কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকা‌রের রেকর্ড ঋণ – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকামঙ্গলবার , ১৬ মে ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকা‌রের রেকর্ড ঋণ

সম্পাদক
মে ১৬, ২০২৩ ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

অ‌মিতাভ কাঞ্চন ::

বাজেট বাস্তবায়নে সরকার প্রতি বছরই ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়। সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকেই বেশি ঋণ নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও কিছু ঋণ সহায়তা দেয়। অর্থবছর শেষে রাজস্ব আয় থেকে ওই ঋণ পরিশোধও করে সরকার। তবে এবার তারল্য সংকটের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে সরকার।

বাজেট ঘাটতি বাস্তবায়নে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৮২ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে ৭৪ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যে ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে ডিভলভমেন্টের (নতুন টাকার জোগান) মাধ্যমে গেছে ৬৬ হাজার ১৩ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত বেশি ঋণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। এতে টাকার সরবরাহ বেড়ে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াসহ স্থানীয় মুদ্রার মান আরও অবমূল্যায়ন হতে পারে।

অর্থনৈতিক সংকট, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না পাওয়া ও সঞ্চয়পত্রের আগের ঋণ পরিশোধে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংকের ওপর ভর করতে হয়েছে সরকারকে। এতে অর্থবছরের প্রথম দিক থেকেই ব্যাংকের পুরনো ঋণ পরিশোধ না করে নতুন করে ঋণ নিতে হয়েছে। আবার এসব ঋণের বেশিরভাগই জোগান এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন টাকার জোগান ফান্ড থেকে। নতুন টাকা জোগান থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার ২০৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর সার্বিকভাবে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা।

প্রতি সপ্তাহের রবিবার সরকার ট্রেজারি বিল ও মঙ্গলবার ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের জন্য নিলামের ব্যবস্থা করে। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যদি নিলামে বন্ড বা বিল কিনতে ব্যর্থ হয় তাহলে তা ডিভলভমেন্ট করা হয়। এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন টাকার রিজার্ভ থেকে সরকারকে ঋণ দেওয়া হয়। এটিকেই নতুন টাকা ছাপিয়ে ঋণ হিসেবে গণ্য করে অনেকেই। গেল বছর কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মানুষের ব্যাংকব্যবস্থায় আস্থা কমে যায়। পাশাপাশি ব্যাংকে টাকা রাখলে ফেরত পাওয়া যাবে না এমন গুজবও দেশে মূল্যস্ফীতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ ব্যাংকই তারল্য সংকটে পড়ে। অনেক ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে আমানতের বিপরীতে বেশি ঋণ দিয়েছে। আবার আমদানি দায় মেটাতে ব্যাংকগুলো টাকা দিয়ে ডলার কেনায় তারল্যে প্রভাব ফেলেছে। এসব কারণেই সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ড কিনতে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিভলভমেন্ট ফান্ড থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ২৫ হাজার কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ছিল ৫৩ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিল শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২০৭ কোটি টাকা। ১০ মাসে ডিভলভমেন্টের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল শেষে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এর আগে ডিভলভমেন্ট করে সরকারকে এত বেশি ঋণ কখনো দেওয়া হয়নি। ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকটের কারণে চলতি অর্থবছর ডিভলভমেন্টের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া বেড়েছে। ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক সুদের হার না থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি ঋণের প্রবাহ বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ট্রেজারি বিল ও বন্ড কিনতে নিরুৎসাহিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে ক্ষেত্রে ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই কিনে নেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ঋণ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় না থাকায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সাধারণত ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বেশি আগ্রহ থাকে। তবে সে ক্ষেত্রে বেসরকারি ঋণপ্রবাহ কমে ঋণব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে সুদের হার প্রায় ৯ শতাংশ বা তার বেশি এবং এতে কোনো ঝুঁকিও থাকে না। অন্যদিকে, ঋণ বিতরণ ও উত্তোলনে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকি নিতে হয়। তাই ব্যাংকগুলোকে যদি অধিক পরিমাণে বিল ও বন্ড কেনার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে তারা শূন্যঝুঁকির বিল, বন্ডই কিনবে। অন্যদিকে ঋণ বিতরণ কমিয়ে দেবে। এতে দেশের শিল্প খাত ক্ষতির মুখে পড়বে।

অবশ্য ডিভলভমেন্টের মাধ্যমে সরকারকে বেশি ঋণ দিলেও তা মূল্যস্ফীতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছর ১২-১৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মাধ্যমে বাজার থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং সরকারকে দেওয়া ঋণে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়।

তবে ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, গত এক বছরে ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা তুলে নিলেও তারল্য সংকটের কারণে সেই অর্থই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ হিসেবে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈ‌নিক মুক্ত বাংলা ও সাপ্তা‌হিক চলমান দেশকে বলেন, এভাবে ডিভলভমেন্টের কারণে মুদ্রাবাজারের কোনো উন্নতি হবে না। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে যদি ট্রেজারি বিল বা বন্ডের মাধ্যমে ঋণ নেওয়া হতো তাহলে তারা তাদের তারল্য ব্যবস্থা থেকে অর্থ দিত। কারণ তাদের টাকা ছাপানোর এখতিয়ার নেই। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তো টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে। এতে মার্কেটে মানি ক্রিয়েশন হচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।

ডলার কেনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মার্কেট থেকে টাকা তুলে নিয়ে মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না জানতে  এ বিষ‌য়ে সাংবা‌দিক আ‌রিফ হো‌সেন বলেন,  সরকার সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও খারাপ হবে। কারণ মার্কেটে ডলার ছাড়ার মাধ্যমে দেশের রিজার্ভের ডলার বাইরে চলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হবে। এতে টাকার আরও অবমূল্যায়ন হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলবে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি বাজারে ডলার না ছেড়ে সুদহার বাড়িয়ে দিত, তাহলে সময় একটু বেশি লাগলেও তারল্য সংকট কেটে যেত। পাশাপাশি ডলারের দামও কমে আসত। বাজারে কিছুদিন ডলার সংকট থাকলে অর্থ পাচারও কিছুটা কমে আসত।

একই অভিমত বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছর ডলার বিক্রির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনেক টাকা চলে এসেছে। এজন্য ব্যাংকগুলো প্রতিনিয়তই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধারের প্রবণতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে সরকার ট্রেজারি বন্ড ও বিলের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিভলভমেন্টের মাধ্যমে সরকারকে ঋণ দিচ্ছে। এতে মানি ক্রিয়েশন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকার ব্যাংক থেকে যেসব ঋণ নেয় তার অধিকাংশই বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে যায়। ব্যয়-সংকোচননীতির কারণে অর্থবছরের শুরুর দিকে সরকারের অর্থ চাহিদা কম ছিল। এখন কিছু প্রকল্প চালু হয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এ দুই খাতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হয়েছে সরকারকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৮২ হাজার ৫৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, এর মধ্যে গত এপ্রিলেই ঋণ নেওয়া হয়েছে ২৯ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা। এর বাইরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হয়েছে আরও ৮ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের ১০ মাসে সরকারের নতুন ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ ২ লাখ ২১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণের স্থিতি ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেট-ঘাটতি পূরণে ১ লাখ ১১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। আগের অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার ৩৬ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য সরকারের। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকেও ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। যদিও এখন এই খাত থেকে কোনো ঋণ নিতে পারেনি। উল্টো ৪ হাজার ১৬১ কোটি টাকার পুরনো ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।