কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের দাম বাড়‌ছেই – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাসোমবার , ২২ মে ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের দাম বাড়‌ছেই

সম্পাদক
মে ২২, ২০২৩ ১২:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যই বলছে, বাজারে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে তা ১০০ টাকা ছুঁইছুঁই করছে। ১৫-২০ দিন আগে রান্নার অন্যতম প্রধান এই উপকরণটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় পাওয়া যেত। মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে এই পণ্যটির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে; সরকারও পড়েছে বেশ বিপাকে।

এমনিতেই বাজারে সব জিনিসের দামে আগুন। এক কেজি কাঁচা পেঁপে কিনতে হাতে গুনে ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ৮০ টাকার কমে কোনো সবজি মিলছে না। ডিমের ডজন ফের ১৫০ টাকা ছুঁয়েছে। এর মধ্যে দেশে নতুন পেঁয়াজ ওঠার মৌসুম শেষ হতে না হতেই দাম লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না সরকার। তাই তো এই পণ্যটির দাম লাগামের মধ্যে রাখতে কয়েক দিন ধরেই বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির হুমকি দিয়ে আসছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বারবার বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। যদি ব্যবসায়ীরা দাম না কমায়, তাহলে আমদানি করা হবে।’

শেষ পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর এ বিষয়ে গত রোববার কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পেঁয়াজ আমদানি ছাড়া উপায় নেই। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্যই মূলত ইম্পোর্ট পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন যেহেতু ভোক্তাদের বাজারে পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তাই আমদানি ছাড়া উপায় নেই।’

তবে কৃষি মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি। ‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে’ দ্রুত জানাবে বলেছে। কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘আরও দুই-তিন দিন বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

রোববার ঢাকার বাড্ডা আলাতুন্নেছা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও মেধা পুরস্কার এবং গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পেঁয়াজ নিয়ে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন পর্যাপ্ত হয়েছে। কিন্তু বেশি মুনাফা লাভের আশায় অনেকে পেঁয়াজ মজুত রেখে সংকট তৈরি করে বাজারকে অস্থিতিশীল করছে। ভোক্তাপর্যায়ে পেঁয়াজের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজার বিবেচনায় আমরা পেঁয়াজ আমদানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। ইম্পোর্ট পারমিট বা আইপি যেহেতু কৃষি মন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে, তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

রোজার ঈদের আগে থেকে পেঁয়াজের হঠাৎ বাড়তি দর ঈদ শেষে ছুটতে শুরু করে ‘রকেট গতিতে’। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসের মধ্যে পেঁয়াজের দর ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছে যায়। দাম ৬০ টাকা হয়ে যাওয়ার পর গত ১০ মে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ আমদানির কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেদিন সাংবাদিকদের তিনি দাম না কমলে আমদানির অনুমতি দেয়ার কথা বলেন। ৯ দিন পর গত শুক্রবার আবার তিনি একই কথা বলেন। কিন্তু সেদিন ঢাকার বড় বাজারে পেঁয়াজের দর ওঠে ৮০ টাকা, গলির বাজারে তা ৯০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

সরকারি হিসাবে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৬ থেকে ২৮ লাখ টন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি এবার উৎপাদন ৩৪ লাখ টনের কাছাকাছি, যা বার্ষিক চাহিদার চেয়ে বেশি। অবশ্য পেঁয়াজ পচনশীল এবং সংরক্ষণকালে ৩৫ শতাংশের মতো নষ্ট হয়, ওজনও কমে। আবার কয়েক লাখ টন পেঁয়াজ রাখতে হয় বীজের জন্য। তাই কয়েক লাখ টন আমদানি কHরতেই হবে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে এবার কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ২৮ টাকার মতো। ভারতে উৎপাদন খরচ হয় আরও কম। এ কারণে দাম ধরে রাখতে চেয়েছিল সরকার। কিন্তু আমদানি বন্ধের খবরে পেঁয়াজ উঠতে না উঠতে এমন দর বৃদ্ধি এর আগে দেখা যায়নি। কৃষক, ব্যবসায়ী, কৃষি কর্মকর্তা, সবাই এর পেছনে মজুতদারিকে দায়ী করেছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘কৃষকরা যাতে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্যই মূলত ইম্পোর্ট পারমিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন যেহেতু ভোক্তাদের বাজারে পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তাই আমদানি করা ছাড়া উপায় নেই। আমদানি করলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশার কথা শোনান মন্ত্রী।

তবে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, তারা আরও কয়েকটা দিন দেখতে চান। গত রোববার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে কথা বলেছি। দুই-তিন দিনের মধ্যেই আপনারা সিদ্ধান্ত পাবেন যে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে কি না।’

আর দেখার কী আছে, সেই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছি। গত শনিবার পেঁয়াজের দাম মণে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে কমেছে। যেহেতু কমার লক্ষণ দেখা দিয়েছে আমরা দু-এক দিন দেখব। জানি, মধ্যম আয়ের ও সীমিত আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তার পরও আমরা শেষ পর্যন্ত চাষিদের স্বার্থটা দেখতে চাচ্ছি।’

১৫ থেকে ২০ দিন ধরে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা চলছে এটা স্বীকার করে নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে দাম বেড়ে যায়, আবার কিছুটা কমে যায়। দু-এক দিনের ব্যবধানে বাজার ওঠানামা করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চার-পাঁচ দিন ধরে বাজার বোঝার চেষ্টা করছি। বাজারে কী হচ্ছে; তা দেখছি।’

৮০ টাকা কেজি পেঁয়াজ কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটাও মানেন আব্দুর রাজ্জাক। ভারতে দাম অনেক কম জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারকে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে পারি। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের খবর নেয়ার চেষ্টা করে সরকার জানতে পেরেছে অধিকাংশ কৃষকের কাছে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে। দাম আরও বাড়বে- এই আশায় তারা ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন বাণিজ্যিক পোর্টালে দেখা যাচ্ছে, ভারতে মান ও জাতভেদে কেজিপ্রতি দাম ৫ থেকে ১২ রুপি। বাংলাদেশি টাকায় তা ৭ থেকে ১৫ টাকা। ভারত থেকে পেঁয়াজ আনলে দেশের ভোক্তাদের হাতে ৪৫ টাকা কেজিতে পৌঁছে দেয়া যাবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

২০১৯ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতের পর পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় উঠে যায়। এরপর সপ্তাহ না হতেই দাম বেড়ে আড়াই শ টাকায় উঠে যায় পেঁয়াজের কেজি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ওটাই ছিল পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দর। নতুন পেঁয়াজ ওঠায় পর অবশ্য তা কমে আসে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।