এটাই হলো আওয়ামী লীগের ক্যারেক্টার : মির্জা ফখরুল – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবুধবার , ৭ জুন ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ

এটাই হলো আওয়ামী লীগের ক্যারেক্টার : মির্জা ফখরুল

সম্পাদক
জুন ৭, ২০২৩ ৮:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা এবং সরকারের মন্ত্রীরা বিএনপির সঙ্গে সংলাপের ব্যাপারে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আপাতত আমলে নিচ্ছে না দলটি। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাষ্য—‘আওয়ামী লীগের আসল অবস্থা বুঝতেই পাচ্ছেন। এটাই হলো তাদের ক্যারেক্টার।’

বুধবার দুপু‌রে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ওপর দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি এ বিষয়টা (আমির হোসেন আমুর বক্তব্য) গুরুত্ব দিতে চাই না। এ নিয়ে আমি কথাও বলতে চাই না। উনি আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল স্পোকসম্যান কিনা এটা আমি জানি না। আমরা ওনার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেব কেন?’

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ‘অর্থনৈতিক সংকট’ উত্তরণের কোনো দিকনির্দেশনা নেই বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এটা স্রেফ দুর্নীতিবাজ বর্তমান সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুটের লক্ষ্যে প্রণীত অর্থ লুটেরাদের বাজেট।’

এ সময় তিনি বাজেট প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব প্রাপ্তি, আয়বৈষম্য, করারোপে বৈষম্য, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের বোঝা, বাজেট বাস্তবায়নের অসম্ভাব্যতা, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতে বরাদ্দের সঙ্গে বাস্তবতার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার শিক্ষার কথা বলে অথচ দাম বাড়ায় কলমের, ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে দাম বাড়ায় ল্যাপটপ-মোবাইল ফোনের, গরিবের কথা বলে অথচ পরোক্ষ কর আরোপ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর। এটি স্পষ্টতই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। এ বাজেটে সাধারণ ও দরিদ্র জনগণের জন্য কোনো সুখবর নেই, নেই চরম অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের কোনো দিকনির্দেশনা। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগসহ সামষ্টিক অর্থনীতির যেসব প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, তা অর্জনযোগ্য নয় বলে আমরা মনে করি। এটি বাস্তবতা বিবর্জিত, প্রতারণামূলক, লোক দেখানো বাজেট, জনকল্যাণের নয়।’

তিনি বলেন, ‘দেশের চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রয়োজন ছিল দলমত ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে সাহসী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন। কিন্তু মোটা দাগে এ বাজেট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়ন এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের ১৪-১৫ শতাংশ বর্ধিত অবস্থা ছাড়া কিছুই না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ। এ চাপ মোকাবেলায় প্রস্তাবিত বাজেটে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, খাদ্যসহ তেল, চাল, আদা, চিনি, ডিম, মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য অনেক আগেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অর্থমন্ত্রী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো পথরেখা না দিয়েই কীভাবে মূল্যস্ফীতির টার্গেট ৬ শতাংশ ঘোষণা করেছেন তা বোধগম্য নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেটে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ক্ষমতার বলয়ের বাইরে সাধারণ মানুষের অনুকূলে এ বাজেট কোনো ভূমিকা রাখবে না। এটা গণবিরোধী বাজেট। স্মার্ট বাংলাদেশে এবার তারা স্মার্ট লুটপাটের বাজেট দিয়েছে। ভোট চুরি, ব্যাংক চুরি, অর্থ পাচার—এ সবকিছুতেই স্মার্টলি লাখ লাখ কোটি টাকা দুর্নীতি করার, ব্যাংক লুটপাট, সিন্ডিকেট পরিচালনা, জনগণের সম্পদ লুটের পাকা বন্দোবস্ত করা হয়েছে এ বাজেটে।’

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়েনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাজেট ও জিডিপির অনুপাতে এ খাতে বরাদ্দ কমেছে। বরাদ্দ বেশি দেখানোর কৌশল হিসেবে এ খাতে এমন কিছু কর্মসূচি দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবে সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষা কর্মসূচি নয়। এছাড়া কৃষি খাতে ভর্তুকি, সঞ্চয়পত্রের সুদ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের দেয়া প্রণোদনার টাকাকেও সামাজিক নিরাপত্তা বরাদ্দ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বয়স্ক নারী-পুরুষ, বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীতা ও প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকায় প্রতিবন্ধীরা বিক্ষোভ করেছে, সেখানে তারা পুলিশের পিটুনি খেয়েছে।’

লোডশেডিং প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন—টাকা গেল কই? সাধারণ মানুষ তো তাদের বিদ্যুতের বিল দিয়েই যাচ্ছে। এখানে কারোর বাকি নেই এবং উচ্চমূল্যে দিচ্ছে, প্রতিনিয়ত দিচ্ছে। তাহলে কেন কয়লার জন্য এলসি খুলতে পারছে না, কেন গ্যাসের এলসি খুলতে পারছে না, কেন তেলের জন্য এলসি খুলতে পারছে না। আমাদেরও প্রশ্ন এ টাকা কোথায় গেল? টাকাও নেই, ডলারও নেই। এ টাকা কোথায় গেছে আমরা সবাই জানি। বিদেশে সম্পদ কেনা হচ্ছে, সুইস ব্যাংকে টাকা রাখা হচ্ছে, তারপর অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা হচ্ছে। কারা এ টাকার মালিক এটাও দেশের মানুষ কম-বেশি জানে।’

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।