বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে সমর্থন করছে চীন – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৫ জুন ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে সমর্থন করছে চীন

সম্পাদক
জুন ১৫, ২০২৩ ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন, ‘‌চীন ও বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা, স্বাধীন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ উন্নয়নের পথ অনুসরণকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।’

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সেখানে চীনের ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের পক্ষ থেকে ওয়াং ওয়েনবিনকে প্রশ্ন করা হয়, ‘‌‌আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে র‌্যাবের ওপর দেয়া মার্কিন বিধিনিষেধকে বিভ্রান্তিকর মনে করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিধিনিষেধকে ভয় পায় না। বাংলাদেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপকারী দেশগুলো থেকে কোনো কিছু কেনা বন্ধ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চীনের মন্তব্য কী?’

জবাবে ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য আমরা লক্ষ্য করেছি। প্রকৃতপক্ষে, একটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে নিজের অভ্যন্তরের জাতিগত বৈষম্য, বন্দুক সহিংসা ও মাদকের বিস্তারের সমস্যার প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অজুহাতে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে শুধু বাংলাদেশের জনগণের শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরেননি, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও, বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বের বড় অংশের মনের কথাও বলে দিয়েছেন।’

ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ‘‌চীন ও বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা, স্বাধীন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ উন্নয়নের পথ অনুসরণকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌সব ধরনের আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার প্রয়োগভিত্তিক রাজনীতিকে মোকাবেলা করা, জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক আইনে বেঁধে দেয়া নিয়মকানুনের পরিপালন, জাতিসংঘ সনদের নীতি ও উদ্দেশ্যনির্ভর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতের মানবজাতির জন্য সাধারণ একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত।’

ওয়াং ওয়েনবিনের এ বক্তব্য সম্পর্কে ভূরাজনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা এখন বাড়ছে। এক্ষেত্রে উভয় দেশই এখন বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে দেখছে ভূরাজনৈতিক দ্বৈরথের বড় ক্ষেত্র হিসেবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোয় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়টি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।

তাদের ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি। এর আগে র‍্যাবের কয়েক কর্মকর্তার ওপর দেশটির আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়েও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বাংলাদেশ।

এর বিপরীতে প্রধানতম বাণিজ্য অংশীদার চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা গত কয়েক বছরে বেড়েছে। বেইজিংয়ের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অন্যতম বড় অংশীদার এখন বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বৃহদায়তন অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বড় একটি অংশ বাস্তবায়ন হচ্ছে এখানে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম খাতেও এ মুহূর্তে শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ চীন। দেশটির স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ের বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক পরিকল্পনাগুলোও এখন দিনে দিনে আরো বাংলাদেশভিত্তিক হয়ে উঠছে।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার গন্তব্যগুলোয় পরিবর্তন আনছে চীন। এরই মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে চীনের বিনিয়োগ এখন কমতির দিকে।

অন্যদিকে চীনা বিনিয়োগের নতুন অগ্রাধিকারের জায়গা হয়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়া। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে নিয়ে বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে দেশটিকে। বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশে সফট পাওয়ার (অর্থনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা) বিস্তারে বিশেষ মনোযোগী হয়ে উঠেছে দেশটি। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বক্তব্যটিকেও বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।