্নমেন্ট হাউজ থেকে বঙ্গভবন

সম্পাদক
এপ্রিল ২৩, ২০২৩ ৩:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক::

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বাসভবনকে বলা হয় বঙ্গভবন। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে প্রাদেশিক শাসনকর্তার কার্যালয় ও বাসভবন হিসেবে এটির নির্মাণ শুরু হয়। ১৯০৬ সালে ‘‌গভর্নমেন্ট হাউজ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়। দেশ বিভাগের পর এর নামকরণ করা হয় গভর্নর হাউজ। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ২৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ গভর্নর হাউজে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা করেন। ওই সভা থেকেই গভর্নর হাউজের পরিবর্তে বঙ্গভবন নামকরণ করা হয়।

ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে ১৯০৫ সালে গঠন করা হয় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ। প্রাদেশিক রাজধানী করা হয় ঢাকাকে। নবসৃষ্ট প্রদেশের প্রধান শাসনকর্তা তথা লেফটেন্যান্ট-গভর্নর নিযুক্ত হন ইন্ডিয়ার সিভিল সার্ভিসের সদস্য স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার। নবনিযুক্ত প্রাদেশিক শাসনকর্তার অফিস ও বাসভবন নির্মাণের জন্য ঢাকার তৎকালীন নবার স্যার খাজা সলিমুল্লাহ তাদের পারিবারিক দিলখুশা বাগানবাড়ির জমি প্রদান করেন। গভর্নরের অফিস ও বাসভবন নির্মাণ করার সিদ্ধান্তের পর ১৯০৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে শুরু হয় এটির নির্মাণ কাজ। ভবন নির্মাণ শেষে এটি অস্থায়ী গভর্নমেন্ট হাউজ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯০৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ব্যামফিল্ড ফুলার প্রাদেশিক প্রধান শাসনকর্তা হিসেবে অস্থায়ী গভর্নমেন্ট হাউজে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেন। পরবর্তীকালে ‌দিলকুশা গভর্নমেন্ট হাউজ নামেই পরিচিতি লাভ করে।

১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পরও গভর্নমেন্ট হাউজের গুরুত্ব অব্যাহত থেকেছে। ১৯১২ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বহু ব্রিটিশ গভর্নর ঢাকায় এসেছেন এবং গভর্নমেন্ট হাউজে অবস্থান করেছেন।

প্রায় দুইশ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সময়ে পূর্ববাংলা পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত হয়। সে সময়ও ঢাকাকে করা হয় প্রাদেশিক রাজধানী। নতুন প্রাদেশিক শাসনকর্তার নামকরণ করা হয় ‘‌গভর্নর’ এবং দিলকুশা গভর্নমেন্ট হাউজকেই তার কার্যালয় ও বাসভবন নির্বাচিত হয়। এ সময় ‘‌গভর্নমেন্ট হাউজ’ এর নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয় ‘‌গভর্নর হাউজ’।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর স্যার ফ্রেডারিক বোর্ন থেকে ১৯৭১ সালের সর্বশেষ গভর্নর ডা. এ. এম. মালিক পর্যন্ত গভর্নরগণ এ হাউজে অবস্থান করেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সৃষ্টি হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে বাঙালি জাতি। মুক্তিযুদ্ধকালীন বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয় যা ‘‌মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি করা হয়। তার অবর্তমানে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যগণ ২৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ গভর্নর হাউজে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গভর্নর হাউজকে নতুন করে ‘‌বঙ্গভবন’ নামকরণ করা হয়।

রাজধানীর মতিঝিলে প্রায় ২৩ দশমিক ৫ হেক্টর জমির উপর বঙ্গভবন অবস্থিত। চতুর্দিকে উঁচু প্রাচীরবেষ্টিত বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বাসভবন ছাড়াও রয়েছে উন্মুক্ত জায়গা, নানা প্রজাতির ফুল-ফল-ভেষজ ও বাহারি গাছের সমন্বয়ে মনোরম উদ্যান; হরিণ, বানরসহ নানা জাতের পাখপাখালি; পুকুর ও দিঘি।

বঙ্গভবনে প্রবেশের মূল ফটক পেরিয়ে উত্তরে রয়েছে বিশাল আম্রকুঞ্জ, দক্ষিণে নয়নাভিরাম গোলাপ বাগান। প্রধান ভবনের উত্তরে রয়েছে উন্মুক্ত একটি সবুজ চত্বর। মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপনে এ চত্বরটি ব্যবহৃত  হয়। বিভিন্ন দেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতগণ তাদের পরিচয়পত্র পেশকালে এখানে ‘‌গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

বঙ্গভবনে দানাদিঘি, সিংহ পুকুর ও পদ্মপুকুর নামে তিনটি পুকুর রয়েছে। মৎস্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে এসব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ হয়। বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে রয়েছে শাহজালাল দখিনি (র) ও তার সঙ্গীদের মাজার। এছাড়াও আরো দুটি মাজার রয়েছে যার একটি নওগোজি শাহ্ এবং অন্যটি চন্দন শাহের মাজার বলে ধারণা করা হয়।

বঙ্গভবনের মূলভবনে রয়েছে ঐতিহাসিক দরবার হল। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এই দরবার হলে। রাষ্ট্রীয় সফরকালীন বন্ধুপ্রতীম দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণের সম্মানে দরবার হলে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হয়। ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আজহা, জন্মাষ্টমী, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন, বাংলা নববর্ষসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানমালা এ দরবার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।