সবচেয়ে অভিজাত এলাকা ঢাকা-১৭ আসন ভোটের ফলাফল কি হবে – দৈনিক মুক্ত বাংলা
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৫ জুন ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি-ব্যবসা
  3. আইন ও আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরও
  6. ইসলাম ও ধর্ম
  7. কোভিট-১৯
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলা
  10. জেলার খবর
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. মি‌ডিয়া
  14. মু‌ক্তিযুদ্ধ
  15. যোগা‌যোগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সবচেয়ে অভিজাত এলাকা ঢাকা-১৭ আসন ভোটের ফলাফল কি হবে

সম্পাদক
জুন ১৫, ২০২৩ ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

গুলশান, বনানী, সেনানিবাস ও ভাসানটেকের কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসন। দেশের সবচেয়ে অভিজাত এলাকাগুলোর বড় একটা অংশই সংসদীয় এ আসনে পড়েছে। অধিকাংশ বিদেশী কূটনৈতিক মিশনগুলোরও অবস্থান এ এলাকায়। একই সঙ্গে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সর্ববৃহৎ আবাসস্থল কড়াইল বস্তিসহ বেশ কয়েকটি বড় পল্লীও রয়েছে। আসন্ন উপনির্বাচনে এ বস্তিবাসীই ভোটের ফলাফলে বেশি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, গুলশান-বনানীর যেকোনো নির্বাচনেই এ অঞ্চলের বস্তিগুলোয় বসবাস করা ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এদের একটা বড় অংশই সরাসরি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। ফলে এ জনগোষ্ঠীর ভোট আদায় করাটা যেকোনো প্রার্থীর জন্য দুরূহ হয়ে পড়ে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকাটি পড়েছে সংসদীয় এ আসনে। ডিএনসিসির বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির খান জানান, প্রতিটা ওয়ার্ডেই বেশ কয়েকটি বস্তি রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাসানটেক বস্তি, ধামালকোট বস্তি, মাটিকাটা বস্তি, বারনটেক বস্তি, বাইজারটেক বস্তি ও সাগরিকা বস্তি; ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কালাচাঁদপুর বস্তি, শাহাজাদপুর ঝিলপাড় বস্তি, নর্দ্দা সরকারবাড়ী দুলাল বস্তি; ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে কড়াইল বস্তি, রেললাইন বস্তি, গোডাউন বস্তি, টিঅ্যান্ডটি বস্তি এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদনগর বস্তি, সাততলা বস্তি ও ভাঙা দেয়াল বস্তি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ঢাকা-১৭ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। এর মধ্যে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৯১ হাজার ১৭৫ ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ভোটার রয়েছেন ৬০ হাজার ৮২৫ জন। এছাড়া ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯ হাজার ৫৬২ জন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৯ হাজার ৩২ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৪ হাজার ৪২৪ ভোটার। এসব ভোটারের বড় একটা অংশই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

ডিএনসিসির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সালেক মোল্লাহর মৃত্যুর পর তার দায়িত্ব পালন করছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. কামাল মোস্তফা। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘যেসব স্থানে বস্তি রয়েছে সেখানে ভোটের হিসাব-নিকাশ খুবই জটিল। ওই এলাকার ভোটারদের অনেক বুঝিয়ে ভোট আদায় করতে হয়। স্থানীয় নির্বাচনের সময় সেটি অনুধাবন করেছি। আসন্ন ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনেও এ জনগোষ্ঠীর যে প্রভাব থাকবে সেটি প্রার্থীরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।’

১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কালাচাঁদপুর, ঝিলপাড়সহ বেশকিছু বস্তি রয়েছে। এসব জায়গায় ১০ হাজারের কাছাকাছি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোট রয়েছে। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। গত নির্বাচনে এসব ভোটার আমার পাশে ছিলেন বলেই আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পেরেছি।’

দেশের সবচেয়ে বড় বস্তি কড়াইল। ডিএনসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত এ এলাকায় স্বল্প আয়ের প্রায় তিন লাখ শ্রমজীবীর বসবাস। আর ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজারের মতো। নির্বাচনে প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠীর প্রভাব প্রসঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সব শ্রেণী-পেশার মানুষের বসবাস। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছি, অনেক ভোটার এলাকায় থাকার পরও ভোট দিতে আসেন না। আবার অনেক ভোটার রয়েছেন যারা অন্য এলাকায় বসবাস করেন। কড়াইল বস্তিতে ২৫ হাজারের মতো ভোট রয়েছে। এছাড়া রেললাইন বা গোডাউন বস্তি মিলিয়ে আরো পাঁচ-সাত হাজার ভোটার আছে। ভোটের মাঠে এসব ভোটার বড় একটা প্রভাব রাখেন। তবে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ভোট পেয়েই জনপ্রতিনিধি হতে হয়।’

এদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে বেশ জনপ্রিয় ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো

আলম। তিনি এ আসনে ভোটে লড়লে অন্য প্রার্থীদের জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবেন বলে মনে করছেন ভোট বিশ্লেষকরা। তাছাড়া এর আগেও বহু নির্বাচনে লড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আলোচিত এ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের। কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের উপনির্বাচনেও লড়েছিলেন তিনি। অল্প ভোটের ব্যবধানে মহাজোটের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। হিরো আলম প্রার্থী হয়েছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনেও। তবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেননি।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হিরো আলমকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করায় তার ব্যাপারে মানুষের একটা সহানুভূতি তৈরি হয়েছে। এখন তিনি যদি ওই আসনে থাকা বস্তিবাসীর সঙ্গে ঠিকভাবে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন, তাহলে বলা যায় না…। এছাড়া মোহাম্মদ এ আরাফাত হচ্ছেন আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রার্থী। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে পরাজিত করার জন্য হলেও হয়তোবা হিরো আলমকে ভোট দিতে পারেন। তাই বলা যায় না…। হিরো আলম যদি যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন তাহলে কিছু একটা হয়েও যেতে পারে। তবে হিরো আলমকে ওই এলাকায় নির্বাচন করতে হলে তিন হাজার ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। প্রার্থিতা বাতিলের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করা হয়।’

গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট, বাড্ডা ও উত্তরা নিয়ে একসময় ছিল ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন। ১৯৭৯ সালে ওই আসন থেকে নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী ডা. আ. রউফ। ১৯৮৬ সালের ভোটে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ কে এম রহমতউল্লাহ জয়লাভ করেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জয়ী হন বিএনপির কামরুল ইসলাম। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে আবারো জয় পান জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া এ কে এম রহমতউল্লাহ। ২০০১ সালে আবার রহমতউল্লাহকে হারিয়ে নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী কামরুল ইসলাম। ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর ঢাকা-১৭ আসনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জয় পান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) আবুল কালাম আজাদ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।