জাপায় ফের গৃহদাহ চাচার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাতিজা, সম্মিলিত জোটে বিদিশা – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাশনিবার , ২৯ এপ্রিল ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাপায় ফের গৃহদাহ চাচার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাতিজা, সম্মিলিত জোটে বিদিশা

সম্পাদক
এপ্রিল ২৯, ২০২৩ ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ::
জাতীয় পার্টিতে ফের গৃহদাহ শুরু হয়েছে। এতদিন দেবর জি এম কাদেরের সঙ্গে ভাবি রওশন এরশাদের দ্বন্দ্বে এবার যুক্ত হয়েছেন রওশনপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ। সম্প্রতি সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে দলকে চাঙা করতে সারা দেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রওশনপন্থিদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। এ উপলক্ষে আয়োজিত জরুরি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাদ এরশাদ। এদিকে এরশাদের মৃত্যুর আগেই বিবাহবিচ্ছেদ নেয়া বিদিশা সিদ্দিকও জাতীয় পার্টির উত্তরাধিকার দাবি করছেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডকে পাত্তা দিচ্ছেন না জাতীয় পার্টিতে জি এম কাদেরের অনুসারী নেতারা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার দৈ‌নিক মুক্ত বাংলাকে বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং দল তৈরি করার যে সংস্কৃতি, তাতে এই দলটা কতটুকু টিকে থাকবে, সেটা আগামী নির্বাচনে বোঝা যাবে। আগে ছিল দলের ভেতর, এখন ঘরের ভেতর গৃহদাহ। এই ধরনের দল গণতন্ত্রের বিকাশে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। বড় দলগুলো চায় যত বেশি ছোট দলকে নিজেদের পক্ষে রাখা যায়। তাই তাদের একটি অংশ হয়তো চাচ্ছে যত বেশি শক্ত অবস্থান নেয়া যাবে, তত বেশি ভাগ নেয়া যাবে। আরেকটা অংশ হয়তো ভাবছে চাপের মধ্যে রাখি, না হলে হয়তো কিছুই পাব না। এদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, এদের কোনো আইকন নেই। যতদিন পর্যন্ত তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, ততদিন উনি কোনোভাবে চালিয়েছেন। উনি চলে যাওয়ার পর কেউ কাউকে মান্য করে না, মান্য করার সংস্কৃতিও নেই।

জি এম কাদেরপন্থি নেতারা মনে করছেন, জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে রওশন-জি এম কাদেরের মাঝে একটা প্রতিযোগিতা রয়েছে। তার অংশ হিসেবেই সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেটা সমঝোতা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রওশনের কার্যকলাপে মনে হচ্ছে তিনি নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে চাচ্ছেন না। রওশনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির একটি গ্রুপ মিশে গেছে, যারা সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। রওশনকে সামনে রেখে সরকারের সুদৃষ্টি পেতে চায়। তবে বিষয়টি এত সহজ নয়।

ওই নেতারা বলছেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভা মনে করে, এখন যেভাবে চলছে, সেভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকার কোনো অর্থ নেই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে সম্মানজনকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হতে পারে। বিএনপির সঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। জাতীয় পার্টির ৮০ শতাংশ নেতা-কর্মী জি এম কাদেরের সঙ্গে আছে। সেই হিসাবে সাংগঠনিকভাবে জি এম কাদের অনেক শক্তিশালী।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে- রওশন এরশাদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক মুক্ত বাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডাম তো কথা বলতে পারেন না ঠিকভাবে। ওই দিন দেখলাম রাঙ্গা ভাই জোর করে ওনাকে দিয়ে এ কথা বলালেন। এইটা আমাদের প্রেসিডিয়াম সভা অনুমোদন করে না। নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া।’

দলীয় সূত্র বলেছে, গত রোববার রাজধানীর বারিধারায় বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের মুখপাত্রের বাসভবনে ঈদ পুনর্মিলনী ও জরুরি সভা করে রওশনপন্থি জাতীয় পার্টির জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ। ওই সভায় মে মাসকে সাংগঠনিক মাস ঘোষণা করে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা সফরের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর জুনের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে প্রতিনিধি সভা করার পক্ষে চূড়ান্ত মত গ্রহণ করা হয়। জেলা সফর সম্পন্ন করার জন্য চারটি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতী দৈনিক মুক্ত বাংলাকে বলেন, ‘দলে বিভক্তি এনে কেউ লাভবান হবেন না। উল্টো দলের ক্ষতি হবে, কর্মীরা বিপদে পড়বে। আমাদের দলের ঐক্য অটুট রাখতে হবে।’

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের দৈনিক মুক্ত বাংলাকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির রাজনীতি যে মানুষের জন্য তা আমরা তুলে ধরছি। আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যারা জাতীয় পার্টির নাম ব্যবহার করে নিজেদের আলাদা দাবি করে, তাদের এসব করে লাভ হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, কিছু লোক এমন করছে। যারা জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করতে চায়, নিজেদের পকেটে রাখতে চায় তারা এসব করছে। আমি তো মূল ধারার কাউকে এমন করতে দেখছি না। এসব করে লাভ হবে না।’

এ প্রসঙ্গে রওশনপন্থি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় নেতার রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ্ দৈনিক মুক্ত বাংলা‌কে বলেন, ‘আমাদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বর্ধিত সভা আগামী মাসে হবে। ম্যাডাম চাচ্ছেন সবাইকে নিয়ে সম্মেলন করে নির্বাচনের আগে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে। কিন্তু ওনারা (জি এম কাদের) কেন চাচ্ছেন না তা আমি জানি না।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি হবে না।’

জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরপন্থিরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এখন পর্যন্ত ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা ঠিক হবে আরও পরে। ঈদের পর দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠক ডাকার কথা রয়েছে। সেখানে মূলত জাতীয় পার্টি এককভাবে নাকি জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে তা ঠিক করা হবে। জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও এখানে দুটি বিষয় রয়েছে। একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া, অন্যটি হচ্ছে জাতীয় পার্টিসহ অন্য কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া। অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে জি এম কাদের তার কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জি এম কাদেরপন্থি এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান-আমেরিকা সফরের পর আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা সরকারের অনুকূলে থাকবে, সেটার পরিষ্কার বার্তা পাওয়া যাবে। তখন পরিস্থিতি বলবে সরকারের সঙ্গে থাকব, নাকি ভিন্ন চিন্তা করব। আর সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে জি এম কাদের তার রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক করবেন। তবে মুখে বিরোধিতা করলেও এখন পর্যন্ত জি এম কাদেরও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেই আসছেন।

জি এম কাদেরপন্থিরা বলছেন, রওশন এরশাদের সঙ্গে জি এম কাদেরের নিয়মিত কথা হয়। তার পক্ষ থেকে অনেক সুপারিশ আসে, যেগুলো জি এম কাদের মেনে চলছেন। এরপর রওশনপন্থি হয়ে যারা দ্বন্দ্ব তৈরি করে রাখছেন, তাদের বিষয়টিও দলের প্রেসিডিয়াম সভা ডেকে সুরাহা করা হবে। এই ক্ষেত্রে রওশন এরশাদ যদি প্রেসিডিয়ামের সভায় নেয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হন, তাহলেও তার বিষয়ে কী করণীয় তাও পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে রওশনপন্থি হিসেবে পরিচিত যাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের কাউকে ফিরিয়ে না নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছেন জি এম কাদের।

রওশনপন্থি নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ পরপর দুবার রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছে। ফলে সেই কৃতজ্ঞতা থেকে এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে আগামীতেও সরকার গঠন করার সম্ভাবনা বেশি আওয়ামী লীগেরই। তাই রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা আগামী নির্বাচনেও সরকারের সঙ্গে থাকবেন। আর এখন যারা রওশন এরশাদের সঙ্গে আছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করা। এ জন্য জি এম কাদেরকে চাপে রেখে দলে ফেরা এবং সমঝোতা করাই মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া জি এম কাদেরের সঙ্গে যারা আছেন, তারাও অনেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে রওশন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। যাতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়।

এদিকে ২০২১ সালে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করলে তখন জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে নতুন করে আবির্ভাব ঘটে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের। তখন তার সঙ্গে ছিলেন কাজী মামুনুর রশীদসহ দলছুট অনেক নেতা-কর্মী। এরপর ওই বছরের ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদ জাতীয় পার্টির ‘নতুন কমিটি’ ঘোষণা করেন। সেই অনুষ্ঠানে এরশাদের আরেক ছেলে সাদ এরশাদ যোগ দেন। ওই কমিটিতে রওশনকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানও করা হয়। সে সময় রওশনের সঙ্গে বিদিশার সখ্য গড়ে ওঠে। রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি রওশনকে দেখতেও যান বিদিশা। কিন্তু ওই বছরের ৪ নভেম্বর বিদিশা নিজেকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ফলে তারা জাতীয় পার্টি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসেন। বর্তমানে বিদিশা সিদ্দিক ২০১৭ সালে এরশাদ ঘোষিত ৫৮ দলীয় সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান। এই জোটকে নিয়ে সরকারের সঙ্গে থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

বিদিশা সিদ্দিক দৈনিক মুক্ত বাংলাকে বলেন, ‘সারা দেশে জাতীয় পার্টিকে আড়াই বছর ধরে পুনর্গঠন করছি। আমি মনে করি তরুণদের ছাড়া রাজনীতি এগোতে পারবে না। আগামীতে তরুণদের নিয়ে সংসদে যাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী। জাতীয় পার্টি পুনর্গঠনে সারা দেশে ৪৭টি জেলায় কমিটি আছে। সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শিগগিরই জেলা সফরে নামব।’ তিনি জানান, এরশাদ ঘোষিত ৫৮ দলীয় সম্মলিত জাতীয় জোটে এখন ৬০ দল আছে এবং ওই জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা ১০০টি আসনকে লক্ষ্য করে কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে সরকার সহযোগিতা করবে। তার পরও আলাপ-আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হ‌বে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।