লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সিরামিক রফতানি ১১.৩২% কম – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাশনিবার , ২৯ এপ্রিল ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সিরামিক রফতানি ১১.৩২% কম

সম্পাদক
এপ্রিল ২৯, ২০২৩ ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক::

রফতানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবারো ব্যর্থ হয়েছে দেশের সিরামিক খাত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি সামান্য বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ কম। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াকেই এজন্য দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ কোটি ডলার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রফতানি হয়েছে ৩২ দশমিক ৩ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছে ৩১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে সিরামিক খাতে রফতানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ কম হয়েছে। যদিও সে মাসে রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ খাতে রফতানি হয় ২ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য। এ সময়ে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার কম রফতানি হয়েছে।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন বলেন, ‘গত নয় মাসের মধ্যে জুলাই থেকেই দিনের অর্ধেক সময়ই আমাদের উৎপাদন বন্ধ ছিল গ্যাস সংকটের কারণে। সবগুলো কারখানাতেই এ সমস্যা ছিল যেটির প্রভাব পড়েছে রফতানিতে। এখন গ্যাসের দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহ ঠিক হয়েছে ফেব্রুয়ারি থেকে। গ্যাস সংকটের কারণে ১২ ঘণ্টা পর্যন্তও উৎপাদন বন্ধ ছিল। এটি কমতে কমতে এখন ১ ঘণ্টায় নেমে এসেছে। ফলে উৎপাদন ও রফতানি দুটিই কমেছে। এছাড়া গ্যাস ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে ৫০ শতাংশের মতো।’

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সিরামিক খাতে (প্রায়) টাইলস ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, স্যানিটারি ওয়্যার ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার, টেবিলওয়্যার ৩ কোটি ৭২ লাখ ১৮ হাজার ডলার, সিরামিক ব্রিকস ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়। সে বছর মোট রফতানি হয় ৪ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ডলার।

বিসিএমইএর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে রফতানি হয় বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য। মোট রফতানি পণ্যের ২০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে ও ৩০ শতাংশ যায় ইউরোপে। বাকি ৫০ শতাংশ রফতানি হয় বিশ্বের অন্যান্য দেশে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে রফতানিতে কিছুটা মন্থর হয়েছে।

বিসিএমইএ বলছে, দেশে এখন ৭০টি সিরামিক কারখানা আছে। এসব কোম্পানিতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আছে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত বেশির ভাগ সিরামিক যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, পোল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, তুরস্ক, রাশিয়া, স্পেন, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, ব্রুনাই, কানাডা, কলম্বিয়া, চিলি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইরান, আয়ারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিরামিকপণ্য রফতানি হচ্ছে। এক দশক আগেও নামমাত্র রফতানি ছিল সিরামিক পণ্যের। তবে ২০১৬ সাল থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। গত তিন বছরে এ পণ্যের রফতানি বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ।

এদিকে সিরামিক খাতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে অন্তত ৫০ শতাংশ। এর জন্য সংশ্লিষ্টরা অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। ২০১৯ সালে কারখানা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পায় অন্তত ৩৮ শতাংশ। সে সময় সিরামিক উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ। ২০২২ সালে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পায় ৪০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় ১৫৫ শতাংশ। জ্বালানি বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী, বড় শিল্প খাতে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে শিল্পগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইউনিটপ্রতি গ্যাসের দাম ৩০ টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৬ টাকা। কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশান অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্যমতে, ৩১ জুলাই ২০০৯ থেকে ১ জুলাই ২০১৯ সাল পর্যন্ত উৎপাদন খাতে (শিল্প বয়লার) গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, সিরামিক শিল্পের কাঁচামালের অন্যতম প্রধান উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় গ্যাস। সিরামিক পণ্যের মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ১২ শতাংশই হয় গ্যাসের জন্য। কিন্তু গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও তৈরি করা পণ্যের মূল্য ইচ্ছামতো বাড়ানো যায় না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।