ফিট‌নেস বিহীন লক্কর-ঝক্কড় মার্কা গাড়ি ধ্বংসে হচ্ছে নীতিমালা – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৮ মে ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

ফিট‌নেস বিহীন লক্কর-ঝক্কড় মার্কা গাড়ি ধ্বংসে হচ্ছে নীতিমালা

সম্পাদক
মে ১৮, ২০২৩ ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আহমদ বিন আলম ::

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রায়ই ফিট‌নেস বিহীন লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা গাড়ি চলতে দেখা যায়। এসব গাড়ি যেমন সড়কে বিশৃঙ্খলার কারণ হয়, তেমনি পড়ে দুর্ঘটনায়। মোটরযানের জীবনচক্রের সমাপ্তি ঘটানো বা ডিসপোজাল পদ্ধতি না থাকায় চলাচলের অনুপযোগী এবং ইকোনমিক লাইফ (অর্থনৈতিক মেয়াদকাল) শেষ হওয়া এ ধরনের মোটরযান দাপিয়ে চলছে সড়ক-মহাসড়কে। এতে সড়ক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশে। এজন্য মোটরযান স্ক্র্যাপ নীতিমালা করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এই নীতিমালার আওতায় মেয়াদ শেষ হওয়া মোটরযান ধ্বংস করা হবে, যাতে সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাড়বে। কমবে পরিবেশ দূষণও।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত বুধবার তাদের ওয়েবসাইটে ‘মোটরযান স্ক্র্যাপ নীতিমালা-২০২৩’ নামে খসড়া নীতিমালাটি প্রকাশ করেছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩৬ ধারায় মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা থাকায় একটি স্ক্র্যাপ নীতিমালা করার কথা বলা হয়েছে। তারই আলোকে হয়েছে এই নীতিমালা। মোটরযান স্ক্র্যাপ বলতে বোঝানো হচ্ছে, মোটরযান থেকে পুনরায় ব্যবহার করার মতো যন্ত্রাংশ আলাদা করার পর বিনষ্ট বা ধ্বংস করা।

মোটরযানের জীবনচক্রের সমাপ্তি ঘটাতে করা খসড়া এ নীতিমালার উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, চলাচল অনুপযোগী, অচলঘোষিত, ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত হওয়া মোটরযান রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে ধ্বংস করতে হবে। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন খাতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাড়ানো, মোটরযানজনিত পরিবেশ দূষণ কমানো, স্ক্র্যাপকৃত মোটরযানের উপাদানসমূহ পুনরায় ব্যবহারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং অটোমোবাইল শিল্পের ব্যাপ্তি বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

কোনগুলো স্ক্র্যাপযোগ্য মোটরযান হবে সে বিষয়ে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত ইকোনমিক লাইফ শেষ হওয়া মোটরযান; সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অকেজো ঘোষিত মোটরযান; আগুন, বিস্ফোরক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোটরযান যা মেরামত করে চললেও আর্থিকভাবে লাভজনক নয়; স্বেচ্ছায় স্ক্র্যাপের উদ্দেশ্যে হস্তান্তরকৃত মোটরযান; অননুমোদিতভাবে তৈরি করা মোটরযান এবং সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধঘোষিত যেকোনো মোটরযান এর আওতায় পড়বে।

কীভাবে মোটরযান স্ক্র্যাপ করা হবে সে বিষয়ে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, স্ক্র্যাপ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বেসরকারি পর্যায়ে করতে হবে। স্ক্র্যাপযোগ্য মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠান বা আবেদনকারী মূল কাগজপত্রাদিসহ সংশ্লিষ্ট মোটরযান রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করবে। কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট মোটরযান স্ক্র্যাপ ভেন্ডরের নিকট হস্তান্তর করবে। পরিত্যক্ত মোটরযানের ক্ষেত্রে আদালত/বাংলাদেশ পুলিশ/কাস্টমস বা অন্য যেকোনো সংস্থা/প্রতিষ্ঠান যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্ক্র্যাপ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। স্ক্র্যাপ ভেন্ডর মোটরযানের চেসিস ও বডি এমনভাবে নষ্ট করবে যাতে সেটি অন্য কোনো মোটরযানে ব্যবহারের উপযোগী না থাকে। স্ক্র্যাপকৃত মোটরযানের কাগজপত্র ও রেকর্ডসমূহ ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ করবে। স্ক্র্যাপ করার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাতিল করে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করবে। মোটরযান বিনষ্টকরণের পর সংশ্লিষ্ট মোটরযান রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেট ইস্যু করবে। নতুন মোটরযান রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেটের বিপরীতে মোটরযানের মালিক বা তার বৈধ উত্তরাধিকারীকে সরকার সময় সময় বিশেষ সুবিধাদি প্রদান করতে পারবে। কর্তৃপক্ষ এই নীতিমালার আওতায় ভেন্ডর কর্তৃক নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত উপায়ে স্ক্র্যাপকৃত মোটরযানের যন্ত্রাংশ/মালামাল নিষ্পত্তির জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রস্তুত করবে।

স্ক্র্যাপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একটি কমিটির মাধ্যমে স্ক্র্যাপ মূল্য নির্ধারণসহ মোটরযানের কোন কোন অংশ রিসাইকেলযোগ্য হিসাবে বাজারজাত করা যাবে তা নির্ধারণ করা হবে। এজন্য বিআরটিএর পরিচালককে (ইঞ্জিনিয়ারিং) সভাপতি করে সাত সদস্যের একটি কমিটি করতে বলা হয়েছে নীতিমালায়।

স্ক্র্যাপ ভেন্ডর ঠিক করার বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতি জেলায় নির্ধারিত সময়ের জন্য এক বা একাধিক স্ক্র্যাপ ভেন্ডর নিয়োগ করবে। স্ক্র্যাপ ভেন্ডরের প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক উপকরণ থাকতে হবে। যেমন- গ্যাস কাটার, ক্রেন, শ্রেডার মেশিন, রেকার ও হাইড্রলিক প্রেস মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় জনবল, আর্থিক সঙ্গতি, ন্যূনতম ৫০টি মোটরযান সংরক্ষণের উপযুক্ত স্পেস (জায়গা) থাকতে হবে।

খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ইকোনমিক লাইফ শেষ হওয়া মোটরযান স্ক্র্যাপ করা ছাড়া একই ব্যক্তি নতুন বা পুরাতন কোনো মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন নিতে পারবেন না। কোনো মোটরযান মালিক যদি এই নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটান তবে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে স্ক্র্যাপ প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের একটি আলাদা উইং থাকবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।