অনুমোদনের আড়াই গুণ খরচ করেও প্রধান কার্যালয় দাঁড় করাতে পারেনি ন্যাশনাল ব্যাংক – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবুধবার , ১০ মে ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

অনুমোদনের আড়াই গুণ খরচ করেও প্রধান কার্যালয় দাঁড় করাতে পারেনি ন্যাশনাল ব্যাংক

সম্পাদক
মে ১০, ২০২৩ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হাবিব এরফান ::

জমির খরচ বাদ দিয়ে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কভিডপূর্ব কালে ভবনের প্রতি বর্গফুটে ব্যয় হতো ১ হাজার ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও নির্মাণ খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণসামগ্রী ও উপকরণের দাম বাড়ায় এখন ব্যয় বাড়লেও তা সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় নির্মাণ করতে গিয়ে এরই মধ্যে বর্গফুটপ্রতি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৩২ টাকায়। ২০০৯ সালে শুরুর পর এখনো শেষ করা যায়নি ভবনটির নির্মাণকাজ। বরং অর্থাভাবে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে ২০২১ সালের মে মাস থেকে।

ভবনটি নির্মাণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছিল ১৯৫ কোটি টাকা। যদিও এরই মধ্যে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২৩ কোটি টাকায়। প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনুমোদনের চেয়ে আড়াই গুণেরও বেশি ব্যয়কে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কয়েক দফায় ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। তার পরও ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরো অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়। এ অবস্থায় পরামর্শ ও নির্দেশ পরিপালন না করার দায়ে ব্যাংকটিকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, শুরুতেই ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। প্রতি বর্গফুট ৫ হাজার টাকা করে মোট ধরা হয়েছিল ১৭৭ কোটি টাকা। যদিও এরই মধ্যে ভবনটির প্রতি বর্গফুট নির্মাণে নিজের নির্ধারিত ব্যয়ের প্রায় তিন গুণ খরচ করে ফেলেছে ব্যাংকটি।

ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের এ ব্যয়কে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কয়েক দফা ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। তার পরও ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে আরো অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়। এ অবস্থায় পরামর্শ ও নির্দেশ পরিপালন না করার জন্য ব্যাংকটিকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নির্মাণ প্রকৌশলী ও আবাসন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণ উপকরণের দাম বাড়ার আগে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ভবন নির্মাণে ব্যয় হতো ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মতো। আর দাম বাড়ার পর প্রতি বর্গফুট ভবনের মৌলিক কাঠামো নির্মাণে সর্বোচ্চ ব্যয় হতো ৩ হাজার টাকা। ভবনে ভূমিকম্প সহনশীলতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলতেও এর চেয়ে বেশি ব্যয় হওয়ার কথা নয় বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ‘কভিড সংক্রমণের আগে বহুতল ভবনের মৌলিক কাঠামো তৈরিতে প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা ব্যয় হতো। এখন নির্মাণ উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ ব্যয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কোনো ভবন নির্মাণে যদি এর চেয়ে বেশি ব্যয় হয়, তাহলে সেখানে অপব্যয় ও দুর্নীতি হয়েছে বলে মনে করার অবকাশ থাকে।’

প্রধান কার্যালয়ের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের নির্মাণাধীন ভবনটির অবস্থান রাজধানীর কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার পশ্চিম পাশে। নিজস্ব জমিতে তিন বেজমেন্টসহ ১২ তলাবিশিষ্ট পাশাপাশি দুটি ভবনের নাম দেয়া হয়েছে ‘টুইন টাওয়ার’। মোট ফ্লোর স্পেসের আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার বর্গফুট। এর মধ্যে একটি ভবনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হলেও অন্যটিতে আবাসিক হোটেল করার প্রস্তাব করেছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকের টাকায় আবাসিক হোটেল নির্মাণের প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছিল।

ন্যাশনাল ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিচালনা পর্ষদের যোগসাজশে শুরুতেই ভবন নির্মাণের অস্বাভাবিক ব্যয় ধরা হয়েছিল। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভবনের মৌলিক কাঠামোই দাঁড়ায়নি। যদিও এরই মধ্যে ব্যয় হয়ে গিয়েছে ৫২৩ কোটি টাকা। অথচ এ বিনিয়োগের কোনো রিটার্ন নেই, বরং ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে পরিচালকদের মালিকানাধীন ভবনে উচ্চমূল্যে ভাড়া পরিশোধ করে। প্রতি মাসে শুধু প্রধান কার্যালয়ের ভাড়া বাবদ ব্যাংকটির ব্যয় হচ্ছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন বলেন, ‘প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এক যুগেরও আগে। আর আমি এ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে যোগ দিয়েছি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। অতীতে ভবন নির্মাণের ত্রুটিবিচ্যুতি হয়ে থাকলে সেটি আমার জানার কথা নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণ ব্যয় বর্ধিত করে ৫২৮ কোটি টাকা অনুমোদনের জন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে আবেদনে সাড়া দেয়নি। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ভবন নির্মাণে ৫২৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যয় অনুমোদন করলে আমরা নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করব।’

ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০০৯ সালে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে ভবিষ্যৎ ব্যয়ের বাজেট নির্ধারণ করা হবে।’

ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মদ গত ২০ মার্চ ন্যাশনাল ব্যাংক এমডির কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে এনবিএল টাওয়ারে বিনিয়োগ এবং নির্মাণসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র (প্রাক্কলন, টেন্ডার, ঠিকাদার নির্বাচন, কার্যাদেশ, কাজ সম্পাদন হওয়াসংক্রান্ত প্রত্যয়ন, বিল প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র) দুদকে জমা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকটির চট্টগ্রামের এনবিএল টাওয়ার নির্মাণের রেকর্ডপত্রও তলব করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০ হাজার ৬৭০ কোটি টাকাই ছিল খেলাপি ঋণ। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে আদায় অযোগ্য হওয়ায় আরো ১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করেছে ব্যাংকটি। ২০২২ সালে ৩ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা পরিচালন লোকসান দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। একই বছর নিট লোকসানের পরিমাণও ছিল ৩ হাজার ২৬১ কোটি টাকা।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।